মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

পেঁয়াজের ঝাঁঝে মানুষের নাভিশ্বাস

বেড়েই চলছে পেঁয়াজসহ শাক-সবজির দাম গতকাল তোলা ছবি -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : দফায় দফায় বেড়েই যাচ্ছে পেঁয়াজের দাম। পেঁয়াজের দামে লাগাম টানার কেউ নেই।  পেঁয়াজের ঝাঁজে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। এক লাফে ১২০ টাকা কেজি দরে  পেঁয়াজের দাম উঠার পর চারদিকে হইচই পড়ে গিয়েছিল। তড়িঘড়ি করে মিয়ানমার ও মিশর থেকে  পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। গত সপ্তাহে  পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমে ৮০-৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু চলতি সপ্তাহে আবার দাম বেড়ে গিয়ে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যটি। এদিকে রাজধানীর বাজারে সবজিতে ভরপুর থাকলেও দাম কমছে না। বরং উল্টো বেশ কয়েকটির দাম আরো বেড়েছে। আলু ও কাচাঁ মরিচের দাম উল্লেখজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে এ চিত্র দেখা গেছে। রাজধানীর বাজারে দেখা গেছে, প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা থেকে ১১৫ টাকা কেজি দরে, আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, আমদানি করা মিশরের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। অথচ এক সপ্তাহ আগে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৮৫ টাকা থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে, আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ ৭০ থেকে ৭৫ টাকা, আমদানি করা মিশরের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি দরে।
বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ থাকলেও এর বাড়তি দাম যেন মানতে পারছেন না ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ বাজারে পেঁয়াজে ভরপুর। এছাড়া আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারে আসছে প্রতিনিয়ত সেক্ষেত্রে দর বাড়ার কোনো কারণই নেই।
এদিকে, খোলা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি অব্যাহত রেখেছে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। সেখানে কেজিপ্রতি ৪৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে। একজন ক্রেতা টিসিবির ট্রাক সেল থেকে সবোর্চ্চ দুই কেজি পর্যন্ত পেঁয়াজ কিনতে পারেন।
এদিকে সবজির বাজারে অস্থিরতা রয়েই গেছে। গত এক দেড় মাস থেকে বাজারে টমেটো, শিম ও গাজর বাজারে অবস্থান করলেও দাম কমছে না সবজিগুলোর। এখনো বাজারে টমেটো ও শিম বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি। আর গাজর বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি। শীতের সবজি ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস ৩০ থেকে ৪০ টাকা। আর মুলা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি।
এদিকে গত সপ্তাহের থেকে কিছুটা দাম বেড়ে বাজারে বরবটি, ঢেঁড়স, কাঁকরোল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। পাশাপাশি পটল ও ঝিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে একই দামে। তবে বেগুন, করলা, উস্তা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি। আর একটু কম দামের তালিকায় রয়েছে মিষ্টি কুমড়া ও পেঁপে। বাজারে প্রতি কেজি মিষ্টি কুমড়া বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি। আর পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা কেজি।
এদিকে হঠাৎ করেই বেড়েছে কাঁচা মরিচ ও আলুর দাম। প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি। যা গত সপ্তাহেও বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। আর বাজারে কেজিপ্রতি আলুর দাম বেড়েছে ৫ থেকে ৮ টাকা। যে আলু গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ১৮ থেকে ২২ টাকা। তা এখন বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ২৮ টাকা।
এদিকে মাছের বাজারে দেখা যায়, তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকা, শিং মাছ ৪০০-৭০০ টাকা, মাগুর ১৮০-২০০ টাকা, সুরমা ৪৫০ টাকা, পাঙ্গাস ১৩০ টাকা, রুই ২৩০-৩০০ টাকা, কাতলা ২৫০-৩০০ টাকা, কোরাল ৪৫০-৮০০ টাকা, ছোট ইলিশ ৬৫০-৮০০ টাকা, বড় ইলিশ ১২০০-১৫০০ টাকা এবং প্রতি কেজি রূপচাঁদা বিক্রি হচ্ছে ৬০০-১২০০ টাকায়।
এদিকে বেড়েছে মুরগির দামও। ব্রয়লার মুরগির ১৩০-১৪০ টাকা, কক মুরগি ২৪০-২৫০ টাকা, লেয়ার মুরগি ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের ডিম প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায়। এছাড়া প্রতিকেজি গরুর গোশত বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৫৭০ টাকা। আর খাসির গোশত বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ