রবিবার ১৭ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

নকল নিয়ে বিড়ম্বনা

বর্তমান বিশ্বসভ্যতার একটি সংকট হলো আমরা সমস্যামুক্ত হতে পারছি না। মানুষ তো সমস্যা থেকে মুক্তি চায়, কিছু তৎপরতাও চালায় কিন্তু লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে না। তাহলে কি সমস্যা সমাধানের মতো জ্ঞান আমাদের নেই কিংবা সঠিক পথের সন্ধান নেই? কখনও কখনও তো দেখা যায়, সমাধান করতে গিয়ে আমরা সংকটের মাত্রা আরও বাড়িয়ে ফেলি। আমরা জানি জীবনে সফল হতে হলে সঠিকভাবে কাজ করতে হলে জ্ঞানের প্রয়োজন। কিন্তু জ্ঞানতো নিজে এসে ধারা দেয় না, জ্ঞান অর্জন করতে হয়। এ জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়, পরিশ্রম করতে হয় এবং উত্তীর্ণ হতে হয় পরীক্ষায়। এই যে ব্যবস্থা, তা মানুষ স্বীকার করে নিয়েছে এবং দেশে দেশে গড়ে উঠেছে নানারকম শিক্ষাব্যবস্থা। কিন্তু এই শিক্ষাব্যবস্থা মানব সমাজের সমস্যা সমাধানে কতটা সফল হচ্ছে সেই প্রশ্নও বড় হয়ে উঠছে।
নানা প্রশ্নের মধ্যেও দেশে দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যাও। বছর শেষে তারা পরীক্ষার মুখোমুখি হয়। এই পরীক্ষার সময় একটি শব্দ উঠে আসে, যার নাম ‘নকল’। নকলকে তো কেউ সমর্থন করেন না, কিন্তু অনেকেই আবার তা ধারণ করে ফেলেন। এটি স্পষ্ট যে, দুটি কারণে ছাত্র-ছাত্রীরা নকল করে থাকে। একটি কারণ লেখাপড়া না করা এবং অপর কারণ  নৈতিকবোধ লালন না করা। এখন নকলের সমস্যা থেকে মুক্ত হতে প্রয়োজন হবে দুটি না’কে হ্যাঁ’তে পরিণত করা। লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, বিভিন্ন দেশে নকলবিরোধী তৎপরতা আছে কিন্তু তা কতটা সঙ্গত ও কার্যকর সে বিষয়ে প্রশ্ন আছে। নকল বিষয়ে নয়াদিল্লী থেকে বিবিসি একটি খবর পরিবেশন করেছে। ২১ অক্টোবর তারিখে পরিবেশিত খবরটিতে বলা হয়, পরীক্ষার হলে নকলের কারণে একাধিকবার বিশ^গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছে ভারত। তবে এবার নকল ঠেকাতে অদ্ভুত এক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে ভারতে। কর্ণাটক রাজ্যে একটি কলেজের পরীক্ষায় সব শিক্ষার্থীর মাথায় পরিয়ে দেয়া হয়েছে কার্ডবোর্ডের  বাক্স, যাতে কেউ পাশের কারও খাতা দেখার সুযোগ না পায়। পরীক্ষার্থীদের বাক্সবন্দী মাথা দেখতে বেশ অদ্ভুত লাগছিল। এই ঘটনার ছবি ছড়িয়ে পড়ে অনলাইনে। এরপর শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। শেষে এ কাজের জন্য ক্ষমা চেয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
কর্ণাটকের হাভেরি শহরের ভগত প্রি-ইউনিভার্সিটি কলেজে গত ১৬ অক্টোবর বুধবার ওই ঘটনাটি ঘটে। ওই দিন কলেজটিতে ছিল রসায়ন পরীক্ষা। কেউ যাতে পাশের জনের খাতা দেখে লিখতে না পারে সে জন্য পরীক্ষা শুরুর আগেই শিক্ষার্থীদের মাথায় পরিয়ে দেয়া হয় কার্ডবোর্ডের বাক্স। এই ধরনের কাজ অমানবিক বলে মন্তব্য করেছেন কর্ণাটক শিক্ষাবোর্ডের উপ-পরিচালক এসসি পীরজাদা। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি জানার পরপরই আমি নিজে ওই কলেজে গিয়েছিলাম। এরপর এটা বন্ধ করতে বলি। এ জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’ তাহলে ব্যাপারটা কি দাঁড়ালো? নকল বন্ধের ব্যাপারে ভুল পদক্ষেপ নেয়ায় এখন খেসারত দিতে হচ্ছে কলেজ কর্তৃপক্ষকে। তাহলে কি নকল বন্ধ হবে না? নকল বন্ধ না হলে তো শিক্ষার লক্ষ্য অর্জিত হবে না। নকল বন্ধের জন্য আসলে প্রয়োজন হবে শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ, পরিবারে শিক্ষার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক জাগরণ। আমরা মনে করি এটাই নকল বন্ধের সঙ্গত পথ। এ পথে সংশ্লিষ্টরা অগ্রসর হয় কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ