শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

পেকুয়ার সোনালী বাজার-করিমদাঁদ মিয়ার ঘাট সড়কের বেহাল দশা!

রিয়াজ উদ্দিন, পেকুয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা: পেকুয়া উপজেলার সাথে উজানটিয়া ইউনিয়নের যোগাযোগের একমাত্র ও প্রধান সড়ক হচ্ছে পেকুয়া-সোনালী বাজার-করিমদাঁদ মিয়ার ঘাট সড়ক। এ সড়কের প্রায় ৩ কিলোমিটার জুড়ে রয়েছে নানা খানা খন্দক। সড়কের এ বেহাল দশার কারণে স্থানীয়দের দুর্ভোগের মাত্রা তীব্র আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের মতে, ঠিকাদারের অবহেলার কারণে সড়কটির এ করুণ দশা হয়েছে। সড়কে সৃষ্ট হওয়া বড় বড় গর্ত আর ভাংগা ইটের খোয়ায় চলাচল ব্যাহত হচ্ছে স্থানীয়দের। বেশ কয়েকজন পথচারী জানান, গত বছর সড়ক সংস্কারের কিছু কাজ শুরু হলেও বর্তমানে অদৃশ্য কারনে ঠিকাদার কাজ বন্ধ রেখেছে। জানাযায়, গত বছরের মে মাসে কার্যাদেশ পেলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যাদেশের মেয়াদ হারিয়েছে। বর্তমানে সড়কটির কবির মার্কেট পয়েন্ট থেকে  করিমদাঁদ মিয়ার জেটিঘাট পর্যন্ত যান চলাচল দূরের কথা মানুষের চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পেকুয়া উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানায়, উজানটিয়া ইউনিয়নের মানুষের চলাচলের কথা সুবিধার্থে এলজিইডি‘র অর্থায়নে সড়কটি নির্মিত হচ্ছিল। এর আগে অতিরিক্ত লবণ বোঝাই গাড়ি চলাচল ও দফায় দফায় বন্যার কারনে সড়কটির এই করুণ অবস্থা হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করে স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষ।

সড়কটি চলাচল অনুপযোগী হওয়ায় সবচেয়ে বেশী দুর্ভোগে রয়েছেন নারী শিশু ও স্থানীয় স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা। স্থানীয় খান বাহাদুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নুরুল আজিম বলেন, “ঠিকাদার গত বছর যাবত ইট খুলে রেখেছে কিন্ত এখনো কোন কাজ আমরা দেখলাম না। রোদ থাকলে কোন মতে হেটে যাওয়া যায় আর বৃষ্টি থাকলে চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়ে।” স্থানীয় বাসিন্দা ও পেকুয়া দুদকের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ আশেক উল্লাহ বলেন, ‘উজানটিয়ার প্রধান সড়কটি দিয়ে নিয়মিত কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করে। এই সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ কেননা এই সড়ক দিয়ে লবণ ও চিংড়ি দেশের বিভিন্ন জায়গায় রপ্তানী হয়। সড়কটি অকেঁজো হয়ে যাওয়াতে মানুষ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা খুই কষ্ট পাচ্ছেন বলে তিনি দাবী করেন।

স্থানীয় অধিবাসি আইনজীবী এডভোকেট মীর মোশারফ হোসেন টিটু জানান, শুধুমাত্র ঠিকাদারের অবহেলার কারণে উজানটিয়া ইউনিয়নের হাজার হাজার পথচারীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আমরা সড়কটির উন্নয়নকাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। স্থানীয় বাসিন্ধা দলিল লিখক সহকারী মহসিন মুন্সি, ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান, মানিকুল ইসলাম সহ স্থানীয়রা বলেন, আমরা এ সড়কের দ্রুত সংস্কার চাই কেননা একমাত্র এই সড়কটি ছাড়া আমাদের চলাচলের জন্য বিকল্প কোন সড়ক নাই।

এ বিষয়ে এলজিইডির পেকুয়া উপজেলা প্রকৌশলী জাহেদুল আলম চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমরা ঠিকাদারের কাজ বাতিল করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি নতুন স্টিমিট তৈরী করে পুনরায় টেন্ডার আহবান করে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ