বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ছাত্রলীগ মনুষ্য চরিত্র হারিয়ে বন্য পশুর চরিত্র নিয়েছে

গতকাল রোববার নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: নোবেল পুরস্কার নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, নোবেল পুরস্কার র‌্যাব-পুলিশের হাতে নয় যে চাইলেই শেখ হাসিনাকে দেয়া সম্ভব। গতকাল রোববার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
আ জ ম নাছিরের বক্তব্য উল্লেখ করে রিজভী বলেন, পাগলরা এখন আওয়ামী লীগ করে নাকি আওয়ামী লীগ করলে মানুষ পাগল হয়ে যায়! পাগলে কি-না বলে ছাগলে কি-না খায়। মেয়র নাছিরের এই বক্তব্যে প্রমাণিত হয়, তিনি আসলেই আওয়ামী লীগ। অন্যথায় তার বোঝা দরকার ছিল, নোবেল পুরস্কার র‌্যাব-পুলিশের হাতে নয় যে চাইলেই শেখ হাসিনাকে দেয়া সম্ভব। কিংবা অনুগত দলদাস সাংবাদিক দিয়ে প্রচারণা চালিয়েও নোবেল পাওয়া সম্ভব নয়।
এ সময় সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রমকে গ্রেফতারে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপির এ নেতা। তিনি বলেন, শনিবার চিকিৎসা শেষে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার সাথে সাথে সাজানো মিথ্যা মামলায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী, খ্যাতিমান মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রমকে গ্রেফতার করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। প্রথমে বিমানবন্দর থানা পুলিশ গ্রেফতার করে পরে পল্লবী থানায় হস্তান্তর করে।
তিনি বলেন, এ গ্রেফতার সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানুষের চোখকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়ার অপকৌশল মাত্র। সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী হিসেবে তিনি পানির ন্যায্য হিস্যা ও দেশের স্বার্থের পক্ষে একজন নির্ভীক ভাষ্যকার। পানি চুক্তির চক্রান্তের নানাদিক তুলে ধরতে পারতেন সাবেক এ পানিসম্পদ মন্ত্রী। এ কারণেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার গ্রেফতার সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। আমরা এ মুহূর্তে তার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।
রিজভী আরো বলেন, প্রতিবেশী বন্ধুদের ফেনী নদীর পানি, চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দর, বঙ্গোপসাগরের উপকূল পর্যবেক্ষণে রাডার স্থাপনের অধিকার, আমদানিকৃত এলজিপি দিয়ে আসার এক সপ্তাহ না যেতেই সেই বন্ধুরাই আমাদের কয়েকজন র‌্যাব সদস্যকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে বেধড়ক পিটিয়ে ফেরত পাঠিয়েছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এত বড় অন্যায়ের খবর পত্রপত্রিকায় দেখে মানুষ ক্ষুব্ধ হয়েছে। এতো বড় ঘটনার পরও সামান্য প্রতিবাদ পর্যন্ত করলো না এই নিশুতি সরকার।
এ সময় বুয়েটের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, গতকাল নিশিরাতের সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হুমকি দিয়ে বলেছেন, ছাত্রদের ১০ দফা মেনে নেয়া হয়েছে আবার কিসের আন্দোলন? প্রথম কথা হচ্ছে, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ১০ দফা শেখ হাসিনা কিংবা তাদের নিয়োগকৃত উপাচার্য এমনিতেই মেনে নেয়নি, তাদের ১০ দফা দাবি মেনে নিতে বাধ্য করা হয়েছে। আবরার ফাহাদের মতো আর কোনো অসীম সম্ভাবনাময় জীবন যাতে ঝরে না যায় সেজন্য বুয়েটের শিক্ষার্থীদের এই ১০ দফা।
তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে অসম এবং অধীনতামূলক চুক্তির বিরুদ্ধে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার কারণে আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে বন্যপ্রাণীর মতো পিটিয়ে হত্যা করেছে ছাত্রলীগ। কী অপরাধ ছিল শহীদ আবরার ফাহাদের? সে তো বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলেছিল। লিখেছিল বাংলাদেশের স্বার্থের পক্ষে।
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে রিজভী বলেন, আজ বড় বিষন্নতার সাথে জানাচ্ছি, বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের প্রাণপ্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারিরীক অবস্থার আশংকাজনক অবনতি ঘটেছে। অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ব্যক্তিগত প্রতিহিংসায় ৬১৩ দিন যাবত বন্দী করে রেখেছেন তাকে। কারাগারে নেয়ার সময় সম্পূর্ণ সুস্থ দেশনেত্রী এখন হুইল চেয়ার ছেড়ে উঠতে পারেন না। তিনি কারও সাহায্য ছাড়া দাঁড়াতে পারেন না। নিজের খাবার নিজে খেতে পারেন না। মাথার চুলও বাঁধতে পারেন না। তার পোশাকও আরেকজনকে পরিয়ে দিতে হয়। হাত-পা শক্ত হয়ে গেছে। হাত-পায়ের আঙ্গুল ফুলে গেছে। এ অবস্থায় তিনি পিজি হাসপাতালের আট বাই দশ ফুটের ছোট্ট কক্ষে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এমনিতেই কারাগারের অস্বাস্থ্যকর কক্ষে অমানবিক পরিবেশের মধ্যে দেশনেত্রীর বন্দী রাখা হয়েছে। পঁচাত্তর বছর বয়সী নেত্রীর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে জীবন ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বারবার ইনস্যুলিন পরিবর্তন এবং ইনস্যুলিনের মাত্রা বৃদ্ধি করার পরেও কোন অবস্থাতেই তার সুগার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কোন কোন সময় এটি ২৩ মিলিমোল পর্যন্ত উঠে যাচ্ছে। সুগার নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে খাবারের পরিমান অনেক কমিয়ে দেয়াতে শরীরের ওজন অনেকখানি হ্রাস পেয়েছে। যথাযথ চিকিৎসার বিষয়ে আমরা বারবার দাবি করা সত্বেও দেশনেত্রীকে উন্নতমানের যন্ত্রপাতি বিশিষ্ট দেশের কোন বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। তার জরুরিভাবে উন্নত চিকিৎসা দরকার।
রিজভী বলেন, গত এক দশকে ছাত্রলীগ মনুষ্য চরিত্র হারিয়ে বন্য পশুর চরিত্র নিয়েছে। সেই চরিত্রেরই সর্বশেষ বহিঃপ্রকাশ বুয়েটে আবরার হত্যাকান্ড। ছাত্রলীগ একেকবার একটির চেয়ে আরেকটি ভয়ঙ্কর কান্ড ঘটানোর পর বেরিয়ে আসতে শুরু করে সারাদেশে তাদের ভয়ঙ্কর অপকর্মের কথা। এখন গণমাধ্যমে আলোচিত হচ্ছে, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রলীগের টর্চার সেলের কথা। এটি তো নতুন নয়। নিকট অতীতে, লগি বৈঠা হাতুড়ি চাপাতি নিয়ে সারাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের উপর ছাত্রলীগ যখন বর্বর আক্রমণ চালিয়েছিল, ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নির্যাতন চালিয়েছিল তখনও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিল ছাত্রলীগের টর্চারে সেলের কথা। তখন যদি ছাত্রলীগের বর্বরতার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হতো তাহলে আবরার হত্যাকান্ড ঘটতো না। ঠাণ্ডা মাথায় সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের একজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে ছয়টি ঘন্টা ধরে নির্যাতন করতে করতে মেরে ফেলার মতো নৃশংসতা কোনো সভ্য রাষ্ট্র কল্পনাও করতে পারেনা। আবরার হত্যাকাণ্ডের দায় ছাত্রলীগের অভিভাবক আওয়ামী লীগ এড়াতে পারে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ