শুক্রবার ২৭ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারো  অনুকম্পায় মুক্ত হবেন না -মির্জা ফখরুল

 

স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারো অনুকম্পায় মুক্ত হবেন না। অবশ্যই তার জামিন পাওয়ার যে ন্যায্য অধিকার, সেই অধিকারেই মুক্ত হবেন। মিথ্যা মামলা দিয়ে আর যাই হোক, তাকে আটকে রাখা যাবে না। জনগণ তাদের প্রিয় নেত্রীকে অবশ্যই আন্দোলনের মাধ্যমে বের করে আনবে ইনশাআল্লাহ। প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরের মাধ্যমে দেশের জনগণ চিস্তার পানি চুক্তি ও সীমান্ত হত্যা বন্ধের সুখবর শুনতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সীমান্তে হত্যা সমস্যার সমাধান হয় না, তিস্তার পানির সমস্যার সমাধান হয় না, ফারাক্কার বাঁধ খুলে দেয়ায় আমাদের বন্যা হয়ে যায় সেই সমস্যার সমাধান হয় না, বাণিজ্যের মধ্যে যে ভারসাম্যহীনতা আছে তার সমাধান হয় না। জনগণ চায় তিস্তাসহ সব অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশ পাবে। আমরা আশা করবো সীমান্তে যেন হত্যা বন্ধ হয়ে যায়।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। 

আয়োজক সংগঠন সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব প্রফেসর ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, মহাসচিব এম আব্দুল্লাহ, ডিইউজের সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, পেশাজীবী নেতা প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান, প্রফেসর ড. এম শামসুল আলম, রফিকুল ইসলাম, প্রফেসর ডা. মোস্তাক রহিম স্বপন, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, প্রকৌশলী ফখরুল ইসলাম, সাখাওয়াত হোসেন, বিপ্লব জামান, জাহানারা খাতুন, জাকির হোসেন, রিয়াজুল ইসলাম রিজু প্রমুখ।

উল্লেখ্য যে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও তিস্তার পানি বণ্টন বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি ৮টি সমঝোতা স্মারক সামনে রেখে বৃহস্পতিবার ৩ অক্টোবর সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে নয়াদিল্লী পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনদিনের সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র  মোদির সঙ্গে আগামী শনিবার ৫ অক্টোবর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী।  

কাবাবন্দী খালেদা জিয়ার জামিনে মুক্তি নিয়ে দুদিন ধরে বেশ আলোচনা চলছে। বিএনপির সংসদ সদস্যরা বিএসএমএমইউতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে জানিয়েছেন, জামিন পেলে বিদেশ যাবেন খালেদা জিয়া। পরে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করে এ বিষয়ে প্রধামন্ত্রীর দৃষ্টি কামনা করেন। এমতাবস্থায় মির্জা ফখরুল আজ জানালেন খালেদা জিয়া কারো দয়ায় মুক্ত হবেন না। 

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজকে ক্যাসিনো নিয়ে খুব লাফালাফি হচ্ছে। ক্যাসিনো লুট করেছে। তার চেয়ে অনেক বড় সম্পদ লুট হয়ে গেছে। সেই সম্পদ হচ্ছে আমার ভোটের অধিকার, আমার গণতন্ত্রের অধিকার, আমাদের স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার। কিন্তু আমাদের দেশের সম্পদ লুট হয়ে গেছে এবং লুট করেছে এই আওয়ামী লীগ সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজকে প্রধানমন্ত্রী গেছেন ভারতে। আমরা সবসময় আশা করে থাকি, ভারতের সঙ্গে এই সরকারের নাকি সুউচ্চ সম্পর্ক। যতবার তিনি ভারত সফর থেকে ফিরেন ততবার দেখি আমাদের মূল সমস্যাগুলোর কোনও সমাধান হয় না। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যতবার ভারত সফরে যান ততবার আমরা হতাশ হই। কারণ উনি ভারতকে দিয়ে আসেন উজাড় করে, কিন্তু আনতে পারেন না কিছুই। 

মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখনই গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করেছে। এটাই তাদের ইতিহাস। তাদের চরিত্রের মধ্যে গণতান্ত্রিকতা বলতে কিছু নেই। ১৯৭৫ সালে বাকশাল সৃষ্টির মাধ্যমে একদলীয় শাসন চালু করতে চেয়েছিল। আজ কৌশল পাল্টে গণতন্ত্রের সব প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে দিয়ে ভিন্ন আঙ্গিকে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চলেছে। তিনি বলেন, এই সমস্যা শুধু বিএনপির নয়, শুধু পেশাজীবীদের নয়। এই সমস্যা সারা বাংলাদেশের মানুষের। যে জন্য ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধ করেছিলাম, যার মূলমন্ত্রই ছিল গণতন্ত্র, সেই গণতন্ত্রকেই তারা ব্যাহত করছে।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে নাকি এই সরকারের সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক। কিন্তু, সে দেশের নেতারা বিভিন্ন ধরনের কথা বলেন। তারা বলেন, আসাম থেকে বের করে দেওয়া হবে, উত্তর প্রদেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে। এসব কথায় স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের নাগরিকেরা উদ্বিগ্ন হই। মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের কেউ ভারতে গেছে বলে মনে করি না। এটা এক ধরনের ষড়যন্ত্রের কথা, যা দিয়ে বাংলাদেশের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের মাধ্যমে দেশের জনগণ সুখবর চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আজকে গেছেন ভারতে প্রধানমন্ত্রী। ভারতের সঙ্গে এই সরকারের নাকি সুউচ্চ সম্পর্ক। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) যতবার ভারত যান বারবার আমরা হতাশ হই। যতবার যান আসার পর দেখি আমাদের মূল সমস্যাগুলোর কোনো সমাধান হয় না।

খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করার আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া বাইরে থাকলে দুর্নীতি সম্ভব হবে না, নীলনকশা বাস্তবায়ন করতে পারবে না এজন্য তাকে আটকে রাখা হয়েছে। গণতন্ত্রের কথা বলে গণতন্ত্র ধ্বংস করে তাদের কৌশল পাল্টে এখন সংবিধান ধ্বংস করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে।

বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেন, সরকার মিথ্যা ও সাজানো মামলায় সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে কারাগারে বন্দী করে রেখেছে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করে দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হবে। তিনি আরও বলেন, তার নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র পুনঃউদ্ধারের আন্দোলন চলবে। আমরা তাকে মুক্ত করেই ঘরে ফিবরো। দেশের মানুষ এবং গণতন্ত্র উদ্ধারের স্বার্থে আমরা আজ রাজ পথে দাঁড়িয়েছি। এই সরকারের কাছে খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে কোন লাভ নেই। আমরা আন্দোলন করেই তাকে মুক্ত করবো।

পরিষদের সদস্য সচিব প্রফেসর ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়কে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গোটা দেশের মানুষ আজ খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে। পাশাপাশি আমরা পেশাজীবী সমাজও তার মুক্তির দাবিতে রাজপথে নেমে এসেছি। অথচ, সরকার দেশের মানুষের জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়া মুক্তির আন্দোলনকে উপেক্ষা করে তার ন্যায্য অধিকার জামিন দিচ্ছে না। 

সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ সভাপতির বক্তব্যে বলেন, বর্তমান এই অবৈধ সরকার তারা যারা সব সময় জনগণের অধিকার নিয়ে খেলা করেছে, যারা জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে, যারা সব সময় গণতন্ত্রের সাথে বেঈমানি করেছে। সেই অবৈধ সরকার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে আটক করে রেখেছে। একটাই মাত্র কারণ তারা জানেন যে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাইরে থাকলে দুর্নীতির যে স্বর্গরাজ্য, লুটতরাজের যে স্বর্গরাজ্য, দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার যে প্রক্রিয়া সেটা বাস্তবায়ন করতে পারবেন না। বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার যে নীলনক্শা সেই নীলনকশা তারা বাস্তবায়ন করতে পারবে না। সেই জন্যই আজকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আটক করে রেখেছে। আমরা আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবো বেগম জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ