বুধবার ২৫ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

 তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ফসল

ইবরাহীম খলিল : ফারাক্কার গেট খুলে দেওয়া এবং উজান থেকে নেমে আসার পাশাপাশি অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলার বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। প্রতিদিন বাড়ছে বন্যার পরিধি। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনাসহ বেশ কয়েকটি জেলার নিচু চরাঞ্চলগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে, পানিবন্দী হয়ে পড়েছে সেসব এলাকার  মানুষ। ভারতে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে হওয়া বন্যার পানি নামতে থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙ্গন কবলিত এলাকার মানুষের নির্ঘুম রাত কাটছে চরম আতঙ্কে। 

বাংলাদেশে অক্টোবর মাসে সাধারণত বন্যা না হলেও গত কয়েকদিন ধরেই ভারতের বিহার ও উত্তর প্রদেশে প্রবল বৃষ্টিজনিত বন্যা চলছে এবং ভারতের গঙ্গা নদী থেকে আসা ঢলেই অসময়ের এই বন্যা। অপ্রত্যাশিত এই বন্যায় রাজশাহী, কুষ্টিয়া, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মুন্সীগঞ্জ এলাকায় বহু এলাকার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। 

ভারত হঠাৎ করেই ফারাক্কা বাঁধের সব গেট খুলে দেয়ায় বাংলাদেশে পদ্মা নদী ও এর বিভিন্ন শাখা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির আশংকা। পদ্মায় পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় রাজশাহী, পাবনা ও কুষ্টিয়ায় পদ্মা তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকা ও নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। ডুবে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ফসল। বসত বাড়িতে পানি ওঠায় অনেকে গৃহপালিত পশুপাখি নিয়ে উঁচুস্থানে ঠাঁই নিয়েছেন।

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী কেএম জহুরুল হক জানান, বৃহস্পতিবার সকালে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মায় পানি বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানির উচ্চতা রয়েছে ১৪ দশমিক ৩৩ সেন্টিমিটার। বিপৎসীমা ১৪ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার। এ কারণে পাবনার ঈশ্বরদী ও কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা অঞ্চলে নদী তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়ে বন্যায় রূপ নিয়েছে। তলিয়ে গেছে চরে আবাদকৃত শতশত বিঘা জমির ফসল। ফারাক্কার প্রভাবে যেমন শুষ্ক মৌসুমে শুকিয়ে যায় পদ্মাসহ শাখা নদীগুলো, তেমনি এই সময় হঠাৎ করে বাঁধের সবগুলো গেট খুলে দেয়ায় প্রবল গতিতে পদ্মায় পানি বাড়ছে। স্রোতের তোড়ে ঈশ্বরদী উপজেলার নদী তীরবর্তী বেশ কিছু এলাকার এক হাজার হেক্টর জমির সবজি-ফসল ও নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। ঈশ্বরদীর সাঁড়া, পাকশী ও লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের শত পরিবার ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। 

পাবনা পাউবোর হাইড্রোলজি বিভাগের উত্তরাঞ্চলীয় নির্বাহী প্রকৌশলী কেএম জহুরুল হকের জানিয়েছেন, গত ৭ দিনে পানির উচ্চতা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। পদ্মার বিপৎসীমা নির্ধারণ আছে ১৪ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার। গতকাল সকালে পাকশীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে ছিল ১৪ দশমিক ৩৩ সেন্টিমিটার। যা বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার বেশি। পানি পানি বৃদ্ধি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, অনেক বছর ধরে আষাঢ়-ভাদ্র মাসে বন্যা না হওয়ায় তারা অনেকটা নিশ্চিন্তে ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে ২৫ সেপ্টেম্বর এলাকায় পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। ধীরে ধীরে খেত তলিয়ে যেতে থাকে। গত ছয় দিনে পানি ঘরের আঙিনায়ও ঢুকে পড়েছে। বাড়ির ভেতরে ও আঙিনায় পানি প্রবেশ করায় পোকামাকড় ও সাপের উপদ্রব বেড়েছে। 

পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, পদ্মার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করার আগে থেকেই জেলা প্রশাসন সতর্ক দৃষ্টি রাখছে। ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নদীরপাড় এলাকার এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যখন যেভাবে প্রয়োজন জেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিক সেভাবে ব্যবস্থা নেবে। 

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ১৩ ও পাংশার সেনগ্রাম গেজ স্টেশন পয়েন্টে পদ্মার পানি বেড়ে বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দৌলতদিয়া পয়েন্টে ১ ও সেনগ্রাম পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সদরের মহেন্দ্রপুর গেজ স্টেশন পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপদসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নদী তীরবর্তী ফসলি জমিসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জেলার হাজার হাজার পরিবার। তলিয়ে গেছে যাতায়াতের রাস্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়িসহ বিস্তৃর্ণ এলাকা। বিস্তীর্ণ এলাকা ডুবে যাওয়ায় গবাদি পশুর খাবার সংকট দেখা দিয়েছে নিম্নাঞ্চলগুলোতে।

এদিকে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে তীব্র স্রোতের কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। গত এক সপ্তাহের বেশি সময়ের ভাঙনে জেলা সদরের মিজানপুরের মহাদেবপুর, গোদার বাজার, গোয়ালন্দের ছোটভাকলা, দেবগ্রাম কাওলজানি ও দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শতশত বসতবাড়ি, মসজিদ, মাদরাসা, কবরস্থান হুমকির মুখে রয়েছে। এছাড়া ইতোমধ্যে ভাঙনের বিলীন হয়েছে ১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শতশত বসতবাড়ি, শতশত বিঘা ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা। পানি ওঠায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে জেলার ৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। অপরদিকে ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে দক্ষিণ পশ্চিমঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত দৌলতদিয়া লঞ্চ ও ফেরি ঘাটসহ ওই এলাকার বসতবাড়ি ও স্থাপনা।

পানিবন্দিরা জানান, হঠাৎ নদীর পানি বৃদ্ধিতে তাদের চলাচলের রাস্তা-ঘাট, বসতবাড়ি, ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা তলিয়ে গেছে। দেখা দিয়েছে নানাবিধ সমস্যাসহ গবাদি পশুর খাবার সংকট। ৫ থেকে ৭ দিন ধরে পানিবন্দি হলেও এখন পর্যন্ত কোথাও থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাননি। এছাড়া পানির কারণে বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারছে না। বাড়ির চারিদিকে পানি ওঠায় চলাফেরাও সমস্যা দেখা দিয়েছে। এখন তারা চলাচলের জন্য নৌকা ব্যবহার করছেন।

দৌলতদিয়ায় নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, গত কয়েকদিনের ভাঙনে তাদের ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের ঢল্লাপাড়া, বেপারীপাড়া ও জলিল মন্ডলেরপাড়ার শতশত বিঘা ফসলি জমিসহ প্রায় ৩ শতাধিক পরিবার ভাঙনের শিকার হয়েছেন। আরঙ ভাঙনে হুমকিতে রয়েছে কয়েকশ পরিবার। কিন্তু ভাঙন রোধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ। এসব এলাকা ভাঙার কারণে এখন দৌলতদিয়া ঘাট হুমকির মুখে। স্রোত গিয়ে সরাসরি ঘাটে আঘাত করছে। ঢল্লাপাড়া, বেপারীপাড়া ও জলিল মন্ডলেরপাড়া রক্ষা হলে ঘাটও রক্ষা হবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হোসনে ইয়াসমিন করিমী জানান, পদ্মার পানি বৃদ্ধির ফলে রাজবাড়ী সদরে ৩টি, গোয়ালন্দে ১টি ও কালুখালীতে ৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পানি কমে গেলে বিশেষ ক্লাসের মাধ্যমে এ ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া হবে। লঞ্চঘাট সুপারভাইজার মো. মোফাজ্জেল হোসেন জানান, স্রোতের কারণে লঞ্চঘাট হুমকিতে রয়েছে। লঞ্চ স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না।

বি আইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আবু আব্দুল্লাহ রনি জানান, পানি বৃদ্ধির সঙ্গে তীব্র স্রোতে কিছুদিন ফেরি চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। বর্তমানে স্রোতের কারণে ১নং ফেরি ঘাট বন্ধ রয়েছে এবং ২নং ঘাটেও সমস্যা রয়েছে। ঘাট এলাকার ভাঙন রোধে কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। গোয়ালন্দ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আরিফ সরকার জানান, দৌলতদিয়া ঘাট রক্ষায় ১নং ও ২নং ফেরি ঘাটে জরুরি আপোদকালীন ডাম্পিংয়ের কাজ চলছে। পুরো ঘাট এলাকায় কাজ চলবে। এছাড়া দেবগ্রাম ও দৌলতদিয়া ইউনিয়নের অন্যান্য ভাঙন স্থানে এখনো কাজ শুরু হয়নি।

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম জানান, জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা রক্ষায় জরুরি ডাম্পিংয়ের কাজ করছে। রাজবাড়ীতে ভাঙন রোধে স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। দৌলতদিয়া ঘাট রক্ষায় কাজ শুরু হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ঘাট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় জন্য বলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, জেলায় প্রায় ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে জিআর চাল বিতরণ করা হবে। বন্যার্তদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে।

বন্যায় নাটোরের লালপুর উপজেলায় এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিপাতের সঙ্গে ফারাক্কার পানি মিলে সৃষ্ট বন্যার কারণে এবার ডুবে গেছে ৫০০ হেক্টর জমির আখ। আগামী ১ নভেম্বর থেকে উৎপাদনে যাওয়া নর্থ বেঙ্গল চিনিকলে এবার আখ মাড়াইয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ২ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন। চিনিকল কর্তৃপক্ষের দাবি পানিতে আখ তলিয়ে যাওয়ায় এবার অন্তত ১ লাখ মেট্রিক টন আখের ঘাটতি থেকে যাবে। ফলে আসন্ন মৌসুমে নর্থ বেঙ্গল চিনিকল কিভাবে উৎপাদনে যাবে এ নিয়ে শঙ্কিত কর্তৃপক্ষ।গত দুইদিনে ডুবে যাওয়া এসব চর ঘুরে প্রাথমিক অবস্থায় ফসলের ক্ষতি নিরূপণ করেছে লালপুর উপজেলা কৃষি অফিস। তাদের তথ্য মতে প্লাবিত জমির মধ্যে ৫০০ হেক্টর জমির আখ রয়েছে।

পদ্মা তীরবর্তী বিলমাড়িয়া, চর দিয়ারবাহাদুরপুর, দিয়ার শংকরপুর, বন্দোবস্ত গোবিন্দপুর, চর লস্করপুর, নওশারা সুলতানপুর, আরাজি বাকনাই, চাকলা বিনোদপুর, চর লালপুরসহ ১৮টি চরেই শীতকালীন আগাম সবজির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আখ উৎপাদন হওয়ায় ফলে এবার আখের সঙ্গে সবজিও তলিয়ে গেছে।

চরজাজিরা গ্রামের শরন রায় বলেন, গত কয়েক মৌসুমে আখ উৎপাদন করে লোকসানের সম্মুখীন হয়েছি। লোকসান পুষিয়ে নিতে আখ সংগ্রহের পর জমিতে বাদাম আবাদের পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্ত জমি তলিয়ে যাওয়ায় আখ তো গেলই, পানি না কমা পর্যন্ত বাদামও রোপণ করতে পারবো না।

লালপুর বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের চর অধ্যুষিত এলাকার ইউপি সদস্য আনিসুর রহমান জানান, তার এলাকার একটা চরেই কয়েক'শ পরিবারের বাস যারা আখ আবাদ করেন। শীত মৌসুমের আখ বিক্রির টাকাতেই তাদের সংসার চলে পরবর্তী কয়েক মাস। তারা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

নওসারা চরের কৃষক আব্বাস আলী নর্থ বেঙ্গল চিনিকলের চুক্তিবদ্ধ আখচাষি। তিনি জানান, পদ্মার পানি তার ২৭ বিঘা আখের জমিতে প্রবেশ করেছে। পানি দ্রুত নেমে গেলে কিছু আখ সংগ্রহ করা যাবে। কিন্ত পানি নামার কোন লক্ষণ নেই। লালপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক ও ঈশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম কয়েক হাজার আখচাষিকে সরকারি প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। 

নাটোর নর্থবেঙ্গল সুগার মিলের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মাজহারুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০০ হেক্টর অর্থাৎ ৩ হাজার ৭৫০ বিঘা জমি আখ পানির নিচে রয়েছে যার ফলে নিশ্চিতভাবে আসন্ন মৌসুমে চিনির উৎপাদন কমে যাবে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে নতুন করে আখের জমি প্লাবিত হতে পারে। বিষয়টি চিনি শিল্প করপোরেশনকে অবহিত করা হয়েছে।

পানি বন্দী দুই শতাধিক পরিবার

কুমারখালীতে বন্যায় দুই হাজার হেক্টর কৃষি জমি প্লাবিত

কুমারখালী সংবাদদাতা ঃ পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় কুষ্টিয়ার কুমারখালীর জগন্নাথপুর ইউনিয়নে গত দুইদিনে কলা,আঁখ,মাস কলাই,ধান,শীতকালীন সবজ্বিসহ প্রায় দুই হাজার হেক্টর কৃষি জমি প্লাবিত হয়েছে। পানি বন্দী রয়েছে চর জগন্নাথপুর, চর মহেন্দ্রপুর, চর ভবানীপুরসহ পাঁচটি গ্রামের দুই শতাধিক পরিবার। পানি বৃদ্ধি অব্যহত থাকলে পাঁচটি গ্রামের প্রায় ১৪-১৫ হাজার মানুষ পানি বন্দীর আশঙ্কা রয়েছে। গ্রামগুলো দশদিন যাবৎ প্লাবিত হলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ্য থেকে নেওয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা। বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিন গেলে, চর জগন্নাথপুর গ্রামের হামিদ খাঁর ছেলে কৃষক নুরু খাঁ জানান, আমার ৭ বিঘা জমির কলা ও ৩ বিঘা জমির মাস কালাই পানিতে ডুবে গেছে। একই গ্রামের কালাম দোকানদার জানান, ৮ বিঘা জমির কলা, ৫ বিঘা কালায় ও কিছু সবজিসহ সব ডুবে গেছে। চর ভবানীপুর গ্রামের হারুন বলেন, বন্যার পানিতে চলাচলের রাস্তাসহ চারিদিকে ডুবে গেছে। বাড়ির উঠানে পানি। বউ ছেলে মেয়ে নিয়ে পানিবন্দী জীবন কাটাচ্ছি।

এবিষয়ে জগন্নাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ খান জানান, পদ্মার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় প্রতি বছরের ন্যায় এবারো আমার এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় দুই হাজার হেক্টর ধান, আঁখ, কলা, মাস কালায়, সবজ্বিসহ কৃষি জমি প্লাবিত হয়েছে। পানি বন্দী আছে দুই শতাধিক পরিবার। তিনি জানান, পানি বৃদ্ধি অব্যহত থাকলে প্রায় ১৪-১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়বে। তিনি আরো জানান,  জেলা প্রশাসক ও ত্রাণ বিভাগে সাহায্য -সহযোগিতার জন্য আবেদন করেছি। কিন্তু কোনবারই কিছু পায়নি। এদিকে কুমারখালী পৌর এলাকায় বন্যা দুর্গতদের মাঝে চাউল বিতরণ করা হয়েছে। পৌরসভার ৪ ও ৮ নং ওয়াডের্র কিছু অংশ বন্যা কবলিত হয়ে পড়ায় কুষ্টিয়া ৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। পৌরসভার এই দুটি ওয়ার্ডে ৭০ টি পরিবারে ১০ কেজি করে চাউল বিতরণ করা হয়। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রাজিবুল ইসলাম খান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল ইসলাম, কাউন্সিলর এস এম রফিক, কাউন্সিলর ফরিদ খান, কাউন্সিলর তুহিন প্রমুখ।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ