শুক্রবার ০৫ জুন ২০২০
Online Edition

 বৈদেশিক বাণিজ্যে খরচ কমাতে নিজস্ব মুদ্রা ব্যবহারের তাগিদ

স্টাফ রিপোর্টার: খরচ কমাতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সরাসরি বা স্থানীয় মুদ্রা ব্যবহারে বাংলাদেশের মনযোগ দেওয়া জরুরি বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পর্যায়েক্রমে দেশিয় মুদ্রাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বিআইবিএম অডিটোরিয়ামে ‘ইউজিং ইউএস ডলার ইন ফরেন ট্রেড ইজ দেয়ার এনি অল্টারনেটিভ অপশন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা এই মত দেন।

 গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএম-এর মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মহা. নাজিমুদ্দিন। বক্তব্য রাখেন বিআইবিএম-এর অধ্যাপক ও পরিচালক (গবেষণা, উন্নয়ন ও পরামর্শ) ড. প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জ্জী।

 গবেষণা দলে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন, বিআইবিএম-এর সহকারী অধ্যাপক তানবীর মেহদী, বিআইবিএম-এর সহকারী অধ্যাপক অন্তরা জেরীন, বিআইবিএম-এর সহকারী অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক আনিসুর রহমান ও এ. এস. এম. শাহাবুদ্দিন, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের হেড অব ট্রেড মো. খাইরুল আলম চৌধুরী, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের হেড অব ট্রেজারী মেহেদী জামান।

এই গোলটেবিল বৈঠকে তুলে ধরা এক গবেষণা প্রতিবেদনেও বলা হয়, আমদানি-রফতানিসহ বৈদেশিক বাণিজ্যে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে নিজস্ব মুদ্রা ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এতে লেনদেনের খরচ অনেকাংশে কমিয়ে আনবে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) এই গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গবর্নর এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, ২০১৯ সালে আমদানির ক্ষেত্রে ৮৯ শতাংশ ডলারের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। তবে এক দশকে আমদানি লেনদেনের ৮৫ শতাংশ ডলারের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। রফতানির ক্ষেত্রে লেনদেনের ৯৭ শতাংশ ডলারের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লেনদেনের ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে ডলারের বিকল্প মুদ্রা ব্যবহার করা সম্ভব না হলেও আলোচনা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।

বিআইবিএম-এর মহাপরিচালক মহা. নাজিমুদ্দিন বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সরাসরি মুদ্রা ব্যবহার করলে খরচ কমবে। এতে ডলারের ওপর চাপ কিছুটা কমবে। কিন্তু এখনও ডলারের বিকল্প কোনও মুদ্রা বাজারে চালু নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ইয়াছিন আলি বলেন, পারিপার্শ্বিক দিক বিবেচনায় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ডলার ব্যবহারই নিরাপদ। তবে ডলারের বিকল্প হিসেবে অন্য কোনও মুদ্রা ব্যবহার লাভজনক হলে তা উৎসাহিত করা যেতে পারে।

বিআইবিএম-এর অধ্যাপক শাহ মো. আহসান হাবীবগবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ডলারের বিকল্প কোনও মুদ্রা এ মুহূর্তে নেই। তবে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে নিজস্ব মুদ্রা ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। যা লেনদেনের খরচ অনেকাংশে কমিয়ে আনবে।। ৮ সদস্যের একটি গবেষণা দল এই গবেষণা করেন।

গবেষণায় প্রাইমারী এবং সেকেন্ডোরি দুই ধরণের তথ্যের ব্যবহার করা হয়েছে। গবেষণায় দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বিআইবিএম-এর প্রকাশনা থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ