বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

হংকংয়ে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিক্ষোভ

৭ অক্টোবর, রয়টার্স : হংকংয়ে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিক্ষোভ অব্যাহত আছে। গতকাল হাজার হাজার সরকারবিরোধী রাস্তায় নেমে আসেন। এদের মধ্যে অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদিকে চীনা সেনাবাহিনী বিক্ষোভকারীদের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

দিন যতই গড়াতে থাকে ততই বিক্ষোভ জোরালো হয়। বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনে নামে গণতন্ত্রপন্থিরা। তারা মুখোশ পরায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান। আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। অনেকের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ।

কয়েকটি স্থান থেকে বেশ কিছু বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হলেও সংখ্যা জানায়নি পুলিশ। লি নামের এক বিক্ষোভকারী বলেন, ঔপনিবেশিক আমলের আইন দিয়ে আমাদের দমানো যাবে না। আমরা সরকারের নতুন আইনে ভীত নই। আমরা বিক্ষোভ চালিয়ে যাবো।

এদিকে হংকংয়ে অবস্থান করা চীনা সেনাবাহিনী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের স্থাপনার ওপর কোনো আঘাত আসলে বিক্ষোভকারীদের গ্রেফতার করা হবে। এই প্রথম সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে গণতন্ত্রকামীদের সতর্ক করার ঘটনা ঘটল।

সেনাবাহিনীর অবস্থান করা ভবনের ছাদে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়েছে। সেখানে ইংরেজি এবং চীনা ভাষায় লেখা আছে : ‘সতর্কবার্তা, আপনারা আইন ভঙ্গ করছেন। গ্রেফতারের মুখে পড়তে পারেন।’

হাসপাতাল ছাড়লেন বোমায় দগ্ধ সাংবাদিক

হংকং-এ গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীদের পেট্রোল বোমায় দগ্ধ সেই সাংবাদিক হাসপাতাল ছেড়েছেন। গত সপ্তাহের শেষ দিকে পেট্রোলের আগুনে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের (আরটিএইচকে) ওই সাংবাদিকের মুখের কিছু অংশ পুড়ে যায়। আক্রান্ত হয় মাথা ও ঘাড়ের কিছু অংশ। চিকিৎসায় অবস্থার উন্নতি হলে সোমবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান তিনি। আরটিএইচকে-এর একজন মুখপাত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে দগ্ধ সাংবাদিকদের নাম জানাননি তিনি।

এক সময়কার ব্রিটিশ কলোনি হংকং এখন চীনের অংশ। ‘এক দেশ, দুই নীতি’র অধীনে কিছু মাত্রায় স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছে হংকং। অঞ্চলটির নিজস্ব বিচার ও আইন ব্যবস্থা রয়েছে, যা মূল চীনের চেয়ে ভিন্ন। গত ৯ জুন থেকে সেখানে কথিত অপরাধী প্রত্যর্পণ বিল বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের আশঙ্কা, ওই বিল অনুমোদন করা হলে ভিন্নমতাবলম্বীদের চীনের কাছে প্রত্যর্পণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। লাখো মানুষের উত্তাল গণবিক্ষোভের মুখে এক পর্যায়ে ওই বিলকে ‘মৃত’ এবং পরে বাতিল বলে ঘোষণা দেন হংকংয়ের চীনপন্থী শাসক ক্যারি ল্যাম। তবে এতে আশ্বস্ত হতে না পেরে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে সেখানকার নাগরিকরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হংকংয়ের স্বাধীনতা, বৃহত্তর গণতন্ত্র ও চীনের নিযুক্ত নির্বাহী প্রধানের পদত্যাগের দাবি। চলমান আন্দোলনে গত সপ্তাহের শেষ দিকে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার সেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে পুলিশ। কর্তৃপক্ষের দাবি, সে সময় আন্দোলনকারীদের নিক্ষেপ করা পেট্রোল বোমার আঘাতে দগ্ধ হন ওই সাংবাদিক।

হেলমেট পরিহিত অবস্থায় থাকায় তার মাথায় ও ঘাড়ে আগুনের আঁচ লাগে। রয়টার্সে প্রকাশিত ছবিতে গেছে, তার প্লাস্টিকের রেইনকোটে আগুন ধরে। আরটিএইচকে-র ওই মুখপাত্র বলেন, ‘তিনি এখন সুস্থ আছেন।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ