শনিবার ৩০ মে ২০২০
Online Edition

নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ পাওয়া গেলেই জরিমানা

খুলনা অফিস : নিষিদ্ধ সময়ে কারও কাছে ইলিশ পাওয়া গেলেই অর্থদণ্ড। ২২ দিন অন্যান্য জেলার মতো খুলনাও বিশেষ নজরদারীতে রাখবে মৎস্য অধিদপ্তর। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরাও প্রস্তুত। এদিকে বঙ্গোপসাগরে ইলিশ মওসুমে সব ধরনের মাছ জেলেদের আহরণে নিষেধাজ্ঞার খবরে জেলে ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। কাক্সিক্ষত মাছ না পাওয়ায় একদিকে জেলেরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে অন্যদিকে আবারও ২২ দিনের অবরোধের মুখে পড়ছেন জেলেরা।
জানা গেছে, ইলিশের প্রধান প্রজনন মওসুম ৯ থেকে ৩০ অক্টোবর। তাই এই ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ শিকার, আহরণ, পরিবহণ, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়, বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ করেছে সরকার। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রতিবছরের মতো এবারও ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মা ইলিশ রক্ষায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও নিয়েছে নানা উদ্যোগ। উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে জেলা ও উপজেলায় সচেতনতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, নদী, সাগরের মোহনায় ও হাটবাজারে মাইকিং, ব্যানার, পোস্টারিং, প্রচারপত্র বিতরণ, জেলেদের সঙ্গে মতবিনিময় ও উঠান বৈঠক। মওসুম শুরুর আগেই মৎস্যজীবীদের ট্রলার ও নৌযান নদী বা সাগর থেকে তীরবর্তী স্থানে নিরাপদ হেফাজতে রাখা, জাল ও মাছ ধরার সরঞ্জাম দূরবর্তী স্থানে সরিয়ে রাখা, নদী ও সাগরের মোহনায় ইলিশ বিচরণক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে দিনে ও রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও অভিযান পরিচালনা করা।
সাউথ সেন্ট্রাল রোড এলাকার ব্যবসায়ী মো. আমিরুল ইসলাম সাগর জানান, সোমবার নগরীর ৫নং ঘাটে গিয়েছিলাম ইলিশ কিনতে। দাম বেশি। ইলিশের কেস নামলেই তা বরফ দিয়ে ককসিটে সাজিয়ে রেখে দিচ্ছে। অনেকেই বলছে, ইলিশ ভারতে চালান হচ্ছে। তাই দাম একটু বেশি। কিন্তু আসল ঘটনা হচ্ছে, নিষিদ্ধ সময়ে বেশি দামে ইলিশ বিক্রি করবে বলে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ইলিশ মজুদ করছে।
নগরীর ৫নং মাছ ঘাট আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রশিদ হাওলাদার (হাজী সাহেব) জানান, ব্যবসায়ীরা ৯ তারিখের পর থেকে ২২ দিন ইলিশ মাছ বিক্রি করতে পারবে না। তাই বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় ইলিশ নিয়ে যাচ্ছে।
নতুন চর এলাকার মো. আব্দুস সবুর জানান, আমি ১৫ বছর ধরে সাগরে ইলিশ ধরতে যাই। গভীর পানি ও প্রবল স্রোতে ইলিশ প্রজননে অংশ নেয়। এ সময় জেলেদের জালে ব্যাপক হারে ডিমওয়ালা ইলিশ ধরা পড়ে। এ বছর জোয়ারে পানির উচ্চতা অনেক বেশি। নদীতে স্রোতও বেশি। ফলে এ বছর ইলিশ উৎপাদন গতবারের তুলনায় বৃদ্ধি পাবে।
খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু ছাইদ জানান, ৯ অক্টোবর থেকে আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারা দেশের ন্যায় ইলিশ শিকার, আহরণ, পরিবহণ, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়, বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এসময়ে আমরা এবং প্রশাসন তৎপর থাকবে। কোথাও কোনো ইলিশ পাওয়া গেলে জরিমানা করা হবে।
এদিকে বঙ্গোপসাগরে ইলিশ মওসুমে সব ধরণের মাছ জেলেদের আহরণে নিষেধাজ্ঞার খবরে জেলে ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় একদিকে জেলেরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে অন্যদিকে আবারও ২২ দিনের অবরোধের মুখে পড়ছেন জেলেরা।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সাগরে সব ধরণের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞায় ছিল। তবে ৫ মাসের মওসুমে তিন মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকায় জেলেরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। ওই সময় বেকার থাকায় ঋণে জড়িয়ে পড়ছেন অনেকেই। এতসব ক্ষতি মেনে নিয়ে বাংলাদেশি জেলেরা মাছ আহরণ বন্ধ রাখলেও বাংলাদেশের জল সীমায় প্রবেশ করে বিদেশী জেলেরা মাছ আহরণ করে নিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে বাংলাদেশে সামুদ্রিক মাছের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।
জেলেরা জানান, আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গহীন সাগরে গিয়ে মাছ আহরণ করি। কিন্তু গেল বছরের থেকে এবছর মাছ কম পাওয়ায়, মালিকের দেনা পাওনা পরিষোধ করতে পারছি না। ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবরের অবরোধকে সাধুবাদ জানিয়ে জেলেরা বলেন, ৬৫ দিনে অবরোধটা একটু কমিয়ে এবং অবরোধের সময় এগিয়ে নিয়ে আসলে জেলেদের সুবিধা হবে। এছাড়া অবরোধের সময় জেলেদেরকে সরকারিভাবে সহযোগিতা বৃদ্ধির দাবি জানান তারা।
ব্যবসায়ীরা জানান, আমরা এ বছরের মত কোন বছর ক্ষতির সম্মুখীন হইনি। প্রতিবার সাগরে একটি ট্রলার পাঠাতে দেড় থেকে দুই লক্ষ টাকা খরচ হয়। কিন্তু এবছর যে মাছ পাচ্ছি, তাতে খরচের টাকাও উঠছে না।
বাগেরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র কেবি বাজার মাছ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অনুপ কুমার বলেন, ৩০ বছর ধরে ব্যবসা করি ইলিশ মাছের এমন বিপর্যয় জীবনে দেখিনি। বর্তমানে মাছের যে অবস্থা তাতে এ ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই। এবছর সবচেয়ে বড় লোকসানের মুখে পড়েছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ