বৃহস্পতিবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১
Online Edition

কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানকে সমর্থন চীনা সামরিক বাহিনীর

৯ অক্টোবর, রয়টার্স, পার্সটুডে : ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর অবস্থানের প্রতি সমর্থন দিয়েছে চীনের সামরিক বাহিনী। বেইজিং সফররত পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়ার সঙ্গে চীনের সামরিক বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বৈঠকে আজ মঙ্গলবার তারা এ সমর্থন ঘোষণা করেন।

সংবাদ সংস্থার   এক প্রতিবেদনে জানায়, কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর অবস্থানকে চীনের সশস্ত্র বাহিনী ‘যৌক্তিক অবস্থান’ বলেও উল্লেখ করেছে। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআর জানিয়েছে, ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের চলমান পরিস্থিতি এবং এর পরিণতি সম্পর্কে চীনের সামরিক নেতাদের অবস্থানের প্রশংসা করেন জেনারেল বাজওয়া।

বৈঠকে পাকিস্তান সেনাপ্রধান এবং চীনের সামরিক নেতারা একমত হন যে, অমীমাংসিত কাশ্মীর ইস্যুর জন্য ভারত এবং পাকিস্তানের ভেতরে উত্তেজনা রয়েছে যা এ অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

বৈঠকে পাকিস্তান সেনাপ্রধান বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া প্রস্তাব অনুসারে কাশ্মীর সংকটের সমাধান হতে হবে।

চীন সফরকালে চীনা জেনারেল বাজওয়া পিপলস লিবারেশন আর্মির কমান্ডার জেনারেল হান উইয়িগো এবং সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান জেনারেল শিউ কিলিয়াঙের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে চীন ও পাকিস্তানের সামরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন এবং পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা অত্যন্ত জোরদার হয়েছে এবং পাকিস্তানের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী দেশে পরিণত হয়েছে চীন। এর প্রমাণ হিসেবে চীনা সহযোগিতায় পাকিস্তানে নির্মিত জেএফ-১৭ জঙ্গিবিমানের কথা উল্লেখ করা যায়।

এদিকে ভারতীয় চাপে নতিস্বীকার করে কাশ্মীর নিয়ে নিজের অবস্থান বদলাতে অস্বীকার করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ।

মঙ্গলবার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পার্লামেন্টারি লবিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানিয়েছেন। মাহাথির বলেন, কারও পক্ষ হয়ে আমরা সমালোচনা ত্যাগ করছি না। কিন্তু দুপক্ষকে আলোচনার আহ্বান জানাচ্ছি। সহিংসতার আশ্রয় না নিয়ে মীমাংসা কিংবা আলাদতে যেতে বলেছি।

এছাড়া কাশ্মীর বিতর্ক নিরসনে উপায় ও উপকরণ খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন এই নবতিপর প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, রুশ শহর ভøাডিভোস্টকে বৈঠকের সময় নরেন্দ্র মোদির কাছে তিনি ইস্যুটি তুলেছিলেন।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুসারে কাশ্মীর সংকটের সমাধান টানতে হবে। সহিংসতার আশ্রয় না নিয়ে আলোচনা, সালিশি ও আদালতের মাধ্যমে সংকটের সমাধান করাই হচ্ছে আমাদের নীতি।

তিনি বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে জাতিসংঘের প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও ভারত সেখানে হানা দিয়েছে এবং দখলদারিত্ব কায়েম করেছে। সমস্যার সমাধান করতে ভারতের উচিত পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা করা। জাতিসংঘকে তুচ্ছ করার মধ্য দিয়ে তা জাতিসংঘ ও আইনের শাসনের প্রতি আরেক ধরনের অবজ্ঞাকরণের দিকে নিয়ে যাবে।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিয়ে এর আগে অধিকৃত কাশ্মীরে ভারতের দখলদারিত্ব ও নৃশংসতার সমালোচনা করেছেন মাহাথির মোহাম্মদ। সেখানে তিনি শান্তিপূর্ণ উপায়ে ভারত-পাকিস্তানকে কাশ্মীর সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তার ওই বক্তব্যের পর ভারতীয় উগ্র হিন্দুত্ববাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমর্থকরা সামাজিক মাধ্যমে বয়কট মালয়েশিয়া প্রচার চালিয়েছেন।

তবে মাহাথির বলেন, জাতিসংঘে তার দেয়া ভাষণের প্রেক্ষাপটে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বার্তা তাদের কাছে আসেনি।

তিনি বলেন, এযাবৎ আমার কাছে কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি। মোদিকে আমি বলেছি- তার যদি কোনো অসন্তোষ থাকে, তবে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে।

এর আগে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সাইফুল্লাহ আবদুল্লাহ বলেছেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে যেকোনো ধরনের নিপীড়নের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়া জোরালো ভূমিকা রাখবে। মালয়েশিয়া এমন একটি পররাষ্ট্রনীতির চর্চা করে, যেটি কোনো জোটকেন্দ্রিক না।

অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল ছাড়া সবার সঙ্গে আমরা বন্ধুত্ব ও বাণিজ্য চাই বলেও জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা জম্মু-কাশ্মীর ছাড়াও রোহিঙ্গা ও কম্বোডিয়ার গণহত্যার বিরুদ্ধেও কথা বলেছি।

সাইফুল্লাহ বলেন, কাশ্মীর নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি জানতে ড. মাহাথিরকে ফোন করেছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। রাশিয়ার একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মোদির সঙ্গে আলোচনায়ও নিজের অবস্থান জানিয়েছেন তিনি।

কাশ্মীর সংকট নিরসনে সরকার কী করছে প্রশ্নে মালয়েশিয়ার ওই মন্ত্রী বলেন, পররাষ্ট্রনীতি কাঠামোয় সম্প্রতি নতুন একটি অধ্যায় চালু করা হয়েছে। তাতে জম্মু ও কাশ্মীরসহ নিপীড়িতদের প্রতিনিধি হয়ে লড়াই করে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ