বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

আবরারের খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে?

এইচ এম আব্দুর রহিম : চেতনার  গভীরে এক বড় ক্ষতের সৃষ্টি করেছে আবরারের মৃত্যু। আবরার এমন কী অপরাধ করে ছিল, যা একবারে ক্ষমার অযোগ্য ছিল? আবরারের মত একজন মেধাবী ছাত্রকে তার নিজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পিটিয়ে মেরে ফেলতে হল? দেশের  সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ বুয়েট, যেখাানে শুধু এ দেশের মেধাবী সন্তানরাই ভর্তি হওয়ার ও পড়ালেখা করার সুযোগ পায়। সুদীর্ঘকাল ধরেই এ বিদ্যা পিঠ অন্য রকম সুনাম বজায় রেখে চলেছে। আমার জানা মতে,এ প্রতিষ্ঠানে যারা পড়াশোনা করে তাদেরকে এ দেশের শিক্ষিত সমাজ সমীহ করে, সম্মান করে, ভালোবাসে এরাই জাতির ভবিষ্যৎ। দেশ গড়ার কারিগর। কিন্তু আজ আমরা কি দেখছি? আবরারের মত একটি নিরীহ মেধাবী,স্বল্প ভাষী, ছাত্র কে তারা পিটিয়ে মেরেই ফেলল? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবরারের মারার ভিডি ও চিত্র দেখে সহ্য করতে পারেনি। চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি।

 এত অল্প বয়সি ছেলেরা তাদের সহপার্টিকে বিনা অপরাধে এমন নির্মম, নিষ্ঠুরভাবে পিটিয়ে একেবারে মেরে ফেলতে পারে! এ কি সম্ভব! এ সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠকে এমন কলঙ্কিত করতে পারে?

  গত ৫ই অক্টোবর কুষ্ঠিয়ার কুমার খালির নিজবাড়ী থেকে বুয়েটের শেরে বাংলা হলে ফিরছিলেন। সংবাদ মাধ্যমের খবর,গভীর রাতে তাকে একই হলের দোতালায় একটি কক্ষে ডেকে নেয়া হয়। সেটা ছাত্র লীগ কর্মীদের বিশেষ কক্ষ। এখানে সাধারণ ছাত্র ও সাংবাদিক দের ধরে নিয়ে শাস্তি দেয়া হত। কিল থাপ্পড়,পেটানোর ঘটনা অহরহ ঘটত। এটি সাধারণ ছাত্রদের কাছে চর্টার রুম হিসেবে পরিচিত। এই রুমে আবরার কে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কি অপরাধ করে ছিল ছেলেটি? আবরার ফেসবুকে ভারত ও বাংলাদেশ সর্ম্পকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে ছিল। সে লিখে ছিল, “১.৪৭এ দেশভাগের পর দেশের পশ্চিমাংশে কোন সমুদ্র বন্দর ছিল না। তৎকালিন সরকার ৬ মাসের জন্য কলকাতা বন্দর ব্যবহারের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ করল। কিন্তু দাদারা নিজেদের রাস্তা নিজেদের মাপার পরামর্শ দিচ্ছিলো।বাধ্য হয়ে দুর্ভিক্ষ দমনে উদ্বোধনের আগে মংলা বন্দর খুলে দেয়া হয়ে ছিল। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ ইন্ডিয়াকে সে মংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য হাত পাততে হচ্ছে।

২. কাবেরি নদীর পানি ছাড়াছাড়ি নিয়ে কানাড়ি আর তামিলদের কামড়া কামড়ি নিয়ে কয়েক বছর আগে শিরোনাম হয়ে ছিল। যে দেশের এক রাজ্য কে পানি দিতে চাই না। সেখানে আমরা বিনিময় ছাড়া দিনে দেড় লাখ কিউবিক মিটার পানি দিব।

৩. কয়েক বছর আগে নিজেদের সম্পদ রক্ষার দোহাই দিয়ে উত্তর ভারত কয়লা পাথর রপ্তানি করা বন্ধ করেছে।অথচ আমরা গ্যাস দিব। যেখানে গ্যাসের অভাবে দেশের কারখানা বন্ধ করা লাগে সেখানে নিজেদের গ্যাস দিয়ে বন্ধুর বাতি জ্বালাব।” 

এ স্ট্যাটাসে কারো প্রতি অবমাননাকর কিছু নেই, গালি নেই, অশালিন কিছু নেই।এটি বাংলাদেশ ভারত চুক্তি নিয়ে অভিমত। বুদ্ধিদীপ্ত স্ট্যাটাস। আর অন্য কিছু থাকলে তা দেখার দায়িত্ব ছাত্রলীগের নয়। দুই দেশের সমঝোতা স্মারক নিয়ে মতামত দেওয়ার অধিকার সবার আছে।এটা কারো অপছন্দ হলে পাল্টা যুক্তি বক্তব্য দিতে পারে। কিন্তু কাউকে পিটিয়ে হত্যা করা যায়?

গণতন্ত্রের মর্ম বাণী হচ্ছে- তোমার কথা শুনলে আমার গা জ্বালা ধরে, খুন চড়ে যায়-তবুও তোমার কথা শুনবো। তোমার কথা বলার অধিকার রক্ষায় যদি প্রাণ দিতে হয় তাও দেব।

বলা হচ্ছে আবরার শিবির কর্মী কিন্তু তার প্রমাণ মিলছে না। তার পরিবার ও অস্বীকার করেছে। যদিও শিবির কর্মী হয় তাকে হত্যা করা যাবে এই লাইসেন্স ছাত্রলীগকে কে দিল?

 আজ পিতামাতারা কি ছেলে মেয়েদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে চিন্তামুক্ত থাকতে পারবেন? সন্তানের অমঙ্গল কিংবা মৃত্যু  চিন্তায় প্রতিটি মুহূর্ত পার করতে হবে? দেশে যতগুলি প্রতিষ্ঠান আছে বুয়েট কে সবাই স্বতন্ত্র রাজনীতি মুক্ত কিংবা দলাদলির ঊর্ধ্বে মনে করত। যে প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীরা লেখা পড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকত। কিন্তু আমাদের সব চিন্তা চেতনা কে ধুলিসাৎ করে এ বিদ্যাপিঠটির গায়ে কালিমা লেপন করল। কিছু ছাত্র নামধারী, উগ্র, বর্বর, পশু। 

এসব বর্বর শিশুর অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের অমানবিক, মূল্যবোধহীন, বর্বর পশু হিসেবে গড়ে তুলেছে। তথাকথিত জিপিত্র-৫, কিংবা গোল্ডেন-৫ পাওয়ার জন্য, নামি দামদামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করার জন্য শুধু কোচিং সেন্টারে পাঠিয়ে কিংবা ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র উচ্চ মূল্যে ক্রয় করে এসব অমানবিক মূল্যবোধহীন সন্তান গড়ে তুলেছে!

সন্তান শুধূ মেধাবী হলেই হবে না,সে একজন মানবিক গুনাবলী সম্পন্ন মানুষ হিসাবে গড়ে উঠছে কি না,সে দিকে অভিভাবকদের দৃষ্টি রাখতে হবে। এর পাশাপাশি যে বিদ্যাপীঠটায় পড়াশুনা করছে,সেখানকার শিক্ষকরা মানবতাবোধ সম্পন্ন হিসাবে গড়ে তুলতে ব্যর্থ তার পরিচয় দিয়েছেন। পরিবার, সমাজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্তানদের নীতিনৈতিকতা যথাযথভাবে শিখানো হচ্ছে না। সবত্র চলছে প্রতিযোগিতা। অভিভাবকরা এক বিরাট প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছেন। একটি ভাল রেজাল্টের জন্য সন্তান কে যন্ত্রদানব বানাতে দিন রাত মাথার ঘাম পায়ে ফেলছেন। শুধুই ভালো রেজাল্ট চাই। সন্তানদের মধ্যে নীতিনৈতিকতা, মানবতা, মূল্য বোধ শিষ্টাচার, সহমর্মিতা, সহনশীলতা ইত্যাদি জাগ্রত হচ্ছে কি না। আর্দশ সন্তান হিসাবে গড়ে উঠছে কিনা, এসব দেখার সময় আর নেই।

 শিশুরা প্রাথমিক শিক্ষা  গ্রহন করে। প্রথমে তাদের পরিবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,পরিবেশ এবং সর্বোপরি সমাজ থেকে। কিন্তু আমাদের চার পাশে যা ঘটছে তাতে শিশুরা কি শিক্ষা গ্রহন করবে? এ অসুস্থ্য অনৈতিক প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে না আসতে পারলে এ জাতি এক সময় অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে বা মেধা শূণ্য জাতিতে পরিনত হবে। সে সময় মনে হয় আর বেশী দুরে নয়। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যাতে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে এ জন্য এবং যে কোন অন্যায় এবং নীতি বিবর্জিত কাজ থেকে দুরে থাকতে পারে সে জন্য শিক্ষক অভিভাবকদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। এ বিষয়ে গন মাধ্যমগুলোতে প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে সচেতনমূলক কর্মকান্ড বৃদ্ধি করতে হবে শিক্ষা ক্ষেত্রে নৈরাজ্য অবিলন্বে দুর করে শিক্ষার সুষ্ট পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। আমরা গর্ব করে বলি বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দেশ। গণতন্ত্র মানেকি? গণতন্ত্র মানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা । প্রতিটি মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতা,প্রতিটি মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে গণতন্ত্রে। 

এক জনের মতের আর একজনের মতের মিল না থাকতে পারে। মতের মিল না হওয়া মানে এই নয় যে, আমি তাকে পিটিয়ে হত্যা করব। আমরা এ কোন বর্বর সমাজে বসবাস করছি। ক্ষমতা অর্থ প্রতিপত্তি মানুষকে অন্ধ করে দেয়। বাংলাদেশ প্রকৌশলি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদ কোন গর্হিত কাজ না করে ও র্নিমমভাবে জীবন দিতে হল ছাত্র লীগের অস্ত্রধারীদের হাতে।

 সরকারি দলের অঙ্গ সংগঠন ছাত্রলীগের নাম ধারি কিছু সদস্য তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে। স্বাভাবিক কারণে এ হত্যাকান্ডটি দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সরকারি দলের অঙ্গ সংগঠন গুলো একের পর এক অপরাধ করে চলেছে এ নিয়ে দেশের নাগরিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সরকার বিষয়টি জেনে ও কেন নিয়ন্ত্রন করতে পারছে না তা নিয়ে জনমনে হাজার প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। আবরারেরর মৃত্যু নিয়ে দেশের মধ্যে কিছু দিন আলোচনা সমালোচনা চলবে। এ ঘটনায় দেশের মিডিয়াগুলোতে ব্যাপক প্রচারণা পেয়েছে। এটি সরকারি দলের পক্ষে অন্তত ভাল কাজ হয়েছে। 

আর ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি নিয়ে যে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে ছিল তা আবরারের মৃত্যুপর তা কিছুট থিতিয়ে আসবে। লক্ষণীয়,যুব লীগের স¤্রাটসহ অন্যদের গ্রেফতারের পর দেশের প্রধান মিডিয়াগুলোয় কথিত নেতাদের গঠিত সাম্রাজ্য ও অবৈধ অর্থ উর্পাজনের কিচ্ছা কাহিনী নিয়ে যে বিরাট আকারের শিরোনাম হয়ে আসছিলো সে শিরোনামের জায়গা এখন দখল করে নিয়েছে আবরার হত্যাকান্ডের ঘটনা ।

 কাকতালীয়ভাবে  আবরার হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ঘটেছে স¤্রাটের গ্রেফতারের পর দিন। মানুষ এ নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন কিছু দিন। চিহ্নিত মিডিয়া এ নিয়ে হই হুল্লোড় করবে কিছু দিন পরিকল্পনা মাফিক। কথিত থিঙ্কট্যাঙ্কের সদস্যদের ইলিকট্রিক মিডিয়ায় বিভিন্ন টকশো গুলোতে এ নিয়ে নানা বিচার বিশ্লেষণ করতে দেখা যাবে। ধীরে ধীরে ক্যাসিনো কেলেঙ্কারী দৃশ্যের অন্তরালে ঢাকা পড়ে যাবে। একই উপায়ে আবরারের এই ঘটনা ভারত বাংলাদেশের মধ্যে সাম্প্রতিক স্বাক্ষরিত চুক্তি নিয়ে দেশের নাগরিকের ভেতর যে ব্যাপক মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে তা সমালোচনার আড়ালে চলে যাবে। 

আবরার মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি প্রকৌশলি বিশ্ব বিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল এ্যন্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ার বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী। গ্রামের বাড়ী কুষ্টিয়া। বিভিন্ন মিডিয়ায় আবরার সর্ম্পকে যে খবর বেরিয়েছে তাদে জানা যায়,তিনি গত ৫ই অক্টোবর তার ফেসবুক আইডিতে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের পানি সমস্যা ও ভারতের বাংলাদেশের সমুদ্র বন্দর ব্যবহার নিয়ে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় তার ক্ষতিকর বিষয়টি  সমালোচনা করে একটি পোষ্ট দিয়ে ছিলেন।  এ ছাড়া তিনি কাশ্মীরে ভারতের আগ্রাসন নিয়ে বেশ সোচ্চার ছিলেন। আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় কর্ণনায় যতটুকু জানা যায়,ছাত্রলীগ কর্মীরা আবরারের সেল ফোন ব্যবহার করে আপত্তিকর পোস্ট পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে। আবরারের ভারত বিরোধী বক্তব্য ছিল ছাত্রলীগের কর্মীদের কাছে আপত্তিকর পোস্ট। এ জন্য আবরারকে বেধড়ক পিটিয়ে হত্যা করেছে। কিন্তু বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিকদেশ। অতএব,এখানে ব্যক্তি স্বাধীনতা যেমন থাকবে তেমনই বাক স্বাধীনতা ও থাকার কথা। কিন্তু তাই বলে সরকারের সমালোচনা করলে কিংবা ভারত বিরোধী বক্তব্য রাখলে গর্হিত অপরাধ হবে-দেশে এমন কোনো আইন আছে বলে আমার জানা নেই। তবে বিগত বছরগুলোতে সরকার সমর্থক অঙ্গসংগঠনগুলোর দৌরাত্ম্য দেখে মনে হয় না দেশের কোনো আইনকে তারা মান্য করে। আমাদের দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এ ব্যাপারে উদাসীন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে তাদের সমীহ করে চলতে। আমি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার উল্লেখ করে আমার বক্তব্য স্পষ্ট করছি। ৭ ই অক্টোবর দৈনিক যুগান্তরের সপ্তম পাতায় দ্বিতীয় কলামের শিরোনাম ছিল, ‘প্রতিমন্ত্রীর সামনেই পুলিশকে মারধর ছাত্রলীগ কর্মীর।’। খবরটি পড়লেই বুঝা যাবে ছাত্রলীগের দৌরাত্ম্য কত দুর পৌছে গেছে। আমরা আমাদের সন্তানদের শিক্ষালয়ে পাঠাই মানুষের মতো মানুষ হতে, ব্যক্তি গত ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে। আমরা আমাদের সন্তানদের কে উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাই। লাশ হয়ে ফেরা অথবা খুন করে জেলের ঘানি টানার জন্য নয়।বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মেডিকেল কলেজে সাধারণত মেধাবী শিক্ষার্থীরা সুযোগ পেয়ে থাকেন। পিতা মাতা স্বপ্ন দেখেন তার সন্তান সমাজে সুপ্রতিষ্টিত হবে, বংশের মর্যাদা বৃদ্ধি করবে। আবরার হত্যায় জড়িত শিক্ষার্থীদের পিতামাতা ও একই স্বপ্ন দেখে ছিলেন। দিন দিন আমাদের সন্তানেরা যে অসভ্য মানুষের শিকারে পরিনত হচ্ছে,এর প্রতিকার কি? প্রতিহিংসা পরায়ণ এ আচরণের অবসান কবে হবে তার  উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না। আবরার কে হত্যার যে কারন পাওযা গেছে ভাবতে অবাক লাগে। আমরা এ কোন যুগে বসবাস করছি? দেশের স্বার্থের কথা বলা কি অপরাধ? স্বাধীন সার্বভোম দেশে বসবাস করে ভারতের অন্যায় আচরণের বিরুধে কথা বললে লাশ হতে হবে। এরশাদ আমলে ও এ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বসু নিয়া,নূর হোসেন ও ডা.মিলনরা নিজেদের জীবন কে উৎসর্গ করে প্রমাণ করে দেশের স্বার্থ রক্ষায় যে কোন আত্ম ত্যাগ সুফল বয়ে আনে। আবরার ফাহাদ যেন তাদের উত্তর সুরি। দেশের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে নিজেদের জীবন দান করে গেছেন। দেশের স্বার্থে তিনি যেন যে আজ বসুনিয়া,নূর হোসেন ও ডা.মিলনের মিছিলে শামিল হলেন।

লেখক : সাংবাদিক ও গবেষক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ