শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

চাকরি হারিয়ে পথে পথে যশোর মেডিকেল কলেজের ২৫ কর্মচারী

যশোর সংবাদদাতা : যশোর মেডিকেল কলেজের (যমেক) আউট সোর্সিং-এর ২৫ জন কর্মচারী (অফিস সহায়ক) চাকরি হারিয়ে এখন পথে পথে ঘুরছেন। ২০১২-১৩ অর্থ বছরে তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। গতকাল তারা চাকরি ফিরে পাওয়ার আশায় প্রেসকাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেও তার স্থগিত করেন।

যশোর মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গেছে, এক বছরের চুক্তিতে ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৬৫ জনকে ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে ঊষা এসসি লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তাদের নিয়োগ দিয়েছিলেন। এরপর থেকে প্রতিবছর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীরা কাজ করছিলেন। এ অবস্থায় ৬৫ জনের ভেতর ৪০ জন কর্মচারীকে রেখে ২৫ জনকে গত ৭ অক্টোবর ঊষা এসসি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. ফিরোজ হোসেন তাদের নিয়োগ বাতিল করে দেন। এরপর দরিদ্র এসব কর্মচারী চাকরি হারিয়ে পথে পথে ঘুরছেন। সেপ্টেম্বর হতে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত একমাস ৭ দিনে ৪১ লাখ ৬ হাজার ৬শ’ ৭৫ টাকা না দিয়ে তাদের ছাঁটাই করা হয়েছে। তাও অর্থবছর শেষ না করে বছরের মাঝামাঝি সময়ে ৫শ’ ৩৭ টাকা দৈনিক হাজিরা হিসেবে প্রতিমাসে ওই কর্মচারীরা ১৬ হাজার ১শ’ ৩০ টাকা করে বেতন পেতেন। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘ঊষা এসসি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফিরোজ হোসেন বলেছেন, সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা-৩ শাখার ১০ জুন ১৯ তারিখের চিঠি ও যশোর মেডিকেল কলেজের ১৫ সেপ্টেম্বর জারিকৃত পত্রে অফিস সহায়কের কোন পত্র নেই। তাই, যশোর মেডিকেল কলেজের অফিস সহায়ক পদ থেকে এসব ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের নিয়োগ বাতিল করে তাদের প্রত্যাহার করা হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, অফিস সহায়ক পদ বাতিল হলেও নতুন সৃষ্ট কোন পদে তাদের চাকরি হস্তান্তর করার বিষয়টি বিবেচনা না করেই আউট সোর্সিং কর্মচারীদের বাদ দেয়া হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছেন, যে কোন চাকরি থেকে বাদ দেয়ার একটা নিয়ম আছে। কিন্তু চলতি অর্থ বছরে নিয়োগ দেয়ার পর বছর শেষ না করে প্রায় অর্ধ কোটি রেখে তাদের চাকরি বাতিল করা হয়েছে। ঊষা এসসি লিমিটেড ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এর আগেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। চাকরির শুরুতেই ২০১২-১৩ অর্থ বছর থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের ৪/৫ মাস পর পর বেতন দেয়া হতো। একই সাথে প্রতিমাসে প্রত্যেক কর্মচারীর বেতন থেকে ৫ হাজার টাকা করে কর্তন করে আত্মসাৎ করা হতো। এ নিয়ে কর্মচারীরা কয়েকবার আন্দোলন শুরু করেছিল। কর্মচারীদের চাকরি বাতিল হওয়ার বিষয় নিয়ে যশোর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মো. গিয়াস উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এসব কর্মচারীদের নিয়োগ এক বছরের চুক্তিভিত্তিক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। এখন অফিস সহায়ক পদ নেই। তাই তাদের চাকরি নেই। অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. গিয়াস উদ্দিন আরও বলেন, তারপর তিনি মন্ত্রণালয়ে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করেন। চাকরি হারানো কর্মচারীদের অন্য কোন পদে নিয়োগ দেয়া যায় কি-না। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ