বুধবার ২৫ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

পূজায় সহিংসতার শঙ্কা নেই----ডিএমপি কমিশনার

 

স্টাফ রিপোর্টার : এবার দুর্গাপূজাকে ঘিরে সহিংসতার কোনো গোয়েন্দা তথ্য না থাকলেও যে কোনো পরিস্থিতি সামাল দেয়ার মতো পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রেখেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনে এসে গতকাল বৃহস্পতিবার এ কথা বলেছেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো সহিংস ঘটনার তথ্য আমাদের কাছে নেই। ঝুঁকিপূর্ণ কোনো ম-পের তথ্য আমরা পাইনি।”

ডিএমপি কমিশনার বলেন, “কোনো হামলার আশঙ্কা যদিও নেই, তবে হামলা হলে যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে আমাদের।” পূজার সময় নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঢাকার সব পুলিশ লাইনের পাশাপাশি আলাদা পুলিশও প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

আজ শুক্রবার বিকালে দেবী বোধনের মধ্যে দিয়ে শুরু হবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। এবার রাজধানীর ২৩৭টি পূজা অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে চারটি পারিবারিক। ২৩৩টি পূজার মধ্যে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন, বনানী ও কলবাগানের সার্বজনীন দূর্গাপূজাকে ‘বিশেষ’ শ্রেণিভুক্ত করেছে ডিএমপি। এছাড়া সিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়ি, রমনা কালীবাড়ি, বসুন্ধরা সার্বজনীন দূর্গাপূজা, উত্তরা ও কৃষিবিদ ইন্সটিটিউটের পূজাকে ‘বৃহত্তম’ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। এছাড়া রাজধানীতে ৮৬টি মন্ডপকে দুই তারকা, ৭৭টি মন্ডপকে এক তারকা এবং ৬১টি মন্ডপকে সাধারণ ক্যাটাগরিতে রেখেছে পুলিশ।

পূজায় যেসব মন্দিরের পাশে মেলা হবে তা সংক্ষিপ্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ডিএমপির পক্ষ থেকে। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বরা যেসব মন্দিরে যাবেন, সেখানে ডগ স্কোয়াড ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশী এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। এছাড়া পূজার সময় ঢাকায় বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও রেখেছে ডিএমপি। প্রতিটি মন্ডপে স্বেচ্ছাসেবকদের বিশেষ আর্মব্যান্ড পরার নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনও গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শন করেছেন। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পূজার সময় রাজধানীর কোথাও জলাবদ্ধতা হলে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ইমারজেন্সি রেন্সপন্স টিম সাথে সাথে মাঠে নামবে। ভারী জলাবদ্ধতা হলে সঙ্গে সঙ্গে তাদের মোতায়েন করা হবে বলে জানান তিনি।

দুর্গাপূজার সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকেশ্বরী মন্দিরে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল পাঁচটার মধ্যে সব মন্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কমিটির সাধারণ সম্পাদক কিশোর রঞ্জন ম-ল জানান, গতবার রাজধানীতে ২২৭টি ম-প ছিল। এবার তা বেড়ে ২৩৭টি হয়েচে। কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার সহ অন্যান্যরাও উপস্থিত ছিলেন ছিলেন এ সম্মেলনে। দুর্গোৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে মহানগর এলাকার মন্দিরগুলোকে কিছু নির্দেশনাও দিয়েছে কমিটি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- মন্ডপে নারী ও পুরুষের চলাচলের আলাদা পথ রাখা; প্রতিটি ম-পে কমপক্ষে ১০ জন নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক ও ২৪ ঘণ্টা তদারকির ব্যবস্থা রাখা; আতশবাজি ও পটকা না ফোটানো; ৮ অক্টোবর রাত দশটার মধ্যে বিসর্জন সম্পন্ন করা; মন্দির ও সমগ্র এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা; ভক্তিমূলক সংগীত ছাড়া অন্য সংগীত বাজানো থেকে বিরত থাকা; প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা ইত্যাদি। এবছর দুর্গোৎসব ৪ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে শুরু হয়ে ৮ অক্টোবর দশমীর মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ