বৃহস্পতিবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১
Online Edition

সীমান্ত টপকে সিরিয়ায় ঢোকা শুরু তুর্কী বাহিনীর

৯ অক্টোবর, রয়টার্স, ব্লুমবার্গ : সিরিয়ার উত্তর-পূর্ব সীমান্ত এলাকা থেকে কুর্দি ওয়াইপিজি গেরিলাদের সরিয়ে দিতে দেশটির ভেতর প্রবেশ শুরু করেছে তুরস্কের সেনাবাহিনী।

গতকাল বুধবার ভোরের দিকে সেনাবাহিনীর অগ্রবর্তী দলগুলো তাল আবায়েদ ও রাস আল-আইন শহরের দুটি পয়েন্ট দিয়ে সিরিয়ায় ঢুকে বলে তুরস্কের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে তথ্য দেওয়া ওই কর্মকর্তা এর বাইরে বিস্তারিত কিছু বলেননি।

রোববার তুর্কী প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোয়ানের সঙ্গে ফোনালাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ডজন সৈন্যকে সরিয়ে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়ার পরপরই আঙ্কারা ওই এলাকায় অভিযানের কথা ঘোষণা করেছিল।

সীমান্তে একটি ‘নিরাপদ অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠা করে সিরীয় শরণার্থীদের দেশে ফেরার পথ করে দিতে এ অভিযান হবে বলেও জানিয়েছিল তারা।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারই এরদোয়ানকে কুর্দি ওয়াইপিজি গেরিলাদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানের পথ করে দেয়।

আঙ্কারা এ গেরিলাদের তাদের দেশে নিষিদ্ধ বিচ্ছিন্নতবাদী কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) সহযোগী মনে করে।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটবিরোধী লড়াইয়ে ওয়াইপিজি মার্কিন বাহিনীর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিল। এভাবে সেনা সরিয়ে নিয়ে ট্রাম্প মিত্রদের ‘পেছন থেকে ছুরি মেরেছেন’ বলে তারা এখন অভিযোগও করছেন।

কুর্দিদের ঝুঁকিতে ঠেলে দেয়ার পদক্ষেপ দেশে-বিদেশে তুমুল সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। মার্কিন রিপাবলিকান দলের অনেক প্রভাবশালী সদস্যও ট্রাম্পকে তার সিদ্ধান্ত বদলাতে অনুরোধ করেছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার সিদ্ধান্তে অবিচল থাকার কথা জানিয়ে বলেছেন, ‘সীমা ছাড়ালে’ তিনি তুরস্কের অর্থনীতিকে গুঁড়িয়ে দেবেন।

পেন্টাগনও পরে এক বিবৃতিতে তুরস্কের অভিযানে ‘সমর্থন দেয়া হবে না’ বলে জানায়।

সিরিয়ায় তুর্কি বাহিনীর প্রবেশ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কুর্দি গেরিলাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। গত মঙ্গলবার গেরিলাদের এক কমান্ডার নিজেদের জনগণকে রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

সমালোচনার মধ্যেই তুরস্কের পক্ষে সাফাই ট্রাম্পের   : তুর্কী সামরিক অভিযানের মুখে সিরীয় সীমান্ত থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজ দল রিপাবলিকান পার্টি এবং বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সমালোচনার মুখেও আঙ্কারার পক্ষেই সাফাই দিয়েছেন ট্রাম্প। মনে করিয়ে দেন, তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার এবং ন্যাটো মিত্র।

গত সোমবার সিরিয়ায় আইএসবিরোধী অভিযান চালানোর ঘোষণা দেয় তুরস্ক। দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন বলেন,সন্ত্রাসী আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতেই তুর্কি সীমান্তবর্তী সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে সামরিক অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আঙ্কারা। তুরস্কের অভিযান চালানোর ঘোষণার পর ওই অঞ্চল থেকে নিজেদের সেনা সরিয়ে নিতে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের সেনা সরিয়ে নেওয়াকে ‘পেছন থেকে ছুরিকাঘাত’ বলে মন্তব্য করেছে দেশটি সমর্থিত সিরিয়ায় সক্রিয় থাকা কুর্দি বাহিনী সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্স (এসডিএফ)। 

টুইটারে দেওয়া সিরিজ পোস্টে ট্রাম্প বলেন, অনেকেই ভুলে গেছেন তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার। তারা ন্যাটো জোটেরও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার কুর্দি বিদ্রোহীদের ত্যাগ করেনি বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমরা হয়তো সিরিয়া ত্যাগের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছি। কিন্তু কোনওভাবেই কুর্দিদের ত্যাগ করা হচ্ছে না। আমাদের বিশেষ ও দুর্দান্ত যোদ্ধারা রয়েছে।

এদিকে তুর্কি অভিযানের মুখে ইতোমধ্যেই অঞ্চলটি থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের দাবি, কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে তুরস্ক যে কোনও সময় সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতে জড়াতে আগ্রহী নয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ