শনিবার ০৫ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

বাইক চলছে পানি দিয়ে

গত ৫ অক্টোবর ক্লোজনিউজ জানায়, অবিশ্বাস্য এক বাইক আবিষ্কার করেছেন ব্রাজিলিয়ান পাবলিক অফিসার রিকার্ডো আজাভেডো। পেট্রল, ডিজেল, প্রাকৃতিক গ্যাস কিংবা ব্যাটারি নয়, এ বাইক চলছে শুধু পানি দিয়ে। বাইকের মাইলেজও মাথা খারাপ করে দেবার মতো। মাত্র ১ লিটার পানি দিয়ে ৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে এ মোটরসাইকেল। তাও বিশেষ কোনও পানি না। একদমই সাধারণ পানি এ বাইকের জ্বালানিট্যাঙ্কে ব্যবহৃত হতে পারে। কোনও বিশুদ্ধ পানি নয়। খালডোবা, পুকুর-নদী কিংবা সমুদ্রের হলেও চলে। পানি দিয়ে গাড়ি চালাবার আশাব্যঞ্জক এমন খবর আমরা আগেও একাধিক বার পড়েছি। টিভিতেও দেখেছি। এমনকি পানি দিয়ে গাড়ি চালাবার পদ্ধতির আবিষ্কারকরাও আমাদেরই। কিন্তু ঐ পর্যন্তই। এরপর আর পানিচালিত গাড়ির কোনও অগ্রগতির খবর আমাদের জানানো হয়নি সংগত কারণেই।
পেট্রল, ডিজেল বা গ্যাস দিয়ে বাইক বা মোটরযান চালাতে কম-বেশ দূষণ সৃষ্টি হয়। আজকাল এসব জ্বালানির দামও বেড়েছে প্রচুর। এমনকি বিদ্যুতের দামও কম নয়। কাজেই পেট্রল, ডিজেল, বিদ্যুৎ, গ্যাস দিয়ে বাইক বা গাড়ি চালাতে খরচও দিনদিন বেড়েই চলেছে। এমতাবস্থায় সামান্য পরিমাণ পানি দিয়ে বাইক, গাড়ি ইত্যাদি চালাবার কার্যকর পদ্ধতি আবিষ্কার হলে মন্দ কী? কিন্তু বিশ্বব্যাপী পেট্রল, ডিজেল, গ্যাস নিয়ে যে বাণিজ্য এবং রাজনীতি রয়েছে তাতে পানিচালিত যানবাহন সিস্টেমের গোড়াতেই যে 'জল' ঢেলে দেয়া হবে তা উল্লেখ না করাই ভালো।
পানি দিয়ে বাইক, গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহন চালাবার সিস্টেম হলেই চলবে না; তা যাতে কমার্সিয়ালাইজেশন করা যায় সেটাও ভেবে দেখতে হবে। তবে মাত্র ১ লিটার পানিতে একটি বাইক ৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলে তা লাভজনক হবে না কেন? শুধু লাভজনকই নয়, হবে পরিবেশবান্ধবও। হয়তো বাইকসহ সব যানবাহনকে ‘পানিবান্ধব’ করে নিতে কিছু সময় লাগবে। কিন্তু অসম্ভব এমনটা নয়। তবে প্রধান বাধা কেবল পেট্রলসমৃদ্ধ দেশ এবং ধনকুবের সরকারসমূহ। তাদের জ্বালানি বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হোক, তা চাইবেন কোন বুদ্ধিতে? তবে পানি হচ্ছে মানুষসহ পুরো প্রকৃতির জীবন। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে যানবাহনেরও জীবনে পরিণত হবে এ পানি। আর এটাই কখনও চাইবে না পেট্রলভিত্তিক শক্তিধর জ্বালানিবণিক সিন্ডিকেট। তবে পরিবেশবান্ধব আবিষ্কার পানি দিয়ে যানবাহন চালাবার সিস্টেম পেট্রলভিত্তিক জ্বালানি বণিকের বিশ্বসিন্ডিকেট বেশিদিন আটকে রাখতে সক্ষম হবে বলে মনে হয় না। অতএব আমরা ব্রাজিলিয়ান উদ্ভাবককে স্বাগত জানাই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ