শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

রিশা হত্যায় ওবায়দুলের মৃত্যুদন্ড

 

স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকার উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশাকে তিন বছর আগে ছুরি মেরে হত্যার দায়ে দরজি দোকানের কর্মচারী ওবায়দুল হকের ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত।

ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ গতকাল বৃহস্পতিবার আসামীর উপস্থিতিতে আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদ-ের পাশাপাশি আসামী ওবায়দুল হককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় মামলার রায়ে। রায় শুনে সন্তোষ প্রকাশ করলেও মেয়ের জন্য আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়েন রিশার মা তানিয়া বেগম। আর রায় শুনতে উপস্থিত হওয়া উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের শিক্ষার্থীরা আদালতের প্রাঙ্গণে আনন্দ প্রকাশ করে। 

সিদ্দিক বাজারের ব্যবসায়ী রমজান হোসেনের মেয়ে রিশা ঢাকার কাকরাইলের উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত।

২০১৬ সালের ২৪ অগাস্ট দুপুরে স্কুলের সামনে ফুটব্রিজে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। চার দিন পর হাসপাতালে মারা যায় ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোরী।

হামলার দিনই রিশার মা তানিয়া বেগম রমনা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় এবং দ-বিধির ৩২৪/৩২৬/৩০৭ ধারায় হত্যাচেষ্টা ও গুরুতর আঘাতের অভিযোগে মামলা করেন। রিশা মারা যাওয়ার পর এটি হত্যা মামলায় পরিণত হয়।

মেয়ে হত্যাকা-ের পর দরজি দোকানের কর্মচারী ওবায়দুল খানকে সন্দেহের কথা জানিয়েছিলেন রিশার মা। রিশার সহপাঠীদের বিক্ষোভের মধ্যে ৩১ অগাস্ট নীলফামারীর ডোমার থেকে গ্রেফতার করা হয় ওবায়দুলকে।

দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মীরাটঙ্গী গ্রামের আবদুস সামাদের ছেলে ওবায়দুল ইস্টার্ন মল্লিকা শপিং মলে বৈশাখী টেইলার্স নামের একটি দর্জির দোকানের কর্মচারী ছিলেন।

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর ওবায়েদুল (৩০) স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে বলেন, প্রেমের প্রস্তাবে রিশা রাজি না হওয়ায় তাকে খুন করেছিলেন তিনি।

সুরাইয়া আক্তার রিশাসুরাইয়া আক্তার রিশাআদালতের বাইরে রিশার স্কুলের শিক্ষার্থীরাআদালতের বাইরে রিশার স্কুলের শিক্ষার্থীরা তদন্ত শেষে রমনা থানার পরিদর্শক আলী হোসেন ২০১৬ সালের ১৪ নভেম্বর ওবায়দুলকে একমাত্র আসামী করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। রিশার চার সহপাঠীসহ ২৬ জনকে সাক্ষী করা হয় সেখানে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, রিশার মা তানিয়া ওই হত্যাকা-ের ৫-৬ মাস আগে রিশাকে নিয়ে বৈশাখী টেইলার্সে কাপড় সেলাই করাতে যান। এরপর দোকানের রসিদের কপি থেকে ফোন নম্বর নিয়ে দোকানের কর্মচারী ওবায়দুল ফোনে রিশাকে বিরক্ত করতে থাকেন। রিশা প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ওবায়দুল তাকে ছুরি মেরে হত্যা করেন।

ওই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০১৭ সালের ১৭ এপ্রিল আদালত অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আসামী ওবায়দুলের বিচার শুরুর আদেশ দেয়।

বাদীপক্ষের ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে মোট ২১ জনের সাক্ষ্য ও জেরা শেষে বিচারক গতকাল বৃহস্পতিবার আসামী ওবায়েদুলকে দোষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ সাজার রায় দিলেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, “ভালোবাসার অধিকার সবারই আছে, কিন্তু ভালোবাসার জন্য এ ধরনের ঘটনা ঘটানো ন্যক্কারজনক, ভয়ঙ্কর অন্যায়। ভবিষ্যতে কেউ যেন এ ধরনের ঘটনা ঘাটনোর সাহস না পায়, সেজন্য আসামীর সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিৎ বলে আমি মনে করি।”

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ