শুক্রবার ০৫ জুন ২০২০
Online Edition

উল্লাপাড়ায় ভুয়া এনজিওর নামে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

 

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় শাপলা সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট (শাপলা এস,ডি) নামের একটি ভুয়া এনজিওর পরিচালক যুবলীগ নেতা আব্দুল মজিদ ও নির্বাহী পরিচালক আবু সামার বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে সদস্যদের কাছ থেকে গৃহিত প্রায় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে। উল্লাপাড়ায় ওই সংস্থার ২৬টি শাখা অফিস খুলে কয়েক হাজার মানুষের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ওই অর্থ হাতিয়ে নিয়ে আত্মসাৎ করেছে । উপজেলার কয়ড়া বাজারের সেলুন শ্রমিক আবু সামা ও তার ছেলে কয়ড়া ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা আব্দুল মজিদ প্রায় ৫ বছর আগে ৯৭৮ নম্বর রেজিষ্ট্রেশন ব্যবহার করে কয়ড়া বাজারে কথতি এনজিও ব্যবসা শুরু করে। এরপর থেকে ওই সংস্থা উল্লাপাড়া পৌরসভা, মোহনপুর, দূর্গানগর, উল্লাপাড়া সদর, সলপ, বড় পাঙ্গাসী ও উধুনিয়া ইউনিয়নে প্রায় ২৬টি শাখা অফিস খোলা হয়। শাখা অফিসগুলোর কর্মচারীদের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে কয়েক হাজার সদস্য করা হয়। সদস্যদেরকে সাপ্তাহিক ও মাসিক সঞ্চয়ের টাকা জমার বই দেয়া হয়। এটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে সদস্যদের কাছ থেকে বিভিন্ন মেয়াদের ৫০ টাকা থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত মাসিক ডিপিএস এর টাকা জমা নেওয়া হয় । সদস্যগণ এই সংস্থা থেকে ঋনও গ্রহণ করে কিস্তির মাধ্যমে তা পরিশোধও করেছেন। পরবর্তীতে সদস্যরা ঋন পরিশোধ করে তাদের সঞ্চিত অর্থ নিয়ম মাফিক ফেরত চাইলে কাউকেই তা পরিশোধ করা হচ্ছে না। সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, তাদের সঞ্চয়ের টাকা ফেরত চাইতে সংস্থার অফিসে গেলে আবু সামা ও তার ছেলে যুবলীগ নেতা আব্দুল মজিদ সদস্যদেরকে গালিগালাজসহ তাদের নিজস্ব লোকদিয়ে অনেক সদস্যকে মারপিট করে হাত থেকে সঞ্চয়ের বই ছিনিয়ে নিয়ে তা ছিঁড়ে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনায় সদস্যগণ উল্লাপাড়া থানায় উল্লেখিত এনজিওর দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের একাধিক অভিযোগ পত্র দায়ের করেছেন। একই সাথে তারা কয়ড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ দেন। উপজেলার কয়ড়া ইউনিয়নের কৃষ্টপুর এলাকার শামছুল আলম অভিযোগ করেন, তিনি তার স্ত্রীর নামে ওই সংস্থায় মাসিক ৫০০ টাকা করে সঞ্চয় জমা দিতেন। মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তিনি ওই এনজিওর অফিসে গিয়ে জমাকৃত টাকা ফেরত চাইলে টাকা না দিয়ে উল্টো সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আবু সামা ও পরিচালক যুবলীগ নেতা আব্দুল মজিদ তাকে প্রকাশ্যে কয়ড়া বাজারে মারধর করে । এমন আরো অভিযোগ  করেছেন সড়াতলা গ্রামের রাসেল বাবু, সবুজ আলী, জাহের আলী, আবু মোন্নাফ, আব্দুল আলিম, মিনা খাতুন, রেজিয়া খাতুন, শিউলি খাতুন, মর্জিনা খাতুনসহ আরো অনেকে।  তাদের অভিযোগ উল্লেখিত সংস্থার দুই পরিচালক ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতার ছত্র ছায়ায় থেকে প্রভাব বিস্তার করে তাদের তিল তিল করে জমানো অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তারা টাকা ফেরত চাইলেই উল্লাপাড়া শহর থেকে ভাড়াটে মাস্তান এনে তাদের হুমকি দেয়া ও মারপিট করা হয়। সদস্যরা পাওনা টাকা চাওয়া শুরু করলে বিভিন্ন ইউনিয়নের শাখা অফিসগুলো বন্ধ করে দিয়ে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদেরকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। অভিযোগ কারীরা এ ব্যাপারে উক্ত দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার জন্য উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। শাপলা সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট (শাপলা এস,ডি) নামের এনজিওটি সম্পর্কে উল্লাপাড়া উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় ও সমবায় কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এই নামের কোন এনজিওর রেকর্ড তাদের অফিসে নেই। এমনকি নিবন্ধন নম্বরটিও ভুয়া। সংশ্লিষ্ট অফিস কর্মকর্তারা বলছেন, এ ভাবে মাঠ পর্যায়ে কোন বেসরকারি এনজিও সংস্থা গঠন করে সঞ্চয় গ্রহণ ও ঋণ বিতরন কার্যক্রমের কোন রকম বৈধতা নেই।  এ ব্যাপারে শাপলা এস,ডির নির্বাহী পরিচালক আবু সামার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, যেসকল সদস্যের নিকট থেকে তিনি অর্থ সংগ্রহ করেছেন, তা তিনি পর্যায়ক্রমে ফেরত দিয়ে দেবেন বলে আবু সামা স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদেরকে এ ব্যাপারে কোন সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান। শাপলা এস,ডির এনজিওর জালিয়াতির অভিযোগ প্রসঙ্গে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরিফুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি প্রতারিত হওয়া সদস্যদের অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন এবং ইতোমধ্যেই উল্লাপাড়া মডেল থানা পুলিশকে তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ