মঙ্গলবার ১৯ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

পাইকগাছার শাপলা ক্লিনিকে দুই প্রসূতির মৃত্যু ॥ এলাকায় উত্তেজনা

 

খুলনা অফিস : খুলনার পাইকগাছায় শাপলা ক্লিনিকে তিন দিনে দুই প্রসুতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। জানা যায়, বুধবার রাত ১১ টায় গজালিয়ার আলমগীর ফকিরের স্ত্রী মারুফা খাতুন (২৫) নামে এক গৃহবধূর প্রসব যন্ত্রণা শুরু হলে তাকে পাইকগাছা উপজেলা সদরের শাপলা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। এরপর রাত ১২ টার দিকে কপিলমুনি ১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের ডা. আব্দুর রব ও পাইকগাছা হাসপাতালের নীতিশ গোলদার তাকে সিজার করেন। মারুফা একটি কন্যা সন্তান প্রসব করেন। পরদিন বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মারুফার রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় ডাক্তার ডেকে আনলে একই রোগীর দ্বিতীয় দফার অপারেশনে তার জরায়ূ ফেলে দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন, রোগীর স্বজনরা। এ সময় মারুফা খাতুন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে বৃহস্পতিবার রাতে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সুকৌশলে তাকে খুলনার গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার ভোররাতে মারুফা মারা যায়। এর আগে মঙ্গলবার একই প্রতিষ্ঠানে কালুয়া গ্রামের মাসুম গাজীর স্ত্রী নাছরিন আক্তার (২০) এর সিজার করলে একটি কন্যা সন্তান হয়। ঐ রাতে তিনিও মারা যান। এদিকে গত ৩ দিনে দুই প্রসুতি মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় গোটা এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী মৃত্যুপুরী শাপলা ক্লিনিক বন্ধসহ সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। শাপলা ক্লিনিকের মালিক তাপস কুমার মিস্ত্রী ভারতে অবস্থান করায় তার কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি। 

তবে, ডা. আব্দুর রব জানান, রোগীর সিজার করেছি পরবর্তীতে রক্ত বন্ধ না হওয়ায় আরেকটি অপারেশন করে জরায়ূ কেটে ফেলে দেয়া হয়। তিনি সুস্থ ছিলেন, পরে কিডনি ফেল করলে খুলনা গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ