শনিবার ১১ জুলাই ২০২০
Online Edition

ভারতের সাথে চুক্তি বাতিল ও আবরার হত্যার প্রতিবাদে সমাবেশ করবে বিএনপি

 

স্টাফ রিপোর্টার:  দেশের ‘স্বার্থবিরোধী’ চুক্তি বাতিল ও আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে দুইদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। ঘোষণা অনুযায়ী আগামীকাল শনিবার (১২ অক্টোবর) ঢাকাসহ মহানগরে জনসমাবেশ এবং রোববার (১৩ অক্টোবর) সকল জেলা সদরে সমাবেশ করবে তারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা করে প্রতিবেশী দেশকে খুশি করতে অসম চুক্তি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করে খন্দকার মোশাররফ কর্মসূচি সফল করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সফরকালে স্বাক্ষরিত চুক্তির মাধ্যমে সরকার বাংলাদেশের ফেনী নদী থেকে ১.৮২ কিউসেক পানি ত্রিপুরার সাব্রুম শহরের জনগণের ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর নির্বিঘেœ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলে যৌথ পর্যবেক্ষণের জন্য রাডার বসানোর অনুমতি দিয়েছে। অথচ বহু বছর ধরে তিস্তা এবং ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা পাওয়ার ব্যাপারে শুধুই আলোচনা করে চলেছে।

মোশাররফ বলেন, ইতোমধ্যেই দেশ ও দেশের জনগণের স্বার্থবিরোধী এসব চুক্তির প্রতিবাদে দেশবাসী ফুঁসে উঠেছে। সচেতন ছাত্র সমাজ আন্দোলনে সোচ্চার হয়েছে। সমালোচনায় ভীত সরকার তার দলীয় লাঠিয়ালদের দিয়ে ফেসবুকে প্রতিবাদী পোস্ট দেয়ার জন্য বুয়েটের ছাত্র আবরারকে খুন করেছে।

তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে যা কিছু দরকার তার সবকিছুই অনিশ্চয়তায় ঝুলিয়ে রেখে অন্যের স্বার্থ পূরণ করা সরকারের নতজানুর নীতির প্রমাণ। দেড় হাজার কিলোমিটার পথের স্থলে এখন মাত্র ২০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে এলপিজি গ্যাস ভারত পৌঁছবে। তাদের এ সুবিধা দেয়ার বিনিময়ে ‘ঠাকুর শান্তি পুরস্কার’ ছাড়া আমরা কী পেলাম?

মোশাররফ হোসেন বলেন, গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরের মাধ্যমে দেশের বিপুল লাভ ও উন্নয়নের বর্ণনা দিতে গিয়ে নানা অবান্তর বিষয়ের অবতারণা করেছেন। অসত্য তথ্য ও ইতিহাস বর্ণনা করে তিনি ব্যর্থতা ঢাকার অপচেষ্টা করেছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। খালেদা জিয়া ভারত সফরের সময় গঙ্গার পানির কথা বলতে ভুলে গিয়েছিলেন বলে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তাও অসত্য।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বেগম সেলিমা রহমান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাজাহান, বরকত উল্লাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ