শনিবার ৩০ মে ২০২০
Online Edition

মংলা বন্দর ব্যবহারে খুলনাঞ্চলের ব্যবসায়ীদের মাঝে চাঞ্চল্য

খুলনা অফিস : মংলা বন্দর ব্যবহার নিয়ে বাংলাদেশের সাথে ভারতের চুক্তির পর খুলনাঞ্চলের ব্যবসায়ীদের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের ব্যবহারের জন্য মংলা সমুদ্র বন্দর প্রস্তুত রয়েছে। জেটি নোঙ্গর করার ব্যবস্থা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে প্রবেশের চ্যানেলে ড্রেজিং শুরু হবে। রামপাল পর্যন্ত ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। একই সাথে বিদেশ থেকে মংলা বন্দরে জাহাজ আসার পরিমাণ প্রতি মাসেই বাড়ছে। গত অর্থ বছরে মংলা বন্দর দিয়ে ২ লাখ মেট্রিক টন পণ্য ওঠানামা করে। গত তিনদিনে শিল্প ও বন্দর নগরী খুলনার ব্যবসায়ী মহলে আলোচনা ভারত মংলা বন্দর ব্যবহার করলে একদিকে যেমন পরিবহন ব্যবসায়ীরা লাভবান হবে অন্যদিকে বন্দরের আয় বাড়বে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফখরুদ্দিন জানান, দেশের দ্বিতীয় সমুদ্র বন্দর মংলায় যে পরিমাণ ক্যাপাসিটি রয়েছে তা’ ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তবে জেটি ও নোঙ্গর ব্যবস্থা প্রস্তুত রয়েছে। বিদেশেী জাহাজ এসে যেকোন সময়ে বন্দরে ভিড়তে পারবে। তিনি বলেন, সম্প্রতি নেপালের হাই কমিশনারের সাথে আলোচনা হয়েছে। তারা মংলা বন্দর ব্যবহারে সন্তুষ্ট। তিনি আরও জানান, আগস্ট মাসে ৭০টি, সেপ্টেম্বর মাসে ৮৪ টি জাহাজ বন্দরে আসে। অক্টোবর মাসে ১শ’ জাহাজ আসবে বলে তিনি আশাবাদী।
খুলনার সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, ভারত মংলা বন্দর ব্যবহার করলে এ অঞ্চলের মানুষের কর্মচাঞ্চল্য বাড়বে। কংর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হবে। তিনি আরও বলেন, তবে পণ্য আনা নেয়ায় আমাদের সড়কগুলোর লোড ক্যাপাসিটি বাড়ানো প্রয়োজন হবে এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের দরকার হবে।
মংলা-রামপাল আসনের সংসদ সদস্য বন ও পরিবেশ উপ-মন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার বলেন, এ চুক্তির ফলে উভয় দেশই বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হবে। মংলা বন্দরের রাজস্বের পরিমাণ বাড়বে।
বন্দর ব্যবহারের সুবিধার দিক তুলে ধরে খুলনা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি কাজি আমিনুল হক বলেন, ক্যারিং সেক্টরের সুবিধা বাড়বে। সিএন্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী ও শিপিং এজেন্ট ব্যবসায়ীরা কাজ পাবে বেশি বেশি। সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। বন্দর কর্তৃপক্ষ পোর্ট ডিউজ পাবে। শ্রমিক কর্মচারীরা বেশি কাজের সুযোগ পাবে। তিনি বলেন, বন্দরের যে সক্ষমতা রয়েছে তার ৩০ শতাংশ ব্যবহার করে এখনকার ব্যবসায়ীরা। বাকি ৭০ শতাংশই অব্যবহৃত থাকে। ভারত ট্রানজিট সুবিধা নিলে সবদিক থেকে দেশেরই লাভ হবে।
মংলা বন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. সুলতান হোসেন খান বলেন, বাইরের দেশ বন্দর ব্যবহার করলে দেশের লাভ হয়। রাজস্বের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন বৃদ্ধি পায়।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রতিবেশী ভারত, নেপাল এবং ভুটানের সঙ্গে ট্রানজিট চুক্তি সই করে বাংলাদেশ। এর এক মাস পর ট্রানজিট সুবিধায় মংলা বন্দর ব্যবহার করে নেপাল। চীন থেকে আমদানি করা সার এ বন্দরের মাধ্যমে খালাস করে নেপালে নিয়ে যাওয়া হয়। সব মিলে ট্রানজিট সুবিধায় ৬০ হাজার ৩০০ টন পণ্য হ্যান্ডলিং করে।
বন্দরের সূত্র আরও জানায়, ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে এ বন্দরে জাহাজ এসেছে ৭৮৪টি আর গেল ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে জাহাজ এসেছে ৯১০টি। এক বছরের ব্যবধানে এখানে জাহাজ আগমন বৃদ্ধি পেয়েছে ১২৬টি। একইভাবে ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে পণ্য ওঠানামার পরিমাণ ছিল ৯৭ লাখ মেট্রিক টন আর সদ্য শেষ হওয়া ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে পণ্য ওঠানামা করেছে এক কোটি ২ লাখ মেট্রিক টন। সে হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে এ বন্দরে পণ্য ওঠানামার ব্যবধান বেড়েছে ৫ লাখ মেট্রিক টন। এ ছাড়া গত এক অর্থবছরের ব্যবধানে এ বন্দরে কন্টেইনার ওঠানামা বৃদ্ধি পেয়েছে ১৩ হাজার ১১টি। অপরদিকে ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে মংলা বন্দরে আয় হয়েছে ২৭৬ কোটি টাকা আর সদ্য শেষ হওয়া ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে আয় হয়েছে ৩১৫ কোটি টাকা। এতে এক বছরে এ বন্দর ৩৯ কোটি টাকা বেশি আয় করেছে। অন্যদিকে ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে এ বন্দর সব আয় ব্যয় হিসাব শেষে নীট মুনাফা লাভ করেছে ১১০ কোটি টাকা আর সদ্য শেষ হওয়া অর্থ বছরে নীট মুনাফা আয় করেছে ১৩৫ কোটি টাকা। এতে গত অর্থ বছরের চেয়ে সদ্য শেষ হওয়া অর্থবছরে এ বন্দর ২৫ কোটি টাকা নীট মুনাফা আয় করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ