বুধবার ০৭ ডিসেম্বর ২০২২
Online Edition

বাংলাদেশের মাদরাসাশিক্ষা অতীত বর্তমান ভবিষ্যত

অধ্যাপক আবদুছ ছবুর মাতুব্বর : ১লা অক্টোবর ছিল আলিয়া মাদরাসা শিক্ষার ২৪০তম দিবস। ১৭৮০ সনে কোলকাতা শহরের বৈঠকখানা রোডের একটি ভাড়াবাড়িতে যে শিক্ষা শুরু হয় উক্ত শিক্ষাই আজকের আলিয়া মাদরাসা শিক্ষা। এ  শিক্ষা চালুর  ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ছিল তৎকালীন সময়ের ইসলামের শত্রু বৃটিশদের হাত থেকে ইসলামের ন্যূনতম শিক্ষাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য মুসলমানদের সর্বশেষ প্রচেষ্টা। প্রায় আড়াইশত বছর ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে শাসনদ-ের বিভিন্ন ষড়যন্ত্র, হিংসা-প্রতিহিংসা ও ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করে আলিয়া মাদরাসা শিক্ষা আজও টিকে আছে। বাংলাদেশে মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রধানত দু’টি ধারা চালু আছে। একটি হলো ’দরসে নেজামী’ পদ্ধতি। এ পদ্ধতির মূল আদর্শ হলো দেওবন্দ মাদরাসা। অপরটি হলো আলীয়া পদ্ধতি। এ পদ্ধতির সূচনা হয় কোলকাতা আলীয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। উভয় ধারার শিক্ষা মূলত মুসলিম শাসনামলে ভারতবর্ষে যে শিক্ষা চালু ছিল তারই শিক্ষাক্রমের অনুসারী। ১৭৮০ সনে আলিয়া মাদরাসা শিক্ষা এবং ১৮৫৬ সনে দেওবন্দ মাদরাসা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উভয় শিক্ষার সূচনা  হয়। কালক্রমে উভয় ধারার শিক্ষার মধ্যে অনেক পরিবর্তন ও পরিমার্জণ হয়েছে। সিলেবাস, কারিকুলাম ও ব্যবস্থাপনায় নতুনত্ব এসেছে। দিন দিন এ শিক্ষা যেমন মানুষের নিকট সমাদৃত হয়েছে তেমনি দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। এ শিক্ষার অতীত যেমন গৌরবোজ্জল বর্তমানটি বিভিন্ন কৌশলী ষড়যন্ত্রের শিকার  আর ভবিষ্যত!  স্বপ্নের বীজ বপনই আমাদের দায়িত্ব।
“মাদরাসা শিক্ষা” নামে আমাদের  দেশে যে শিক্ষাপদ্ধতি চালু আছে তা পাক ভারত উপমহাদেশ তথা বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা ছাড়া বিশ্বের অন্য কোন দেশে চালু নেই। মাদরাসা শব্দটি আরবী শব্দ। শাব্দিক  অর্থ বিদ্যালয়, পাঠশালা স্কুল আর  পরিভাষাগত অর্থে মাদরাসা বলতে বুঝায় যে স্থানে পাঠদান করা হয়।  আরব ও আমাদের দেশে মাদরাসা বলতে যা বুঝায় তার মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। আরব দেশে মাদরাসা বলতে আমাদের দেশের স্কুল লেভেলের শিক্ষাকে বুঝানো হয়ে থাকে, অনুরূপ কলেজকে কুল্লিয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে জামেয়া’ বলা হয়। আমাদের দেশে মাদরাসা বলতে ইবতেদায়ী স্তর (প্রাথমিক বিদ্যালয়) থেকে কামিল স্তর (মাস্টার্স মান) পর্যন্তকে বুঝায়। স্কুল সমমান সম্পন্ন মাদরাসাকে মাদরাসা, কলেজ সমমান সম্পন্ন মাদরাসাকে মাদরাসা এবং বিশ্ববিদ্যালয় সমমান সম্পন্ন মাদরাসাকেও মাদরাসা নামে সম্মোধন করা হয়।
মাদরাসা শিক্ষার অতীত : ১৬০০ সনে ব্যবসার ছদ্মবেশে বৃটিশরা এ অঞ্চলে আসে এবং ১৭৪৭ বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার মসনদ দখল করে নেয়। তারা তাদের মতো করে রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে এবং সেই রাষ্ট্রের কর্মচারী হবার উপযোগী লোক তৈরী করার জন্য তাদের মতো করে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করে। কোলকাতার বিচক্ষণ মুসলিম নেতৃবৃন্দ বৃটিশ শাসন ব্যবস্থায় হিন্দুদের একচ্ছত্র আধিপত্য দূর করতে আলীয়া মাদরাসা শিক্ষা চালু করে।  ১৯২১ সনে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষার্থী সরবরাহের কাজটি করেছিল এই আলিয়া মাদরাসা শিক্ষা। আলীয়া মাদরাসা শিক্ষাকে তখন দু’টি ভাগে ভাগ করা হয়। একটির নামকরণ করা হয় নিউস্কীম মাদরাসা এবং অপরটির নামকরণ করা হয় ওল্ডস্কীম মাদরাসা। নিউস্কীম মাদরাসা ১৯৫৮ সনে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। আজকের আলিয়া মাদরাসা ওল্ডস্কীম মাদরাসারই ধারাবাহিকতা।
বৃটিশরা চলে যাওয়ার পর পাকিস্তান নামে স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। কোলকাতায় অবস্থিত কোলকাতা আলীয়া মাদরাসার অর্ধেকাংশ পাকিস্তান সরকার পূর্ব পাকিস্তানে নিয়ে আসে। পাকিস্তানের অপর কোনো অংশে এ শিক্ষা চালু ছিল না। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই পূর্ব পাকিস্তানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না থাকায় কোনো কিছুই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিতে পারে নাই। ফলে আলীয়া মাদরাসা শিক্ষা বৃটিশদের রেখে যাওয়া ধারাবাহিকতায় চলতে থাকে। স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয় ১৯৭১ সনের ১৬ ডিসেম্বর। উত্তারাধিকার সূত্রে পাওয়া আলীয়া মাদরাসা  শিক্ষা  এ দেশের শিক্ষা নীতির অর্ধেকাংশ দখল করে আছে। যদিও কখনো কখনো এ শিক্ষাকে গভীর ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করতে হয়েছে। তবে কোন শক্তিই এ শিক্ষার বিনাশ করতে পারে নাই।
১৮৫৭ (খৃঃ) সমগ্র ভারতব্যাপী সিপাহী-জনতা ইংরেজদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ করে। কোলকাতার ব্যারাকপুর থেকে এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। দেখতে দেখতে গোটা ভারতে এই যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু তখনও এই যুদ্ধ চলছিল কেন্দ্রীয় নেতৃত্ববিহীন ও বিক্ষিপ্ত। ঠিক তখনই এই যুদ্ধের সফলতার জন্য তৎকালীন ওলামারা একটি জরুরী সম্মেলনের আহবান করে। উক্ত সম্মেলনে একটি ঘোষনাপত্র পাশ করা হয়। ঘোষনাপত্রে ছিল: ক) চলমান সশস্ত্র গণবিপ্লব ইসলামী জিহাদ হিসেবে গণ্য হবে। খ) সকল মুসলমানের এই জিহাদে অংশ গ্রহন ফরয। গ) জিহাদ যেহেতু একটি সরকারের অধীনে হওয়াই ইসলামী শরীয়াহ সেহেতু একটি ইসলামী সরকারের প্রয়োজন। পরামর্শক্রমে নিম্মোক্ত সদস্যদের নিয়ে ইসলামী সরকার গঠিত হলো :- আমীরুল মুমিন নির্বাচিত হন হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজীরে মক্কী (রহ:), কাযিউল কুয্যাত (প্রধান বিচারপতি) নির্বাচিত হন হযরত মাওলানা রশীদ আহমাদ গাঙ্গবী (রাহ)  এবং প্রধান সেনাপতি নির্বাচিত হন মাওলানা মুহাম্মদ কাশেন নানতুবী (রাহ:)। এ সরকার দেশব্যাপী জিহাদের ঘোষনা দিলেন, কয়েকটি রণাঙ্গনের নাম ঘোষনা করে জনগণকে যোগদানের আহবান জানালেন। কিন্তু মুসলিম নেতৃবৃন্দের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পূর্বেই ইংরেজরা দিল্লী দখল করে নেয়। ফলে সশস্ত্র আন্দোলন আস্তে-আস্তে স্তিমিত হতে থাকে। উপমহাদেশে নেমে আসে বিপদের ঘনঘটা। ইংরেজরা এই যুদ্ধের জন্য আলেমদেরেকে দায়ী করে। আলেমদের উপর চালানো হয় অত্যাচারের স্টীম রোলার। যুদ্ধের ময়দানে একান্ন হাজার আলেম শাহাদাত বরণ করেন। যুদ্ধোত্তর গুপ্ত হত্যা, গুম, মুজাহিদ আখ্যা দিয়ে বিনা বিচারে ফাঁসি, প্রহসনের বিচারের মাধ্যমে ফাঁসি, কালা পানিতে নির্বাসন ইত্যাদির মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ আলেমদের হত্যা করা হয়। রাস্তার পাশে এমন কোন গাছ ছিল না যে গাছের সাথে শহীদ আলেমের কাটা মাথা ঝুলানো ছিল না। বেঁচে থাকা নেতৃস্থানীয় আলেমদের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারী হলো। আলেমরা একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল। এভাবে ১০ টি বছর কেঁটে যায়। বেঁচে থাকা দুইজন বীর মুজাহিদ হযরত মাওলানা রশীদ আহমাদ গাঙ্গোঈ (রা:) এবং মাওলানা কাশেম নানতুবী (রাহ:) একত্রিত হলেন। তারা মুসলমানদের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়লেন। একদিন এমর্মে সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন যে, একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা হবে। সিদ্ধান্ত মোতাবিক উত্তর ভারতের ’দেওবন্দ’ নামক স্থানে গড়ে তুললেন “দারুল উলুম মাদরাসা”।
মাদরাসা শিক্ষার বর্তমান অবস্থা ঃ বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা সমান দ’টি ধারায় বিভক্ত। একদিকে সাধারন শিক্ষা অপরদিকে আলিয়া মাদরাসা শিক্ষা। ঊভয় ধারার শিক্ষার সনদগত মান, শ্রেনীর স্তর বিন্যাস, পাঠ্যসূচি ও পাঠ্যক্রম সমান্তরাল ধারায় যেমন বিন্যস্ত তেমনি উচ্চতর শিক্ষা আর্জণ ও চাকুরী ক্ষেত্রে আবেদন করার এবং অবদান রাখার সমান সুযোগ রয়েছে। আলীয়া মাদরাসা শিক্ষা পরিচালনা সাধারণ শিক্ষার ন্যায় একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে একদিকে সাধারণ শিক্ষা শাখা অপরদিকে মাদরাসা শিক্ষা শাখা চালু আছে। অনুরূপ উভয় শাখা পরিচালনার জন্য অধিদপ্তর, বোর্ড এবং উচ্চ শিক্ষা নিয়ন্ত্রনের জন্য এফিলিয়েটিং ক্ষমতা সম্পন্ন ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যায় রয়েছে। উভয় শিক্ষা ধারার উন্নয়ন, সুযোগ-সুবিধা প্রদানের সরকারী নিয়ম যেমন সমানভাবে প্রযোজ্য তেমনি উভয় শিক্ষার্থীরা জাতীয় ক্ষেত্রে সমান অবদান রাখার সমানভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য বিভিন্ন সময়ের দলীয় সরকার ও প্রশাসনের মধ্যে ঘাপটি মেরে বসা থাকা ইসলাম বিরোধী শক্তির ষড়যন্ত্রের কারণে আলীয়া মাদরাসা শিক্ষা তার স্বকীয়তা প্রকাশ করতে পারে নাই এবং পারছে না। এ শিক্ষা প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিমাতাসুলভ আচরণের শিকার। 
ক্কওমী  মাদরাসার দাওরা হাদীসকে সম্প্রতি মাস্টার্স মান দেয়া হয়েছে। এই মান প্রদানকে যেভাবেই মূল্যায়ন করা হোক,  ক্কওমী মাদরাসা আজ দেশের জাতীয়  শিক্ষানীতিতে একটি স্বিকৃত শিক্ষাব্যবস্থা হিসেবে পরিগনিত হয়েছে। দাওরা শ্রেণীর পাঠ্যসূচি ও পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, সংস্কারসাধন, পরীক্ষা গ্রহন , সনদ প্রদানে ইতোমধ্যে বোর্ড প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
মাদরাসা শিক্ষার ভবিষ্যত : ভবিষ্যতে কি হবে তা একমাত্র আল্লাহ তায়লাই জানেন। তবে আমাদেরকে অতীতের আলোকে ভবিষ্যতে মাদরাসা শিক্ষার কোনো যেন ক্ষতি না হয় সে বিষয়ে যেমন সচেতন থাকতে হবে তেমনি অনাগত নতুন প্রজন্মের জন্য স্বপ্নের বীজ বপন করতে হবে।
আলিয়া মাদরাসা শিক্ষার ব্যবস্থাপনাগত ও কাঠামোগত উন্নতি যেভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে তা বহু দিনের লালিত প্রত্যাশার ফল। কথায় বলে “স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা আরও কঠিন”। “একটি তলোয়ার যখন ডাকাতের হাতে পড়ে তখন সে ডাকাতি করে আবার যখন ভালো মানুষের হাতে পড়ে তখন ডাকাতকে প্রতিহত করে”। সুতরাং আজকের বেঁচে থাকা প্রজন্মের দায়িত্ব হলো  মাদরাসা শিক্ষার বর্তমান সফলতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, সকল ধরণের  ষড়যন্ত্রকে যেমন ইতিবাচকভাবে মোকাবিলা করতে হবে তেমনি প্রয়োজনে প্রতিবাদের ভাষায় ভুমিকা পালন করতে হবে। যেমন ১. এ শিক্ষার সর্বস্তরে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী নিশ্চিত করতে মসজিদগুলোকে প্রি-প্রাক মাদরাসা এবং প্রত্যেক গ্রামে ইবতেদায়ী মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল স্তরের মাদরাসায় সাধারন শিক্ষা ধারার ছাত্রদের ভর্তি নিশ্চিত করতে এক বছরের একটি আরবী ভাষা কোর্স চালু করতে হবে। ২. প্রত্যেক জিলা উপজেলায় কমপক্ষে একটি করে সরকারী মাদরাসা এবং অনার্স লেবেলের মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ৩. মাদরাসা ছাত্রদের বৃত্তি সংখ্যা এবং টাকার পরিমান বৃদ্ধি করতে হবে। ৪. মাদরাসা শিক্ষার স্বকীয়তা রক্ষায় এবং মাদরাসা শিক্ষার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য অর্জনে উপযুক্ত বই প্রনয়ণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পৃথক মাদরাসা টেক্সট বুক বোর্ড গঠন করুন। মাদরাসা শিক্ষার বই প্রনয়নে একমাত্র মাদরাসা শিক্ষিতদেরকেই সংশ্লিষ্ট করতে হবে। ৫. মাদরাসা সংশ্লিষ্ট সকল অফিসে মাদরাসা শিক্ষিতদেরকে চাকুরী প্রদান  এবং ডিপুটেশন (পদায়ন) ক্ষেত্রেও মাদরাসা অরিয়েন্টেড ব্যক্তিদেরকে সংশ্লিষ্ট করতে হবে। যেমন মাদরাসা বোর্ডের বিভিন্ন স্টাফ, কমিটি, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদরাসা শাখা, আরবী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে পদায়ন।
কওমী মাদরাসা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আজ আর কোনো প্রশ্ন নেই। কারণ। বাংলাদেশ সরকার এ শিক্ষার একটি স্তরকে সর্বোচ্চ মান দিয়েছে। যারা প্রশ্ন করেন তারা অবুঝ বা প্রতিহিংসাপরায়ণতার বশবর্তী হয়ে এ কাজটি করছেন। এ শিক্ষাকে যারা ভালোবাসেন ছাত্র, শিক্ষক, শুভাকাংখী সকলকেই এ শিক্ষার উন্নয়নে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশ সরকার এ শিক্ষাকে স্বীকৃতি দেয়ার যে শুভ সূচনা করেছেন তাকে সর্বস্তরে নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হবেন। ক্কওমী শিক্ষাকে বাংলাদেশের সংবিধান, শিক্ষানীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থার আলোকে এবং আপামর জনসাধারণের চাওয়ার বিন্যাস করতে হবে। এ শিক্ষার স্তরকে জাতীয় শিক্ষা নীতির আলোকে রূপ দিতে হবে।
আলিয়া ও কওমী মাদরাসা শিক্ষা ধারার আলোকে দেশে আরও অনেক স্বতন্ত্র ধারার মাদরাসা গড়ে উঠেছে। হিফজ মাদরাসা, ইবতেদায়ী মাদরাসা, ক্যাডেট মাদরাসা, নুরানী মাদরাসা, মাদরাসা-ই-দীনিয়া, মাদানী নিসাব মাদরাসা ইত্যাদি। তাছাড়া পূর্ব থেকে চলে আসা ফোরকানিয়া মাদরাসা ও মক্তব ভিত্তিক কুরআনের শিক্ষা এখনও চালু আছে।
অধ্যাপক আবদুছ ছবুর মাতুব্বর, বাংলাদেশ ইসলামী ইউনিভার্সিটি, ঢাকা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ