সোমবার ২৫ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

কালো টাকা দিয়ে ঐক্য বিনষ্টের চেষ্টা সফল হবে না -ড. কামাল

গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে মুক্তিজোট আয়োজিত ‘নির্বাচন কেন্দ্রিক সংকট সমাধানে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন ও প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : ২২ অক্টোবর সমাবেশের অনুমতি না পেলে পরবর্তী পদক্ষেপের কথা জানিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন ঐক্যকে সুসংহত করে দেশকে জনগণের নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, যখনই আমাদের কোনো লক্ষ্য অর্জনের জন্য ঐক্যের প্রয়োজন হয়, তখনই অসাধারণ সাড়া পড়ে। দেশের মূল লক্ষ্যকে সামনে রেখে যখনই আমরা ঐক্য গড়ার চেষ্টা করি, তখনই কালো টাকা দিয়ে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয় এবং সাম্প্রদায়িক বিভাজনকে সামনে আনা হয়। স্বৈরশাসকরা যুগে যুগে জনগণের ঐক্য বিনষ্ট করতে কালো টাকা ও সাম্প্রদায়িকতা ব্যবহারের চেষ্টা করলেও তা সফল হয় না। কিন্তু জনগণ এগুলোকে প্রশ্রয় দেয় না বলে সরকার সফল হয় না।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। নির্বাচন কেন্দ্রিক সংকট সমাধানে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন ও প্রাসঙ্গিকতা শীর্ষক এই আলোচনা সভা আয়োজন করে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোট।
এ আর শিকদারের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জে এস ডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, সহ-সভাপতি তানিয়া রব, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা. রেজা কিবরিয়া, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রধান আবু লায়েস মুন্না, জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির প্রধান মো. সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।
ড, কামাল হোসেন বলেন, সরকার চেষ্টা করে সংকীর্ণ দলীয় বক্তব্য দিয়ে এবং কালো টাকা ব্যবহার করে অনৈক্য সৃষ্টির। কিন্তু সরকার কোনো দিনও সফল হয়নি। যখন আমরা ঐক্যের ডাক দিয়েছি, তখন মানুষ সরকারের এই নেতিবাচক চেষ্টাকে প্রত্যাখান করেছে এবং জনগণের মধ্যে ঐক্য গড়ে উঠেছে। এই ঐক্যের মধ্য দিয়ে যতগুলো চ্যালেঞ্জ ফেস করতে হয়েছে, আমরা সেটা করেছি। এবারও সেটা করতে হবে।
তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, রাষ্ট্রকে জনগণের নিয়ন্ত্রনে আনতে হবে। আমাদের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করে, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ভালভাবে দিয়ে দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার যে পদক্ষেপগুলো রয়েছে, সেগুলো আমরা অবশ্যই নেব।
তিনি বলেন, আমাদের সব চেয়ে বড় সুবিধা হল- অভিজ্ঞতার আলোকে ঐক্যের গুরুত্ব জনগণ বোঝে। সে কারণে আমরা যখন ঐক্যের কথা বলি, তখন অনেক বেশি যুক্তি দিতে হয় না, বেশি ইতিহাস তুলে ধরতে হয় না। জনগণ এটাও বোঝে অনৈক্য থাকলে সন্ত্রাস-দুর্নীতি হয় এবং দেশের ক্ষতি। অতএব আমরা এখন মনে করি, যে ঐক্যের ডাক আমরা দিয়েছি, সেখানে সাড়া পড়েছে। এই ঐক্যকে আরও সুসংহত করে দেশকে জনগণের নিয়ন্ত্রণে আনব।
জনগণ ক্ষমতার মালিক -এটা আমাদের সংবিধানে লেখা আছে। বার বার নিজেকে বলতে হয়, আমরা ক্ষমতার মালিক। কোনো সরকার বৈধভাবে আসলেও কিন্তু তারা মালিক না। তারা মালিকের প্রতিনিধি। আর যারা অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসে, তারা কিছুই না। এখন জনগণকে মালিক হিসেবে ভূমিকা রাখতে হবে। যখনই মানুষ সেই ভূমিকা রেখেছে, তখনই রাষ্ট্র জনগণের নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলেন ড. কামাল হোসেন।
ড. কামাল বলেন, আমরা অতীতে ঐক্যের ডাক দিয়ে ভালো সাড়া পেয়েছি, সফল হয়েছি। আপনারা এখানে যেমন ঐক্যের ডাকে সাড়া দিয়ে এসেছেন। সে রকম পাড়ায়, মহল্লায়, গ্রামে সব জায়গায় এ ঐক্যের ডাককে নিয়ে যাবেন। জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে তারা এ দেশের মালিকের ভূমিকা রাখতে পারবে। আমাদের আকাক্সিক্ষত গণতন্ত্র, আইনের শাসন, সাংবিধানিক শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারবো।
ড. কামাল বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা আমাদের বলে দেয়, জনগণের ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। যারা দেশে স্বৈরশাসন চালাতে চায়, তাদের মূল চেষ্টা থাকে সাম্প্রদায়িকতা, সংকীর্ণ দলীয় মানসিকতায় বিভেদ সৃষ্টি করা। যারা দেশে জনগণের শাসন চায় না, গণতন্ত্র চায় না, তারা বলে দেশ কতভাগে বিভক্ত। জনগণ যে দেশের মালিক, সেটা তারা স্বীকারও করে না, তাদের ক্ষমতাও দিতে চায় না।
জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেছেন, দেশে উন্নয়নের গণতন্ত্রও শুনতে হচ্ছে। অথচ আজ পর্যন্ত এ নামে কোনো গণন্ত্রের নাম কোথাও শুনিনি। এখন উন্নয়নের জুয়াতন্ত্র চলছে। রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান আজ ধ্বংস। এই সরকার এক ব্যক্তির ইচ্ছায় যা খুশি তাই করছে। এটা চলতে পারে না। রব বলেন, দেশে আইনের শাসন নেই। কোনো সরকার নেই। প্রশ্ন হতে পারে- সরকার নেই তাহলে দেশে চলছে কীভাবে? জবাব হচ্ছে- আমাদের নির্বাচন কমিশন তো নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছিল ৩০ ডিসেম্বর। কিন্তু সেদিন তো ভোট হয়নি। ভোট হয়েছে ২৯ ডিসেম্বর রাতে। তাহলে এটা কোন সরকার? এটা কোনো সরকারই না।
যুবলীগের সম্রাট কাকে কাকে ক্যাসিনোর টাকার ভাগ দিয়েছে তা মানুষ শুনতে চায় উল্লেখ করে রব বলেন, কেন তাকে (সম্রাট) গ্রেফতার করতে দেরি হলো? বাজারে অনেক গুজব আছে। অনেক মন্ত্রী, শত শত এমপির নাম আছে। আপনারা দেশের মানুষকে সন্দেহের মধ্যে থাকতে দিবেন না, জিনিসটা পরিস্কার করেন। সম্রাট বলুক কাদের কাদের সে টাকা দিয়েছে। এটা আমরা জানতে চাই।
বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ কে হত্যা করা হয়নি, বাংলাদেশকে হত্যা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা, জেএসডি সভাপতি আসম আবদুর রব। তিনি বলেন, আবরারকে কেন হত্যা করা হয়েছে সেটি জানতে হবে। আবরার বাংলাদেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে বিদেশের কাছে দেশের সম্পদ পানি, গ্যাস, সীমান্ত এগুলো বিলিয়ে দেয়ার জন্য যে চুক্তি হয়েছে সেগুলোর বিরুদ্ধে একটা পোস্ট দিয়েছে ফেসবুকে। আমরা শুধু আবরারের হত্যার বিচার চাইলে হবে না, তাকে কেন হত্যা করা হয়েছে সেটি জানতে হবে। এর মাধ্যমে একজন মানুষ হত্যা করা হয়নি পুরো জাতিকে হত্যা করা হয়েছে, পুরো দেশকে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্যকে ধ্বংস করা হয়েছে।
গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, বর্তমান সরকার মানুষের কাছে ঘৃণিত একটি সরকার। সবাই বলতে পারেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে মানুষ কেন রাস্তায় নামছেন না। গাদ্দাফি ও সাদ্দাম হোসেনের সময় মানুষ কতবার নেমেছে খোঁজ করেন। বাংলাদেশের সরকারও একটা অত্যাচারিত সরকার। তারা যে রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে এসেছে তা ভাঙতে কষ্ট হবে, কিন্তু ভাঙা যাবে।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাবন্দী রাখা হয়েছে। তাকে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে এটাও বলছি, আবরারের বাবা তার ছেলে হত্যার বিচার পাবে কি-না জানি না, কিন্তু আওয়ামী লীগের ১১ বছরে আমি আমার বাবার হত্যার বিচার পাইনি।
তিনি আরও বলেন, ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে আমরা গণস্বাক্ষর কর্মসূচি ঘোষণা করব। যার নাম দেয়া হবে রক্তের অক্ষরে শপথের স্বাক্ষর। একদিন এদেশে গণতন্ত্র ফেরত আসবে- এই ওয়াদা আমি করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ