শুক্রবার ০৫ জুন ২০২০
Online Edition

জেনেভা ক্যাম্পে পুলিশি হয়রানি বন্ধ করা ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি 

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জেনেভা ক্যাম্পে পুলিশি হয়রানির অভিযোগ এনেছেন সেখানে বসবাসরতরা। তাদের অভিযোগ, গত ৫ অক্টোবরের পর থেকে এখন ক্যাম্প পুরুষশূন্য। সেখানে চাকরিজীবীরা চাকরিতে যেতে পারছেন না, ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে পারছনে না, শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছেন না। এ অবস্থা নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান তারা। জেনেভা ক্যাম্পে বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে স্ট্রান্ডেড পাকিস্তানীজ জেনারেল রিপ্যাট্রিয়েশন কমিটি নামে জেনেভা ক্যাম্পগুলোতে বসবাসকারী অবাঙালি বিহারীদের একটি সংগঠন। 

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিহারী উর্দু ভাষাভাষিদের সংগঠন স্ট্রান্ডেড পাকিস্তানীজ জেনারেল রিপ্যাট্রিয়েশন কমিটি-এসপিজিআরসি আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এইসব অভিযোগ করেন তারা। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্ট্রান্ডেড পাকিস্তানীজ জেনারেল রিপ্যাট্রিয়েশন কমিটি- এসপিজিআরসির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এম শওকত আলী, কেন্দ্রীয় নেতা মাজিদ ইকবাল, হুমায়ুন কবির, হারুন অর রশিদ, মো: জিলানী, সোহেল আকতার খান, আক্তারুজ্জামান প্রমুখ।

সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, আসন্ন পিইসি, জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বোর্ড পরীক্ষার সময় এগিয়ে আসছে। এ সময়ে ক্যাম্পে প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। এতে পরীক্ষার্থীদের পড়া-লেখায় বিঘ্নসহ ক্যাম্পে বসবাসরত বৃদ্ধ ও শিশুদের স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়ে।

এসপিজিআরসির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এম শওকত আলী বলেন, মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের উর্দু ভাষাভাষীদের ওপর নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করা হচ্ছে। বর্তমানে আমরা বাংলাদেশে বসবাসরত উর্দু ভাষাভাষীরা জন্মগতভাবেই বাংলাদেশের নাগরিক এবং আমরা সবাই বাংলাভাষায় কথা বলতে, লিখতে ও পড়তে পারি। মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে পুলিশি জুলুম ও মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি ও গ্রেফতার করা হচ্ছে, তা জাতিসংঘের সার্বজনীন মানবাধিকাররর পরিপন্থী। 

তিনি বলেন, জেনেভা ক্যাম্পের অধিবাসীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এইসব মামলা প্রত্যাহারের দাবি করছি। বর্তমানে আমরা ক্যাম্পের সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ কারণে সরকারের কাছে জানমালের নিরাপত্তা চাইছি এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চত করার দাবি করছি।

সাংবাদিক সম্মেলনে আরও বলা হয়, গত ৫ অক্টোবর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে ক্যাম্পের সামনের রাস্তায় প্রতীকী অবস্থান কর্মসূচিতে বহিরাগত যুবকরা এসে আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় সবাই যখন ভয়ে ছোটা-ছুটি করছিল তখন পুলিশ তাদের ওপর টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে, লাঠিচার্জ করে। যা গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষে মামলা করা হয়। এখন ক্যাম্পে যাকে পাওয়া যাচ্ছে তাকেই গ্রেফতার করা হচ্ছে। এ ভয়ে কেউ ক্যাম্প থেকে বের হতে পারছেন না। এ অবস্থায় আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। 

এসময় বেশকিছু দাবি তুলে ধরা হয় তাদের পক্ষ থেকে। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে ছিল- ক্যাম্পবাসীরা যাতে নিরাপদে ও শান্তিতে বসবাস করতে পারে সে নিশ্চয়তা প্রদানে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি, পাশাপাশি বর্তমানে জেনেভা ক্যাম্পের বিরাজমান ভীতিকর অবস্থার দূর করা, ৫ অক্টোবরের ঘটনায় পুলিশি মামলা প্রত্যাহার করা ও ৫ অক্টোবরের শান্তিপূর্ণ প্রতীকি অবস্থানকে সাংঘর্ষিক রুপ দেয়ার পিছনে যাদের ইন্ধন রয়েছে তাদেরকে চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা করা, দেশের ১৩ জেলার ৭০ ক্যাম্পের পাঁচ লাখ উর্দু ভাষাভাষিদের ক্যাম্পে বিদ্যুৎ সরবরাহ বহাল এবং ক্যাম্পবাসীদের সসম্মানে পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ ও হয়রানি বন্ধ করা এবং তাদের প্লট বরাদ্দের অনুকূলে যৌক্তিক টাকার হার নির্ধারণ করা ও ক্যাম্পবাসীদের পুনর্বাসনে ফ্ল্যাট বরাদ্ধ নয় বরং বিনামূল্যে জমি প্রদানের ব্যবস্থাসহ দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি করছি সরকারের কাছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ