মঙ্গলবার ২৬ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

ক্রিকেটারদের দাবি-দাওয়া বিবেচনায় নেবে বিসিবি -সিইও

স্পোর্টস রিপোর্টার : এগার ১১ দফা দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন ক্রিকেটাররা। বিপিএলের পারিশ্রমিক, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের বেতন, ম্যাচ ফি ও আনুসাঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা এবং ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের দল বদল আগের মত খোলা ও স্বাধীনভাবে করাসহ নানা দাবিতে সোচ্চার জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। ধর্মঘটে নেই বয়সভিত্তিক ও নারী ক্রিকেটাররা। সামনে জাতীয় দলের ক্যাম্প রয়েছে সাকিব-তামিমদের। কিন্তু ধর্মঘটের ফলে আসন্ন ভারত সফর শঙ্কার মুখে। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এটাই ক্রিকেটারদের প্রথম ধর্মঘটের ডাক নয়। প্রথম আন্দোলনও না। এর আগেও একবার ক্রিকেটাররা বড় ধরনের আন্দোলনে নেমেছিলেন। সেটা ১৯৯৮ সালের একদম শেষ দিককার ঘটনা। ক্রিকেটীয় মৌসুম হিসেব কষলে ১৯৯৮-১৯৯৯। তার মানে ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে হিসেব করলে, ঠিক ২০ বছর পর আবার ক্রিকেটারদের আন্দোলন, ধর্মঘট। লিগ খেলার দাবিতে প্রেসক্লাবের সামনে  খোলা আকাশের নিচে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ব্যানার, প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান নেয়া।  সেই সাথে জাতীয় পর্যায়ের দলের হয়ে না খেলে মাঠের বাইরে দর্শকের ভূমিকায় থেকেছিলেন সাকিব, তামিম, মুশফিক ও রিয়াদদের পূর্বসুরিরা। বিশ বছর পর এবার ধর্মঘটের ডাক দিলেন তারা। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, ক্রিকেটারদের দাবি-দাওয়া থাকলে তা বিবেচনা করবেন বিসিবি। বোর্ডের কাছে প্রস্তাব এলে সেগুলো বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমরা ওদের কথা গণমাধ্যমের সৌজন্যে জেনেছি। আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রিকেটাররা এখনও আমাদের কাছে এসব বিষয় উপস্থাপন করেনি। খেলোয়াড় এবং বোর্ড আলাদা নয়। ওরা আমাদেরই অংশ। ওদের কোনও দাবি-দাওয়া থাকলে আমরা অবশ্যই দেখবো।’ গতকাল সাকিব, মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহসহ প্রায় অর্ধশতাধিক ক্রিকেটার মিরপুরের একাডেমি মাঠে সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময় করেন এবং আল্টিমেটাম দেন। দাবি না মানলে ঘরোয়া ক্রিকেট মানে চলমান জাতীয় লিগসহ জাতীয় দলের অনুশীলন ও বিদেশ সফর না করার কথা জানান। যদিও ক্রিকেটারদের পক্ষ থেকে এমন কিছু আসবেÑ তা ঘূর্ণাক্ষরেও জানা ছিল না কারো। প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দীন চৌধুরী সুজন বলেন, ক্রিকেটারদের আন্দোলনের বিষয়ে তারা কিছুই জানতেন না। 

ক্রিকেটাররা তাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে আগে থেকে কিছুই জানায়নি। ক্রিকেট অপরেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান বলেন, ‘ক্রিকেটাররা ভিতরে ভিতরে ফুঁসছেন, নিজেদের দাবিতে সোচ্চার হয়ে বড় ধরনের আন্দোলনের ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন- এমন খবর মিডিয়ায় আসে বেলা পৌনে একটার দিকে।’ অবশ্য আগেই জানা গিয়েছিল জাতীয় দলের বর্তমান সদস্যসহ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটাররা বেলা দুইটার দিকে বোর্ডে আসবেন এবং আগে সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময় করে নিজেদের মনোভাব জানাবেন। ক্রিকেটাররা মিডিয়ার সামনে ১১ দফা দাবি তোলার অল্প কিছুক্ষণ পরই মিডিয়ার সামনে আসেন প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দীন চৌধুরী সুজন। নিজমউদ্দীন চৌধুরী সুজনও পরিষ্কার জানিয়ে দেন, তারা কিছুই জানতেন না। তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় বিচ্ছিন্নভাবে কারো কারো মুখ থেকে কিছু দাবির কথা শোনা গেলেও ক্রিকেটাররা যে ভিতরে ভিতরে ফুঁসে আছেন। রীতিমত একটা বিষ্ফোরনমুখ অবস্থা- তা তাদের জানা ছিল না। ক্রিকেটাররা আগে তাদের লিখিতভাবে কিংবা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানাননি।’ বিসিবি প্রধান নির্বাহী বলেন, ‘আমরা মুলতঃ মিডিয়ার মাধ্যমেই জানতে পেরেছি। আমাদের সাথে কথা হয়নি। আমি আবারও বলছি প্লেয়াররা আমাদের বড় সম্পদ। প্লেয়ারদের বিভিন্ন দাবি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখে থাকি। বিভিন্ন সময় সে সব দাবি মানার চেষ্টাও করা হয়েছে; কিন্তু আজ যা বলা হলো, তা আমরা আজকেই জেনেছি। তাও আপনাদের মানে মিডিয়ার কাছ থেকে। আমরা মাত্র জানলাম। তারপরও ফর্মালি কিছু জানতে পারিনি। মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। বিষয়টি আমরা দেখবো।’ তবে নিজামউদ্দীন চৌধুরী সুজন কিছুতেই মানতে নারাজ যে, এটা কোনো বিদ্রোহ। তার বলেন, ‘না না, এটা কোন বিদ্রোহহ নয়। প্লেয়াররা বোর্ডের পার্ট।’ ভাবটা এমন, তারা তাদের দাবি ও চাওয়া-পাওয়ার কথা প্রকাশ করেছে। আমরা ছেষ্টা করবো বসে এবং বোর্ডে কথা বলে সে দাবি মেটাতে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ