মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি দাবিতে মৎস্যজীবী দলের বিক্ষোভ মিছিল

দেশবিরোধী চুক্তি বাতিল, আবরার হত্যার বিচার ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গতকাল শুক্রবার রিজভীর নেতৃত্বে মৎস্যজীবী দলের মিছিল -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : ভারতের সাথে অবৈধ চুক্তি ও বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে হত্যার প্রতিবাদে এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে গতকাল শুক্রবার সকাল ১০-৩০টায় জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে আবারও বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিকট এসে শেষ হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। মিছিলে অংশ নেন জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের যুগ্ম আহবায়ক নাদিম চৌধুরী, অধ্যক্ষ সেলিম মিয়া, জাকির হোসেন খান, ওমর ফারুক পাটোয়ারী, লোকমান হোসেন হাওলাদার, শাহ আলম, জহিরুল ইসলাম বাশার, এম এ হান্নান, কবির উদ্দিন মাষ্টার, সাইদুল ইসলাম টুলু, সদস্য শহিদুল ইসলাম পামেল, জাহিদুল আলম মিলন, হিমু, তানভীর আহমেদ, আহমেদ সোহেল মামুন এবং মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরের মৎস্যজীবী দল নেতৃবৃন্দ।
মিছিল শেষে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের আহবায়ক রফিকুল ইসলাম মাহতাবের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আব্দুর রহিমের সঞ্চালনায় এক পথসভায় বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন,“বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা নিছক একটি হত্যাকান্ড নয়। আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ ও চিন্তা  চেতনায় যে পচন ধরেছে-আবরার হত্যা তারই নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। অবৈধ চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসই ছিল আবরার ফাহাদের অপরাধ। আবরার বাংলাদেশের স্বার্থের পক্ষে, বাংলাদেশের জনগণের ন্যায্য অধিকারের পক্ষে কথা বলায় এ দেশীয় তাবেদাররা তাকে সহ্য করতে পারেনি। আর পারেনি বলেই আবরারকে নির্মমভাবে হত্যা করে আধিপত্যবাদী অপশক্তি বাংলাদেশের বিরোধী গোষ্ঠীকে তারা একটি সতর্ক বার্তা দিয়েছে। তাই আবরারের মৃত্যু কোনো সাধারণ মৃত্যু নয়। তবে আবরারের মৃত্যু দেশপ্রেমিক জনগণকে একটি সুষ্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, আর তা হলো সাহসিকতার সাথে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে বর্তমান আওয়ামী জুলুমবাজ সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। আর এই বার্তা থেকেই বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও সর্বস্তরের মানুষ আবরার হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে। আধিপত্যবাদী অপশক্তি এবং তাদের এ দেশীয় দোসরদের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক জনগণের আন্দোলনের মূর্ত প্রতীকে পরিণত হয়েছেন শহীদ আবরার ফাহাদ। আবরার ফাহাদ বর্তমান দুরাচার সরকারের বিরুদ্ধে কেবল বলিষ্ঠ কন্ঠস্বরই নয়, শহীদ আবরার এখন দেশপ্রেমের প্রতীক।
শেখ হাসিনা প্রায়শ:ই তার নিজের স্বজন হারানোর কথা বলে কাঁদেন। স্বজন হারানোর সুবিধাভোগী হিসেবে তিনি কয়েকবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। আপনজনকে হারিয়ে আপনি যেমন ব্যথাতুর হন, অন্যদিকে আপনার শোষণ-পীড়ণে বাংলাদেশের হাজার হাজার পরিবার আজ সর্বশান্ত, স্বজনহীন-গৃহহীন। তারা নীরবে-নিভৃতে কাঁদেন, কিন্তু তাদের কান্না তো টেলিভিশনে দেখানো হয় না।
এই অবৈধ সরকারের লোকজনের দ্বারা কোন হত্যাকান্ডের পর যখন আর সামাল দিতে পারে না, তখন তারা নাটক তৈরী করে। ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য সরকার অনুগত প্রচার মাধ্যমকে ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালায়। হত্যার শিকার হতভাগ্যের পিতা-মাতা বা স্বজনদের গণভবনে ডেকে নিয়ে সান্তনার নামে প্রহসনের নাটক তৈরী করা হয়। প্রধানমন্ত্রী হত্যাকারীকে সর্বোচ্চ শান্তির গ্যারান্টি দেন বটে, কিন্তু নিহত ব্যক্তির নামে অপপ্রচার চালাতে থাকেন। যেমন আবরার ফাহাদ হত্যাকে শিবিরের কর্মী সন্দেহে হত্যা হিসেবে চালানো হচ্ছে। একইভাবে শহীদ আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ডের পর ফুঁসে ওঠা আন্দোলনকে স্তিমিত করার জন্য তার পিতা-মাতাকে ডেকে নেয়া হয় গণভবনে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী আবরার ফাহাদ হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। জনগণ নিশ্চয়ই ভুলে যায়নি যে, ইতোপূর্বে ইলিয়াস আলীর স্ত্রী-সন্তানদেরও গণভবনে ডেকে নিয়ে সান্তনা দেয়া হয়েছিল। তাকে উদ্ধার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। কিন্তু আজও ইলিয়াস আলীর পরিবার তার সন্ধান পায়নি। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির মা-বাবাও গণভবনের আশ্বাস পেয়েছিলেন। বিশ্বজিৎ এর মা-বাবা, নুসরাতের মা-বাবা, তনুর বাবাকেও গণভবনে ডেকে নিয়ে বিচারের গ্যারান্টি ও সান্তনা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এই সব মামলার কি পরিণতি হয়েছে দেশবাসী তা জানেন। এদেশের জনগণ এই গণভবনের নাম পরিবর্তন করে ‘সান্তনা ভবন’ নামে ডাকতে শুরু করেছেন। ডাক্তারের ‘সরি’ শব্দটি যেমন রোগীর স্বজনের কাছে চরম ভয়ংকর, গণভবনের ‘সান্তনা’ শব্দটিও স্বজনহারাদের কাছে তেমনই ভয়ংকর ! সান্তনার নামে গণভবনের এই প্রহসন যেন দেশবাসীকে আর দেখতে না হয়।
দেশের সর্বস্তরের মানুষের অব্যাহত দাবী সত্বেও শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ জনপ্রিয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী। সরকার দেশনেত্রীকে কোনভাবেই মুক্তি না দিয়ে কারাগারে হত্যার নীলনকশা বাস্তবায়নে জোরালো তৎপরতা চালাচ্ছে। এখন আওয়ামী লীগের নেতারা প্রকাশ্য জনসমাবেশে বুক ফুলিয়ে ঘোষনা করছেন বেগম খালেদা জিয়াকে আমৃত্যু কারাগারে বন্দী রাখা হবে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে বাকি জীবন কারাগারেই কাটাতে হবে।’ তার কথায় প্রমান হয়, দেশে আইন আদালত, বিচার-আচার কিছুই নেই। ক্ষমতাসীন দলের ফ্যাসিষ্টরা প্রকাশ্য রাজপথেই রায় ঘোষনা করছেন। তাদের কত বড় স্পর্ধা হলে এদেশের চারবারের প্রধানমন্ত্রী, সর্বকালের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জীবন্ত কিংবদন্তী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দী রেখে হত্যার হুমকী দিতে পারে !
কিন্তু চারদিক থেকে পতনের আওয়াজ শুনে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েছে বর্তমান অবৈধ সরকার। দেশের মানুষের দু:সাহসী আন্দোলনের ভয়ে তাদের অন্তরাত্মায় ভূমিকম্পণ সৃষ্টি হয়েছে। দেশনেত্রীকে রাজনীতি এবং নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রেখে একতরফাভাবে নির্বাচন করার পর এখন তাদের ভয়ের মাত্রা আরো বেড়ে গেছে। এ কারনে দেশনেত্রীকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। সুচিকিৎসা না দিয়ে বন্দী রেখে একজন মহিয়সী নারীর ওপর ইতিহাসের বর্বরতম নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, অবিলম্বে দেশনেত্রীকে মুক্তি দিয়ে সুচিকিৎসার সুযোগ দিন। অন্যথায় তার সকল দায়-দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। জনগণ অন্যায়কারীদের হিসাব রাখছেন। তারা সব কড়ায়-গন্ডায় বুঝে নিবে। জনগণের ধৈর্য ও সহ্যের বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। মিডনাইট ভোট ডাকাতির পর গোটা দেশের ভোট বঞ্চিত মানুষ এমনভাবে ক্ষিপ্ত হয়ে আছে যে, গণবিস্ফোরণ শুরু হলে গণভবনের ইট পাথরও থাকবে না। আমি আবারও অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।” 
বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এর নেতৃত্বে মিছিল শুরু হলে মিছিলে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা ভারতের সাথে অবৈধ চুক্তি ও বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে হত্যার প্রতিবাদে এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে শ্লোগান দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ