শনিবার ১১ জুলাই ২০২০
Online Edition

দাবি না মানলে বুয়েটের সব ভবনে তালা

* বুয়েট শিক্ষার্থীদের ওয়েবসাইট ব্লক *

* ছাত্র রাজনীতি নয়, বন্ধ করতে হবে গুন্ডামি : ভিপি নূর *

* আবরারের জন্য ছাত্রলীগের শোক র‌্যালি *

স্টাফ রিপোর্টার : আজ শুক্রবারের মধ্যে দাবি মেনে নেওয়া না হলে প্রত্যেক প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলানোর ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। এদিন দুপুর ২টার মধ্যে ভিসি নিজে এসে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন দাবি মেনে না নিলে আগামী সোমবার থেকে অনুষ্ঠেয় ভর্তি পরীক্ষা হতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তারা। এ দিকে বুয়েটের শিক্ষার্থীদের চালু করা ওয়েবপেজটি ব্লক করে দিয়েছে বিটিআরসি। ছাত্র রাজনীতি নয়, বরং শিক্ষাঙ্গনে ক্ষমতাসীনদের ‘গু-ামি’ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি নুরুল হক নূর। ছাত্র রাজনীতির স্বার্থে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন চালুর দাবি জানিয়েছেন তিনি। এ দিকে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে আবরারের জন্য শোক র‌্যালি করেছে ছাত্রলীগ। আবরার হত্যার বিচারের দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।  

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে চতুর্থ দিনের মতো আন্দোলন শুরু করে ১০ দফা দাবির আপডেট জানাতে গিয়ে প্রশাসনের জবাবদিহিতা, বিগত সময়ের সব নির্যাতনের বিচার, ক্যাম্পাসে ও হলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও প্রভোস্টকে প্রত্যাহারসহ গত বুধবার ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেন আন্দোলনকারীরা। প্রতিটি দাবির সঙ্গে সেটি বাস্তবায়নের জন্য তারা আল্টিমেটাম দিয়ে দেন। বৃহস্পতিবার সকালে সেসব দাবির বিষয়ে প্রশাসন কোনও উদ্যোগ নেয়নি বলে জানান শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, বুধবার শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে একাত্মতা প্রকাশ করে নানা সিদ্ধান্ত জানালেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

উল্লেখ্য, ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা খুন করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে। ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে শনিবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ফাহাদ। এর জের ধরে রোববার রাতে শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। 

শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের দাবি অনুযায়ী হলের প্রভোস্ট পদত্যাগ করেছেন বলে জানানো হলেও কোনও অফিসিয়াল নোটিশ আমরা পাইনি। শুক্রবারের মধ্যে এসব দাবির বিষয়ে প্রশাসন কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা ভিসি নিজে এসে আমাদের না জানালে, আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।

১০ দফা দাবির ষষ্ঠ দাবিতে ছাত্র রাজনীতির বিষয়ে বলা আছে উল্লেখ করে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করে বলেন, আমরা ছাত্র রাজনীতি বন্ধ চাই না। আমরা চাই সাংগঠনিক যে রাজনীতি সেটি বন্ধ হোক। গণমাধ্যমে  বিভিন্ন টকশোতে যারা কথা বলছেন, তারা যেন এই পার্থক্যের জায়গাটা বুঝে নেন, সেটিও অনুরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, বছরের পর বছর সাংগঠনিক রাজনীতির নামে জোর করে মিছিল মিটিংয়ে নেওয়ার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে আমরা সেটি আর এগুতে দিতে চাই না।

গত মঙ্গলবার ভিসি সাইফুল ইসলাম আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে এসে ‘নীতিগতভাবে’ তাদের দাবির সঙ্গে একমত জানালেও তখনকার আট দফা মেনে নেওয়ার সুস্পষ্ট ঘোষণা না দিলে বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা বন্ধসহ ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন আন্দোলনরতরা। পরদিন শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি বাড়িয়ে ১০টি করেন। এগুলোর মধ্যে একটি ছিল ১১ অক্টোবরের মধ্যে শেরে বাংলা হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের বেঁধে দেয়া সময়ের আগে ওইদিনই পদ ছাড়েন প্রাধ্যক্ষ জাফর ইকবাল খান। কিন্তু বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তারা প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাননি, তাই তাদের দাবি দশটিই থাকছে। 

রোববার গভীর রাতে শেরে বাংলা হলের সিঁড়ি থেকে তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরারের লাশ উদ্ধারের পর থেকে উত্তাল বুয়েট। এদিকে আগামী ১৪ অক্টোবর বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই উত্তাল পরিস্থিতিতে পরীক্ষা আদৌ হবে কিনা এ বিষয়ে একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এ ব্যাপারে তারা দ্রুত কাউন্সিলের বিবৃতির আশা করছেন।

শিক্ষার্থীদের পথনাটক : শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে প্রতীকী পথনাটক করেছে ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। গতকাল বিকালে বুয়েটের শহীদ মিনার চত্বর সংলগ্ন সড়কে এ প্রতিবাদী নাটক অনুষ্ঠিত হয়। গত ৬ অক্টোবর যেভাবে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে- তারই একটি প্রতীকী চিত্র তুলে ধরা হয়েছে নাটকে।

প্রতীকী এ নাটকে দেখা যায়, আবরারকে হলের রুম থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এরপর তার ওপর কয়েকজন মিলে অমানবিকভাবে নির্যাতন চালায়। নৃশংস নির্যাতনের ফলে গুরুতর আহত আবরার পানি পানি বললেও তাকে পানি খেতে দেয়নি তারা। এ সময় আবরারের ঘাতকেরা জামায়াত-শিবির বলে উল্লাস করতে থাকে।

নাটকের শেষ পর্যায়ে দেখা যায়, আবরারের লাশের সামনে চিৎকার করে তার মা কান্নাকাটি করছেন। পরে নিহত আবরারের সহপাঠী ও বন্ধুরা তার খুনিদের ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগানের মধ্য দিয়ে প্রতীকী এ পথনাটক শেষ করা হয়।

রাজনীতি থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত জানালো শিক্ষকরা: শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী সব ধরনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ রাজনৈতিক দলভিত্তিক শিক্ষক-রাজনীতি থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষকরা। গতকাল বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তারা।  বুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. একেএম মাসুদ এ বিষয়ে ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার দায়ে ভিসিকে পদত্যাগ করতে আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষকরা। না হলে সরকারের কাছে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে জোর দাবি জানানো হবে বলে ঘোষণা দেন তারা। 

বুধবার শিক্ষক সমিতির এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত এবং প্রস্তাব গৃহীত হয়। এ সময় শিক্ষকরা আট দফা দাবির বিষয়ে একমত হন। তাদের দাবিগুলো হলো, আবরার হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িতদের ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে, আবরারের পরিবারকে মামলা পরিচালনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দিতে হবে,  হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িতদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার করতে হবে,  হলগুলো থেকে অবৈধভাবে কক্ষ দখলকারীদের বিতাড়িত করতে হবে, তদন্ত কমিটি গঠন করে অতীতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনকারীদের চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে,  বুয়েটে সব রাজনৈতিক অঙ্গসংগঠন ভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের বিষয়ে শিক্ষক সমিতি একমত। প্রয়োজনে এটি বাস্তবায়নে সরকারের কাছে জোর দাবি জানাবে। সেই সঙ্গে বুয়েটের অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী রাজনৈতিক দল ভিত্তিক শিক্ষক রাজনীতি থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় আরও ঘোষণা করা হয়, ইতোপূর্বে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বিভিন্ন সময়ে নির্যাতনের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দীর্ঘদিনের নির্লিপ্ততা, নিস্ক্রিয়তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিসিপ্লিনারি আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আবাসিক হলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ভিসির ধারাবাহিকভাবে অবহেলা ও ব্যর্থতা আবরার ফাহাদের নির্মম হত্যাকা-ে উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থীদের সাহস জুগিয়েছে বলে সভা মনে করে। সভা সর্বসম্মতভাবে মনে করে যে, এসব ব্যর্থতার কারণে ভিসি অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম ভিসি পদে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন। এ অবস্থায় অনতিবিলম্বে বুয়েটের ভিসি পদ থেকে পদত্যাগ করার জন্য সভা অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলামের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।

আবরার’র শান্তি কামনায় মিলাদ মাহফিল: মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বাদ আসর বুয়েট  কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে  এ মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মিলাদ মাহফিলে বুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. একে এম মাসুদসহ অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। মোনাজাত পরিচালনা করেন বুয়েট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মুফতি রাশেদুর রহমান। মোনাজাতে ছাত্রলীগ নেতাদের হাতে নির্মমভাবে নিহত আবারের রূহের মাগফিরাত কামনা করা হয়।

মুফতি রাশেদুল রহমান জানান, আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসংখ্য কোরআনে হাফেজ আছেন। আবরার নিহত হওয়ার পর থেকে এখন পযন্ত আশি বারের অধিক কোরআন খতম দেয়া হয়েছে। এখনো কয়েকটি খতম চলমান রয়েছে।

আবরারের সহপাঠীরা জানান, আমরা আমাদের বন্ধুকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ। আমরা তার আত্মার মাগফেরাত কামনায় শুরু থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি। বাদ আসর আমরা তার বাত্মার শান্তি কামনায় দোয়া ও মিলাদের আয়োজন শেষ করেছি। পাশাপাশি আমাদের ১০দফা দাবি আদায়ের আন্দোলনও চলমান রয়েছে। যার ডেটলাইন আমরা শুক্রবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত নির্ধারণ করেছি।

নতুন ভিডিও প্রকাশ: আবরার ফাহাদের লাশ পাশে রেখে নির্লিপ্ত থাকেন দুই শিক্ষক। হত্যাকা-র পর শের-ই বাংলা হলের প্রভোস্ট জাফর ইকবাল খান এবং ছাত্রকল্যাণের পরিচালক মিজানুর রহমানের সঙ্গে হলগেটে আলাপচারিতায় মগ্ন থাকেন খুনিরা। এ সময় তাদের সবাইকে নির্লিপ্ত মনে হয়েছে। নির্মম এ হত্যাকা-ের পরও ছাত্রলীগের ঘাতক নেতাদের সঙ্গে হল গেটে রাত পার করেন প্রভোস্ট ও ছাত্রকল্যাণ পরিচালক।

আবরার হত্যাকা-ের ঘটনায় ফাঁস হওয়া সর্বশেষ ভিডিও ফুটেজে এই চিত্র উঠে এসেছে। ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, আবরারের রক্তাক্ত লাশ পাশে রেখেই খুনিরা আলাপচারিতায় মেতে উঠেন শেরেবাংলা হলের প্রভোস্ট জাফর ইকবাল খান এবং ছাত্রকল্যাণের পরিচালক মিজানুর রহমানের সঙ্গে। এ সময় আবরারকে হাসপাতালে নেয়ার কোনো উদ্যোগ তাদের মধ্যে দেখা যায়নি। নির্মম এ হত্যাকা-ের পর ছাত্রলীগের ঘাতক নেতাদের সঙ্গে হল গেটে রাত পার করেন প্রভোস্ট ও ছাত্রকল্যাণ পরিচালক।

খুনের পরিকল্পনার কথোপকথন হয় সিক্রেট গ্রুপে: বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে নির্যাতনের পরিকল্পনা হয় আগেই। ঘটনার একদিন আগেই এ নিয়ে বুয়েট ছাত্রলীগের সিক্রেট মেসেঞ্জার গ্রুপে খুনিদের কথোপকথন হয়। যেখানে আবরারকে পিটিয়ে হলছাড়া করার নির্দেশ দেয়া হয়। ওই ম্যাসেঞ্জার গ্রুপের কথোপকথন এসেছে গণমাধ্যমের হাতে। সেইসাথে ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায়ও উঠে এসেছে লোমহর্ষক সেই ঘটনা। 

এদিকে ছাত্রলীগ নেতা অমিত সাহা ও মিজানকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে এরই মধ্যে দেখা গেছে আবরার হত্যায় খুনিদের তৎপরতা। তবে এই তৎপরতার একদিন আগেই ফেসবুকের সিক্রেট ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে আবরারকে নির্যাতনের নির্দেশ দেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন।

৫ অক্টোবর শনিবার দুপুর পৌনে একটায় সিক্সটিন ব্যাচকে মেনশন করে রবিন লেখেন:

 সেভেন্টিনের আবরার ফাহাদ। মেরে হল থেকে বের করে দিবি দ্রুত। ২ দিন টাইম দিলাম।

পরদিন রোববার রাত ৭টা ৫২ মিনিট। সবাইকে হলের নিচে নামার নির্দেশ দেন মনিরুজ্জামান মনির। রাত ৮টা ১৩ মিনিটে আবরারকে নিজ কক্ষ থেকে ডেকে করিডোর দিয়ে দোতলার সিঁড়ির দিকে নিয়ে যান সাদাত, তানিম, বিল্লাহসহ কয়েকজন। এরপর রাত ১টা ২৬ মিনিটে ইফতি মোশাররফ সকাল ম্যাসেঞ্জারে লেখেন, মরে যাচ্ছে, মাইর বেশি হয়ে গেছে।

ভাইরাল হওয়া ঐ ছবিতে দেখা যায়, রাত ১২টা ২৩ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে আশিকুল ইসলাম বিটু ২০১১ নম্বর রুমের দিকে হেঁটে যাচ্ছেন। এর প্রায় ৭ মিনিট পর তিনি বেড়িয়ে যান।

 শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর রুমের ভেতরে ঐ রাতে আসলে কী ঘটেছিল? আবরারকে নির্যাতনের প্রস্তুতি ও নির্যাতনের পরের ঘটনার বর্ণনা দিলেন প্রত্যক্ষদর্শী বিটু।

বিটু বলেন, মনির জেমি আর তানিমকে ফোন দিয়ে বলে আবরারকে ডেকে আনো ২০১১ নম্বর রুমে। পরে দেখলাম ২জন ওর দুটা ফোন ও ল্যাপটপ চেক করছে। কোথায় আবরার লাইক দেয় বা কমেন্ট করে অথবা কাদের সাথে ম্যাসেঞ্জারে কথা বলে এগুলো নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল। এরপরে আমি রুম থেকে বের হয়ে যাই। পরে ১২.৩০ এর দিকে আমি আবার রুমে আসি আমার ল্যাপটপ ও বই নিতে। আমি রুমের ভিতরে ঢুকে দেখলাম যে আবরার একদম মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আছে। সেখানে আবরার এর ব্যাচেরও ৭-৮ জন ছিল। পরে রুম থেকে বের হয়ে সকালকে প্রশ্ন করি, এমন কিভাবে হলো? তখন মুনির উত্তর দিলো বললো যে অনিক ভাই মাতাল অবস্থায় একটু বেশি মারছে। তখন ওখানে থাকা আমার জন্য সুরক্ষিত না ভেবে তখনই আমি ওখান থেকে ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে আসি।

কিন্তু আবরারকে নির্যাতনের খবর কেন কাউকে জানাননি, এমন প্রশ্নের কোনো সদত্তর ছিলোনা বিটুর। তিনি বলেন, এমন অনেক সময়ই হলে হয়, তবে আবরার যে মারা গেছে তাও না। তখনো ওকে মেডিকেলে নিয়ে গেলে হয়তো বাঁচানো যেত।

ঘটনার রাতে ২০১১ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ নেতা অমিত সাহার উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মিলেছে সিক্রেট মেসেঞ্জার গ্রুপে সক্রিয় থাকারও তথ্য। নিজ রুমে এমন হত্যাকা-ের পর থেকেই ছিলেন আত্মগোপনে। 

বুয়েট শিক্ষার্থীদের ওয়েববসাইট ব্লক: নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বা সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থীদের চালু করা ওয়েবপেজটি ব্লক করে দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বিটিআরসি। শুধু সিএসই বিভাগের ওয়েবপেজ ব্লক করার কথা বলা হলেও, বুয়েটের ওয়েব সাইটেই সকাল থেকে প্রবেশ করা যায়নি। 

বুয়েটের সিএসই বিভাগের একটি গবেষণা প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২০১৬ সালের শেষে ওয়ান-স্টপ অনলাইন রিপোর্টিং সিস্টেম সংক্ষেপে 'ইউ রিপোর্টার' নামে একটি সার্ভার গড়ে তোলে বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এতে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা নিজের পরিচয় গোপন রেখে অভিযোগ জানাতে পারেন।

সিএসই বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা আকবর জানিয়েছেন, বিভিন্ন সময় আবাসিক হলে শিক্ষার্থীরা যে ধরণের হেনস্থা ও নিপীড়নের শিকার হয়, সে সম্পর্কে নিজের পরিচয় প্রকাশ না করে, একজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে প্রতিকার পেতে পারবে, এমন ধারণা থেকে ঐ সার্ভার গড়ে তোলা হয়। বুধবার পর্যন্ত সেখানে ১০৬টি অভিযোগ এসেছে, যার অনেকগুলোই জমা পড়েছে আবরার ফাহাদ নিহত হবার পর।

বিটিআরসি বুধবার বাংলাদেশের ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে অপারেটর এবং ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বরাবর চিঠি লিখে ঐ ওয়েবপেজ ব্লক করার নির্দেশ দেয়। বিটিআরসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জহুরুল হক জানিয়েছেন, 'নিরাপত্তা'র কারণে ওয়েবপেজটি বন্ধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, নিরাপত্তার কারণে যতদিন প্রয়োজন, ততদিন বন্ধ থাকবে ওয়েবপেজটি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেমে গেলে নিষেধাজ্ঞা উঠে যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

এদিকে, বুয়েটে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মনে করেন, তাদের ওপর ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো যাতে আর প্রকাশ না পায়, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ সে উদ্দেশ্যে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নাম ও বিভাগ প্রকাশ করতে চান না আন্দোলনরত এমন একজন ছাত্রী বলছিলেন, ওয়েবপেজটিতে আমরা আমাদের ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের বিষয়গুলো শেয়ার করতে পারতাম। এখন সেটা বন্ধ করে দেয়া মানে আমাদের মত প্রকাশে বাধা দেয়া। এখানে বাধা আসার কিছু ছিল না, এখানে অনৈতিক কিছু হচ্ছে না। অথবা আমরা এমন কিছুও করিনি যা ক্ষোভ জন্ম দিতে পারে। যে কারণে কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তে আমরা ক্ষুব্ধ ও বিস্মিত।

এ দিকে বুয়েট কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের কথা জানানোর অনলাইন পেজটি বন্ধ করে দেওয়ার পরে নতুন আরেকটি খোলা হয়েছে। নতুন এই পেজে শিক্ষার্থীরা আগের মতো তাদের অভিযোগ জানাতে পারবেন।

ছাত্র রাজনীতি নয়, বন্ধ করতে হবে গু-ামি: ছাত্র রাজনীতি নয়, বরং শিক্ষাঙ্গনে ক্ষমতাসীনদের ‘গু-ামি’ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি নুরুল হক নুর। ছাত্র রাজনীতির স্বার্থে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন চালুর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক পদযাত্রা কর্মসূচির আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।  রাজু ভাস্কর্যের সামনে সমাবেশে ভিপি নুর বলেন, শিক্ষাঙ্গনে ক্ষমতাসীনদের গু-ামি বন্ধ করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতির স্বার্থে ছাত্র সংসদ নির্বাচন চালু করতে হবে। ছাত্র রাজনীতি খারাপ নয়, এই দেশের সৃষ্টি হয়েছে ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে, ছাত্র রাজনীতির মধ্য দিয়ে। যে সংগঠনের নেতাকর্মীদের পিটুনিতে আবরারের মৃত্যু, তার জন্য সেই ছাত্রলীগেরই শোক মিছিলকে হাস্যকর বলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আবরারের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শোক শোভাযাত্রা করে ছাত্রলীগ। এর কিছুক্ষণ পরই নুরের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী পদযাত্রা করে ক্যাম্পাসে।

নুর বলেন, যাদের হাতে রক্তের দাগ, যারা আবরারকে খুন করেছে, তারা নাকি আবার শোক মিছিল করেছে, এটা হাস্যকর। রাজপথ তাদের দখলে- এই ভয় দেখানোর জন্য একটি শোডাউন দিয়েছে ছাত্রলীগ। এই ছাত্রসমাজ পুলিশের বুলেট মোকাবেলা করেছে, আমাদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার, আবরারসহ সকল ছাত্র হত্যার বিচার করতে হবে এবং দ্রুত বিচার ট্রাইবুন্যালে সকল ছাত্র হত্যার বিচার করতে হবে।

আবরার হত্যার প্রতিবাদ থামাতে সরকারের পক্ষ থেকে কথার ফুলঝুড়ি ছাড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, যে কোনো হত্যাকা-কে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য নানা ধরনের লোক দেখানো ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আবরার হত্যাকা-ে ন্যায় বিচারের দাবিতে আমরা যে প্রতিবাদ করছি এর কারণ হল, এই হত্যাকা-কে যেন অন্য কোনো দিকে ধাবিত করতে না পারে। সেই প্রতিবাদ অব্যাহত রাখতে হবে।

ডাকসু ভিপি বলেন, যখনই আমরা সারা বাংলাদেশের ছাত্র সমাজ আবরার হত্যাকা-ের প্রতিবাদ জানিয়ে যাচ্ছি, আপনারা দেখেছেন গতকাল বুয়েটের ভিসি তার প্রটোকলের জন্য পুলিশ, ছাত্রলীগ-যুবলীগ নিয়ে আবরারের বাড়িতে গিয়েছেন। সেখানে তারা পরিবারকে আঘাত করেছেন, তার ভাইকে আঘাত করেছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আমরা শুনি, মা হিসেবে তিনি ন্যায়বিচার করবেন আবার দেখি আবরারের পরিবারের ওপর আঘাত। এটা আমাদের স্পষ্টভাবে মেসেজ দিচ্ছে। আজকে ছাত্রদের প্রতিবাদ থামানোর জন্য নানা ধরনের কথার ফুলঝুড়ি ফোটানো হচ্ছে।

ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া তিনি বলেন, বুয়েটে যদি ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ হয় তাহলে সারা বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্র কায়েম হবে। নিরাপদ সড়কের আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন, আজ আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলন রাজনীতি সচেতন শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। রাজনীতি যদি বন্ধ করে দেওয়া তাহলে সেটি আমাদের জন্য ভয়ংকর পরিণতি ডেকে নিয়ে আসবে। দেশকে স্বৈরতন্ত্রের দিকে ধাবিত করবে। তাই সন্ত্রাসী ছাত্ররাজনীতি বন্ধ চাই আমরা।

ভিপি নুর আরও বলেন, আবরার হত্যাকা-সহ সব ছাত্রের হত্যার ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্ররা যেন টর্চার সেলে নির্যাতনের শিকার না হয়। শুধু ক্ষমতাসীন দল নয় আমরা দেখেছি যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে তাদের সংগঠনগুলো কিন্তু এই একই কাজ করেছে। 

ছাত্রদের আন্দোলনের কারণেই ঢাবি প্রশাসনের টনক নড়েছে জানিয়ে নুর বলেন, গতকাল আপনারা দেখেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যে মাস্টার্স শেষ হয়ে গেলে ১৫ দিন পর হলে থাকতে পারবে না। এটি একটি ভালো সিদ্ধান্ত, কিন্তু এই সিদ্ধান্ত এমনিতেই নেওয়া হয় নাই।

আজকে যখন আবরারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসগুলোতে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনগুলোর নির্যাতন-নিপীড়ন, টর্চার সেল বন্ধের দাবিতে ছাত্রসমাজ রাজপথে নেমে এসেছে তখনই প্রশাসনের টনক নড়েছে। সুতরাং যত অন্যায় অনিয়ম অবিচার হবে, এই ছাত্র সমাজকে সোচ্চার থাকতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুরুর নেতৃত্বে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। বিক্ষোভ মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযের রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে বের হয়ে শাহাবাগ মোড় হয়ে মৎস্য ভবন ও হাইকোর্ট মোড় ঘুরে আবারো রাজু ভাস্কর্যে ফিরে আসে। মিছিলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বাংলাদেশ ছাত্রফেডারেশনসহ বাম ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত আছেন।

মিছিলে শিক্ষার্থীদেরকে ভারতের সাথে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন চুক্তির বিরুদ্ধে ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে নিহত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দেখা যায়। মিছিলে তারা ‘আমার নদী ফিরিয়ে দে, নইলে গদি ছেড়ে দে’; ‘দিল্লি না ঢাকা!, ঢাকা ঢাকা!’ ; ‘খুন হয়েছে আমার ভাই, খুনি তোদের রক্ষা নেই’; ‘দেশবিরোধী চুক্তি, মানি না মানবো না’; ‘বুয়েট তোমার ভয় নাই, আমরা আছি লাখো ভাই’; ‘আর নয় প্রতিরোধ, এবার হবে প্রতিশোধ’; ‘দালালী না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’; ‘হই হই রই রই ছাত্রলীগ গেলি কই?’; ‘আমার ভাই আবরার আর কত লাশ চাই’; ‘আমার ভাই মরলো কেনো, প্রশাসন জবাব চাই’ প্রভৃতি স্লোগান দেন।

আবরারের জন্য ছাত্রলীগের শোক র‌্যালি: আবরার ফাহাদ হত্যার পর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বুয়েটের বিভিন্ন হলের কক্ষে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্য। এ হত্যাকা-ে জড়িতদের দ্রুত শাস্তির দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের মৌন র‌্যালি শেষে গতকাল দুপরে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি কথা বলেন।

 লেখক ভট্টাচার্য্য বলেন, টর্চার সেলের সাথে ছাত্রলীগ পরিচিত নয়। টর্চার সেলের নামও ভালোভাবে জানে না ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। একটি মহল চক্রান্ত করে ছাত্রলীগের সাথে টর্চার সেলকে জড়াচ্ছে।

এর আগে র‌্যালি শেষে সমাবেশে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দাবি করেন, বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে ছাত্রলীগে ‘ঢুকে পড়া অনুপ্রবেশকারীরা’ই নানা অপকর্ম করছে। তিনি বলেন, আমরা তাদের খুঁজে বের করব। সাংগঠনিকভাবে তথ্য নেওয়ার পাশাপাশি আমরা সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করছি। ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তনের পর ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে উঠা সব অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওযা হয়েছে সমাবেশ দাবি করেন লেখক।

সমাবেশে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, কোনো ব্যক্তির অপরাধ ও অপকর্মের দায় সংগঠন নেবে না। ছাত্রলীগের সুনাম নষ্টকারী যেই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেব আমরা।

ছাত্রলীগের সমাবেশে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাতটি কলেজের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও যোগ দেন। যোগ দেয় ঢাকা মহানগর উত্তর ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

 মৌন র‌্যালিটি পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে বের হয়ে কলা ভবন, টিএসসি মোড়, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ফুলার রোড ঘুরে ভিসি চত্বরে এসে শেষ হয়। এই শোক র‌্যালিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল, টিএসসি, শামসুননাহার হলের সামনে কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স আটকে যায়। র‌্যালিতে থাকা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের রাস্তা ছাড়ার অনুরোধ করলে তারা একটু পর ছাড়বে বলেও ছাড়েনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রলীগ অনেক বেশি নেতাকর্মী নিয়ে শোক র‌্যালি করেছে। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাহির থেকে অনেক নেতাকর্মী আনা হয়। এসব নেতাকর্মীদের অসহায়তার জন্য অ্যাম্বুলেন্স আটকে থাকে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বহিরাগত’ প্রবেশে মানা: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন সময়ে বহিরাগতদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র এবং সবার জন্য উন্মুক্ত। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সাংস্কৃতিক কর্মকা- পরিচালনার স্থানও বটে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় বিশ হাজার শিক্ষার্থীর তুলনায় বর্তমান ক্যাম্পাসটি খুবই ছোট। এ অবস্থায়, ক্লাস চলাকালীন (সকাল আটটা থেকে বিকাল চারটা) দর্শনার্থী, বর্তমানে ছাত্র নয় এমন ব্যক্তি এবং যাদের দাপ্তরিক কাজ নেই তাদেরকে ক্যাম্পাসে না আসার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী ওহিদুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাতে বহিরাগতরা এসে ক্যাম্পাসে কোনো ঝামেলা করতে না পারে। বহিরাগতদের প্রবেশ কিভাবে বন্ধ করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থী নয়, ক্যাম্পাস আসা কারও বিষয়ে এমন সন্দেহ হলে তার কাছে পরিচয়পত্র দেখতে চাইবে প্রক্টোরিয়াল বডি। এর আগে রাত সাড়ে ১০টার পর ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের প্রবেশে গত সেপ্টেম্বরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ