বুধবার ০৩ জুন ২০২০
Online Edition

সোনারগাঁয়ে গার্মেন্ট কর্মীকে রাতভর ধর্ষণ ॥ গ্রেফতার ৫

নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এক গার্মেন্টস কর্মীকে রাতভর গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার দিবাগত রাতে জামপুর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত আরও দুইজন এখনও পলাতক রয়েছে। এদিকে ঘটনার পর ওই গার্মেন্টস কর্মীকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে ৭ জনকে আসামি করে ওই গার্মেন্ট কর্মী বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।
সোনারগাঁ থানায় দায়ের করা মামলার এজহারে বাদী উল্লেখ করেন, রূপগঞ্জের রবিন গার্মেন্ট তিনি কর্মরত। সোমবার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে গার্মেন্ট ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার জন্য গার্মেন্টের সামনে থেকে গাউছিয়া যাওয়ার জন্য একটি সিএনজিতে উঠেন। ওই সময়ে জাহাঙ্গীর নামের এক অভিযুক্ত ধর্ষক পেছনের সিটে বসা ছিল। গাউছিয়া যাওয়ার পর ওই গার্মেন্ট কর্মী সিএনজি অটোরিকশা থেকে নামতে চাইলে পেছনের সিটে বসা জাহাঙ্গীর তাকে বাঁধা দেয়। পরে সিএনজি চালককে সিএনজিটি দ্রুত গতিতে তালতলার দিকে চালিয়ে যেতে বলে। চালক ধর্ষক জাহাঙ্গীরের কথা মতো গাড়িটি চালিয়ে যায়। এ সময় ওই গার্মেন্ট কর্মীর মুখে সাদা রঙের স্কচটেপ লাগিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তালতলা এলাকায় হালিম মিয়ার ঘরে নিয়ে আটকে রাখে তাকে। ওই সময় হালিম মিয়া বাড়িতে ছিলেন না।
পরে ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের মুজিবুর রহমানের বখাটে ছেলে আবু সাইদ, রেহাজউদ্দিনের ছেলে ইমরান, নবি হোসেনের ছেলে রনি, আবু সিদ্দিকের ছেলে আবুল হোসেন, ভট্টু মিয়ার ছেলে মাসুদ, আমির হোসেনের ছেলে আরিফ ও সামসুল হকের ছেলে জাহাঙ্গীর ওই গার্মেন্ট কর্মীকে রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণ করে। রাত সাড়ে তিনটার দিকে হালিম মিয়া বাড়িতে এসে এ ঘটনা দেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৫ ধর্ষককে গ্রেফতার করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ধর্ষক আরিফ ও জাহাঙ্গীর পালিয়ে যায়। পুলিশ অসুস্থ ওই গার্মেন্ট কর্মীকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে দুপুরে এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় ওই গার্মেন্ট কর্মী বাদি হয়ে ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
তালতলা ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আহসানউল্লাহ বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুজন পলাতক রয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ভিকটিম উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, গণধর্ষণের ঘটনার মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের আদােেলত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
ফতুল্লায় স্টিল মিলে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ তিন
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি স্টিল মিলে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ বিস্ফরণে তিনজন শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় আলীগঞ্জ এলাকার নিউ ঢাকা মর্ণিং স্টিল মিলে এই ঘটনা ঘটে। দগ্ধরা হলেন, হাবিব, আব্দুর রহিম ও সোহাগ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা যায়, সকাল দিকে চুল্লিতে লোহা গালাচ্ছিলেন হাবিব, আব্দুর রহিম ও সোহাগ। এ সময় হঠাৎ করে বিস্ফোরণ ঘটে এবং তারা দগ্ধ হন। পরে তাদেরকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল নেওয়া হয়।
নিউ ঢাকা মর্ণিং স্টিল মিলের ম্যানেজার জহিরুল ইসলাম জানান, হাবিব, আব্দুর রহিম ও সোহাগ চুল্লির কাছে কাজ করছিলেন। চুল্লির আশপাশে লোহা জমে থাকে। যা পরিস্কার করে নিতে হয়। কিন্তু আজ তারা সেটা করেনি। ফলে অসাবধানতা বশত চুল্লি থেকে গলিত লোহা ছিটকে এসে তাদের শরীরের উপর পড়ে। এতে তারা দগ্ধ হয়। আমরা তাদেরকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাই। তাদের চিকিৎসা চলছে। ডাক্তার জানিয়েছেন তাদের ৪০ শতাংশ ঝলসে গেছে।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম হোসেন বলেন, ‘চুল্লি বিস্ফোরণ বা গলিত লোহা ছিটকে এসে নয়। সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় তিন শ্রমিক দগ্ধ হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দগ্ধদের মিল কর্তৃপক্ষ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ নিয়ে গেছে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ