মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

দেশে জাতীয় অর্থনীতির পরিবর্তে আওয়ামী অর্থনীতি প্রণীত হয়েছে -আমীর খসরু

স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশে জাতীয় অর্থনীতির পরিবর্তে আওয়ামী অর্থনীতি প্রণীত হয়েছে। দেশের অর্থনীতিতে পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, কোনো সাধারণ মানুষের ব্যবসা করার সুযোগ নেই। কোনো সাধারণ মানুষের চাকরি পাওয়ার সুযোগ নেই। জাতীয় অর্থনীতি পরিপূর্ণভাবে আওয়ামী অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। দেশে একটি দলীয় অর্থনীতি প্রণীত হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। আবরার হত্যার প্রতিবাদে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিইএব) এ মানববন্ধন আয়োজন করে। মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির সহ-তথ্য বিষয়ক সম্পাদক সাংবাদিক নেতা কাদের গনি চৌধুরী, কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য লায়ন মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনসহ অন্যরা।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকা বাইরে চলে যাচ্ছে। এ সব টাকার বড় অংশ হচ্ছে দুর্নীতির টাকা। আর ছোট্ট একটি অংশ হচ্ছে যারা বাংলাদেশে ব্যবসা করে, তাদের টাকা। কারণ, লুটপাটের কারণে এ দেশে ব্যবসা করার আর কোনো সুযোগ নেই। নিরুপায় হয়ে তারা তাদের টাকা বিদেশে পাচার করে দিচ্ছে।
খসরু বলেন, অবৈধ সরকার ,অবৈধ সংসদ যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয়, তখন ক্যাসিনো, চাঁদাবাজ, বিদেশে টাকা পাচার, গুম-খুন, মেধাবী ছাত্রকে হত্যা কোনো কিছুর বিচার আশা করা যায় না। এর আগে এরকম হত্যাকাণ্ডের যেই রায়গুলো দেওয়া হয়েছে, সকলেই খালাস পেয়ে গেছে।
ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, গডফাদার ছবি দেখেছেন? এতে নিজেদের মধ্যে, পরিবারের মধ্যে যখন ভাগবাটোয়ারা নিয়ে সমস্যা হয়, তখন একজন আরেকজনকে গুলি করে মেরে ফেলে। আসল ঘটনা হচ্ছে এখানে এত বড় অঙ্কের লেনদেন, এগুলো সাধারণ মানুষ কল্পনাও করতে পারে না। এই লেনদেনের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা সমস্যা হয়ে যায়। যখন সমস্যা হয়ে যায়, তখন একজন আরেকজনকে মেরে ফেলে। এখানে একজন আরেকজনকে ধরিয়ে দিচ্ছে। যারা ধরিয়ে দিচ্ছে তারা তো জানে কে কোথায় কী করছে। এসব অভিযানে বাংলাদেশের যে দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়নের চিত্র ফুটে উঠেছে, সেটা লাখ লাখ  অভিযানেও শেষ হবে না।
তিনি বলেন, যারা অন্যায় অবিচার করছেন তাদের জন্য মাঠ খোলা আছে। কারণ যেই দেশে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত সবাই একই কাজে ব্যস্ত। তারা আবার অন্যের কাজে কিভাবে বাধা দেবে। বিশেষ করে একটি অনির্বাচিত সরকার যেখানে দেশ পরিচালনা করে, একটি অনির্বাচিত সংসদ যেখানে আইন পরিচালনা করে, সেখানে ভালো কিছু আশা করা যায় না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ক্যাসিনো অভিযানের পরে অনেক সাংবাদিক দলের অনেক লোকজন আমাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করে যে, আপনি কি মনে করেন সরকার সত্যি সত্যি এই অভিযান চালাচ্ছে। আর চালালে কেন চালাচ্ছে, এই অভিযান কারা চালাচ্ছে, আসলে কি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চালাচ্ছে। এ প্রশ্ন যে দেশে উঠতে পারে, দেশে অন্যায় হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করবে- সেটাকে নিয়ে যদি এত প্রশ্ন ওঠে তখন সে দেশের অবস্থা সকলের কাছে পরিষ্কার।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, জনগণের প্রশ্ন ভোট দিতে পারবো কিনা? ভোট দেওয়ার সংগ্রামটাই...। এই যে আমির খসরু। এটা আপনাদেরই দায়িত্ব। সব বিভেদ একটু ভুলে গিয়ে রাস্তায় নামুন। বাংলাদেশ আপনাদের সঙ্গে আছে। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের মুক্তি আসবে এবং খালেদা জিয়া মুক্ত হবেন। তিনি বলেন, আজকে আবরারের হত্যাকা-ের যে কাহিনী শুনছি, তারা (সরকার) ৩০২ ধারায় মামলাকে ৩০৪ ধারায় পরিণত করার চেষ্টা করছে। এই সরকারের জন্য এটা নতুন কোনো ঘটনা নয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ