সোমবার ০১ মার্চ ২০২১
Online Edition

বোকা ভুতের গল্প

দিপংকর দাশ  : হাট থেকে ফিরতে রাত হয়ে গেছে নিলয়ের। বাড়ি যেতে এক ঘন জঙ্গল পার হতে হয় তাকে। লোকমুখে শুনা যায় ঐ জঙ্গলে নাকি ভয়ানক ভুতের বসবাস। প্রথমে একটু ভয় পেলেও বাড়ি তো যেতেই হবে। তাই সৃষ্টিকর্তার নাম নিয়ে হাঁটা শুরু করে নিলয়। ঘন জঙ্গলের মাঝখান দিয়ে এক সরু রাস্তা চলে গেছে গ্রামের দিকে। চারিদিকে অন্ধকার। ঝিঁঝিঁ পোকা ডাকছে। মাঝে মাঝে ব্যাঙের ঘ্যাঙরঘ্যাঙ ঘ্যাঙরঘ্যাঙ শোনা যাচ্ছে। নিস্তব্ধ পরিবেশ। একটু বাতাসও নেই। হাতে ব্যাটারি চালিত টর্চলাইট। বেশি একটা আলো নেই। থমথমে পরিবেশের মধ্য দিয়ে ভয়ে ভয়ে হাঁটছে নিলয়। মাঝে মাঝে দুয়েকটা পাখির ডানা ঝাঁপটানোর শব্দ কানে আসছে। খুব ভয় করছে নিলয়ের। দ্রুত হাঁটার চেষ্টা। ভয়ের চোটে রাস্তাও ফুরায় না।

হাঁটতে হাঁটতে বনের মাঝখানে চলে এসেছে নিলয়। হঠাৎ হালকা গরম বাতাস লাগছে তার গায়। শরীর শিউরে উঠে তার। সে পিছনে তাকায় । তারপর আবার সামনের দিকে হাঁটতে থাকে। হঠাৎ একটা ডাল ভাঙার শব্দ শুনে পিছনে। ফিরে তাকায়। কিন্তু কিচ্ছু নেই। আবার হাঁটতে শুরু করে। এবার অট্টহাসির আওয়াজ কানে ভেসে আসে আকাশ ভারী করে। নিলয় ভয় পেয়ে চিৎকার করার চেষ্টা করে। কিন্তু তার গলা থেকে শব্দ বের হয় না। চোখ খুলে সামনে তাকাতেই দেখতে পায় মাটি থেকে আকাশ অবধি লম্বা সাদা কাপড় পরিহিত একটা ভুত ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। দাঁতগুলো ইয়া বড় বড়! এক কামড়েই দুনিয়া খেয়ে ফেলার মতো অবস্থা। ভয়ে চুপসে যায় নিলয়। গেছো ভুত তার ভয়ানক কন্ঠে ভয় দেখাতে তাকে নিলয়কে। নিলয় তো অজ্ঞান হওয়ার মতো অবস্থা। 

গেছো ভুত ভয়ানক কণ্ঠে বলে, ‘এই ছেলে, আমি তোর ঘাড় মটকাবো।  রক্ত পান করবো। তোকে মেরে ফেলবো।’ ভয়ে ভয়ে নিলয় জবাব দেয়, ‘আমি আপনার কি ক্ষতি করেছি ভুত মশাই? আমাকে ছেড়ে দিন। আমি আর কখনো আপনার এলাকায় আসবো না।’

‘তোকে ছেড়ে দিলে আমি খাবো কী? আর বাচ্চারা খাবে কী?’ গেছো ভুত চিৎকার করে বলে উঠে। উত্তরে নিলয় বলে, ‘আমি আপনার জন্য একটা ছাগল নিয়ে আসবো কাল। আজ আমাকে যেতে দিন।’

হি হি হি হা হা হা।  হাসতে হাসতে গেছো ভুত বলে, ‘কত দিন ধরে মানুষের মাংস খায় নি আমার বাচ্চারা। আজ আমি তোকে ছাড়বো না।’

নিলয় মহাবিপদে পড়ে যায়। সে সৃষ্টিকর্তাকে ডাকতে থাকে। হে প্রভু, আমাকে একটা পথ দেখান। নইলে এই ভুতের হাত থেকে আজ আমি বাঁচতে পারবো না।' এইসব বলতে বলতে নিলয়ের মাথায় একটি বুদ্ধি আসে। সে ভুতকে বোকা বানানোর ফন্দি আঁটে। সে চিৎকার করে বলে উঠে, ‘ওহে মহাশয়, আমাকে খাওয়া এত সোজা নয়। আমার কাছে তোমার চেয়েও এর বড় ভুত রয়েছে। দেখবে নাকি তাকে? দেখাবো?’

গেছো ভুত হাসতে হাসতে বলে, ‘আমার চেয়ে বড়! হা হা হা, দেখা তো!’

নিলয় তার পকেট থেকে মোবাইল বের করে একটা ইংলিশ হরর মুভির ভয়ানক ভুতের দৃশ্য দেখায়। অমনি গেছো ভুত ভয় পেয়ে যায়। আরে বাবা, এত বড় ভুত তোমার কাছে! আমি আর তোমার কোনো ক্ষতি করবো না। আমাকে মাফ করে দাও। কখনো তোমার কাছে আসবো না। কথা দিলাম।’

গেছো ভুতের জব্দ হওয়া দেখে নিলয়ের সাহস বেড়ে গেলো। সে বীরের মতো গলা উঁচিয়ে বলছে, ‘আচ্ছা যাও যাও। মাফ করে দিলাম। সাবধান আমার কাছে আর আসবে না।’

বাড়ি ফিরে নিলয় হাঁফ ছেড়ে বলছে, ‘এবারের মতো বেঁচে গেলাম বাবা। ভাগ্যিস ভুতটা বোকা ছিল।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ