সোমবার ০৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

দাবি আদায়ে অনড় শিক্ষার্থীরা

# আমি রাজা নই আমার হাত-পা বাঁধা -ভিসি
# হল থেকে ৯০ ভাগ অবৈধ শিক্ষার্থী উচ্ছেদ

স্টাফ রিপোর্টার : আমি রাজা নই আমার হাত-পা বাঁধা, তবে প্রধানমন্ত্রীর সাপোর্টে স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরানোর কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি (ভিসি) অধ্যাপক ড. সাইফ্লু ইসলাম। এ দিকে হলগুলোতে অবৈধভাবে অবস্থানকারী ৯০ ভাগ শিক্ষার্থীকে উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বুয়েটের ছাত্র কল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান। ছাত্র আন্দোলন দুইদিন শিথিল করার মধ্যে আজ সোমবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা।
গতকাল রোববার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বুয়েটের ভিসি বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যৌক্তিক কিন্তু সব দাবি আমার হাতে না। তাদের কিছু দাবি সরকারের হাতে। এটা তাদের বুঝতে হবে। আমি সেদিন এই কথাটায় শিক্ষার্থীদের বুঝাতে চেয়েছিলাম। তারা যে দাবিগুলো করেছে আমি মেনে নিয়েছি। কিন্তু আমার হাতে যে দাবি গুলো নেই সে গুলোতো আদায় করে আনতে হবে।
ভিসি আরও বলেন, ঘটনার দিন রাত ৩ টায় আমি যখন প্রধানমন্ত্রীকে তথ্যগুলো পাঠাই তখন থেকেই তিনি শতভাগ সাপোর্ট দিয়েছেন। গতকালও আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছি, অর্থমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। তিনি শতভাগ আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।
ছাত্ররাজনীতি বন্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, তারা যেহেতু দাবি করেছে আমি সেটা বন্ধ করেছি। প্রধানমন্ত্রীর এখানে একটা সাপোর্ট ছিল। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, আমি রাজনীতিবিদ নই। আমার পক্ষে সেটা কঠিন।
একাডেমিক কার্যক্রম চালাতে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চেয়ে ভিসি বলেন, প্রতিষ্ঠানের জন্য শুধু শিক্ষকরা নয়, ছাত্রদেরও অংশগ্রহণ থাকতে হবে। আমি তাদের বলেছি তারা যতবার খুশি আমার সাথে বসতে পারবে। তবে তারা যেন একাডেমিক কার্যক্রমে সহযোগিতা করে।
শিক্ষার্থীদের ৫ দফা দাবি যৌক্তিকভাবে সমর্থন জানিয়েছেন, নাকি চাপের মুখে মেনে নেয়া হয়েছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো চাপের মুখে নয়। এরা তো আমাদেরই সন্তান। এদের ভালোটা দেখা তো আমাদেরই কাজ।
তিনি বলেন, ওরা আসলে একদম বাচ্চাদের মতো আচরণ করেছে। আমি ওদের বলেছি তোমরা ৮ জন আমার সাথে কথা বলো। ৮ জন না হলে আবার যাও আবার আসো। পরে তারা সিদ্ধান্ত নিলো তারা ১ হাজার জন এবং আমি তাদের সাথে বসবো তাও মেনে নিলাম। প্রথমে তারাও বুঝতে পারেনি, পরে তারা বুঝতে পেরেছে স্যারের অনুরোধের পরে না করা উচিৎ নয়।
এসময় ক্যাম্পাসে ভর্তি পরীক্ষার নিরাপত্তার স্বার্থেই পরীক্ষার্থীদের হলে থাকতে দেয়া হচ্ছে না বলে জানান তিনি।
হলে হলে অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা ইতিমধ্যে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করেছি। যতদিন পর্যন্ত সকল অবৈধভাবে অবস্থানকারিদের উচ্ছেদ করা না যায়, ততদিন এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
হল থেকে ৯০ ভাগ অবৈধ শিক্ষার্থী উচ্ছেদ: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) হলগুলোতে অবৈধভাবে অবস্থানকারী ৯০ ভাগ শিক্ষার্থীকে উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বুয়েটের ছাত্র কল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান। তিনি বলেছেন, সব প্রভোস্টরা শনিবার থেকে অবৈধদের উচ্ছেদের কাজ শুরু করেছেন। প্রায় ৯০ ভাগ ছাত্র যারা অবৈধভাবে ছিলেন তাদের সিটগুলো ফাঁকা করা হয়েছে। বাকিগুলোও শিগগিরই ফাঁকা হয়ে যাবে।
গতকাল দুপুরে বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিদফতরের সামনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। মিজানুর রহমান বলেন, শনিবার হলের কয়েকটি রুম সিলগালা করা হয়েছে। হলগুলোতে বৈধ ছাত্রদের থাকার জন্য নির্দিষ্ট সময় রয়েছে, এরপর কেউ হলে থাকলে সে অবৈধ। ৯ টার্ম একজন ছাত্র হলে থাকতে পারেন। আর পোস্ট গ্রাজুয়েটদের জন্য একটি হল রয়েছে, সেখানে চার টার্ম থাকা যায়। প্রভোস্ট অনুমতি দিলে ছয় টার্ম পর্যন্ত অবস্থান করতে পারেন।
বুয়েট ছাত্র কল্যাণ পরিচালক বলেন, হলগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষে গত দুদিনে আমরা বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। আবরার হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত অধিকাংশ আসামি গ্রেফতার হয়েছে। সরকার এ বিষয়ে খুবই সিরিয়াস। তদন্তও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। আশা করি, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আস্থা ফিরে আসবে।
একাডেমিক কার্যক্রমের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের ক্লাস চলছিল না। ১৯ তারিখ থেকে টার্ম ফাইনাল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হয়ত সেই তারিখে পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হবে না। আমাদের একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিং করে আরেকটি তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
আজ ভর্তি পরীক্ষা: ভর্তি পরীক্ষার কারণে আন্দোলন শিথিল করার ঘোষণা দেয়ায় আজ সোমবার  নির্ধারিত সময়েই বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গতল শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এই ঘোষণা দেন। সাংবাদিক সম্মেলনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তবে ভর্তি পরীক্ষার জন্য আগামী ১৩ ও ১৪ অক্টোবর আন্দোলন শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন তারা ভর্তিচ্ছুদের সহযোগিতা করবেন বলেও জানিয়েছেন। সেইসঙ্গে শিক্ষকদের প্রতিও তাদের আস্থার কথা জানিয়েছেন।
বুয়েট প্রকাশিত নোটিশ থেকে জানা যায়, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক শ্রেণীতে বিভিন্ন অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের লেভেল-১১ ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি পরীক্ষায় ১২ হাজার ১শ’ ৬১ পরীক্ষার্থী অংশ নেবে। তার মধ্য থেকে ১০৫০ শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাবেন।
উল্লেখ্য, ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিবিরোধী স্ট্যাটাস দেয়ায় বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে ৬ অক্টোবর রাতে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগ। এ ঘটনার পর থেকে আবরার হত্যার বিচার দাবিতে উত্তাল বুয়েট। হলগুলোতে ছাত্রলীগের নানা নির্যাতনেরও চিত্র ফুটে আসে গণমাধ্যমে। এরপর অবৈধ ছাত্রদের হলছাড়া করার উদ্যোগ নেয় বুয়েট প্রশাসন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ