শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ইতিহাস চর্চার প্রয়োজন অপরিহার্য

শেখ দরবার আলম : ॥ এক ॥ এখন অনুভব করছি, আমাদের এই সমাজহীন মুসলমান সমাজে অনেক মানুষেরই সূক্ষ্ম মানবিক অনুভূতি নেই, সংবেদনশীল মন নেই, গঠনমূলক চিন্তাভাবনা নেই, নিজের বা নিজেদের ছাড়া আর কারো কথা ভাবার মানসিকতা নেই। মানুষ এতো আত্মকেন্দ্রিক হলে এর পরিণাম কিন্তু কোনোক্রমেই ভালো হওয়ার কথা নয়। বাংলাভাষী মুসলমানরা পশ্চিমবঙ্গে এবং বাংলাদেশে, এই একই রকম। 

কিন্তু বাংলাভাষী হিন্দুরা পশ্চিমবঙ্গে এবং বাংলাদেশে অন্যরকম। কেবল বাংলাভাষী হিন্দুরা নন, অন্যান্য ভাষাভাষী হিন্দুরাও বাংলাভাষী মুসলমানদের মত এ রকম অনুভূতিহীন নন। তারাও সমাজ নিয়ে এবং গঠনমূলক চিন্তাভাবনা নিয়ে চলেন। 

এ অবস্থার জন্য কোনো জনগোষ্ঠীকে কিন্তু দোষী সাব্যস্ত করছি না আমি। আমি নিজেও তো এই মুসলমান ঘরেরই সন্তান। এটা এই আমাদেরই সমাজহীন মুসলমান সমাজের সমস্যা! এ রকম অবস্থার সৃষ্টি কিন্তু অকারণে হয়নি। ভালো অবস্থায়ই হোক, কিংবা মন্দ অবস্থায়, কোনো অবস্থারই সৃষ্টি অকারণে হয় না।

॥ দুই ॥

পশ্চিমবঙ্গের এবং বাংলাদেশের মুসলমানদের অবস্থা কেন এমন হয়েছে, এটা জানতে ও বুঝতে হলে ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস, বিশেষ করে ১৯৫৭’র ২ শে জুন থেকে ১৯৪৭-এর ১৪ই আগস্ট পর্যন্ত ভারতীয় উপমহাদেশের সা¤্রাজ্যবাদী বৃটিশ ঔপনিবেশিক একশ’ নব্বই বছরের শাসনামলের ইতিহাস খুব ভালো করে জানতে ও বুঝতে হবে। ১৯৪৭-এর ১৪ই আগস্ট থেকে ১৯৭১-এর ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত খোদ পাকিস্তান আমলেও এই একশ’ নব্বই বছরের সা¤্রাজ্যবাদী বৃটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলের ইতিহাসটা পড়ানো হয়নি। এর কারণ কী? কারণটাও জানা দরকার। 

১৯৪৭-এর ১৪ই আগস্টে ছোট্ট মুসলিমপ্রধান দেশ পাকিস্তান হলো অমুসলিমপ্রধান এই ভারতীয় উপমহাদেশে। নিজেদেরই পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক সৃষ্টি করে দিলো কারা? সে ইতিহাস জানা দরকার। এর আগে জানা দরকার ১৭৫৭’র ২৩শে জুনের পলাশীর ষড়যন্ত্রমূলক যুদ্ধ যুদ্ধ প্রহসনটা কিভাবে মঞ্চস্থ হয়েছিল।

॥ তিন ॥

১৯৪৭-এর ১৪ই আগস্ট থেকে ১৯৭১-এর ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত খোদ পাকিস্তান আমলে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের এম.এ. ক্লাসে নজরুল সাহিত্যও অবশ্য পাঠ্য ছিল না। মুসলমান সমাজের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও ইসলামী সংস্কৃতির পরম্পরা এবং এই পরম্পরা ভিত্তিক মুসলিম জাতিসত্ত্বা সংশ্লিষ্ট কোনো কিছুই পাঠ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল না কলকাতা বিশ^বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের এম.এ ক্লাসের পাঠ্য তালিকায়। এসব কেন হয়েছিল এবং কিভাবে হতে পেরেছিল? এসব সবারই জানা দরকার। এসব বিষয়ে ঔদাসীন্য কাম্য হতে পারে না।

হিন্দু ধর্মীয় সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ কী? হিন্দু ধর্মীয় সাংস্কৃতিক একজাতিতত্ত্ব কী? এসবই সবার জানা দরকার।

 

॥ চার ॥

প্রথম বিশ^যুদ্ধ (১৯১৪-১৯১৮)’র সময়ে আরবী ভাষা ভিত্তিক জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মাধ্যমে কারা কীভাবে খিলাফতের পতন ঘটালো, সে ইতিহাস জানা দরকার। তারপর মধ্যপ্রাচ্যে কী হলো সে ইতিহাসটাও তো জানা দরকার। এসব না জানলে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সংহতির হালটা কীভাবে কী হলো সেসব কীভাবে উপলব্ধি করা যাবে?

১৭০৭-এর ৩রা মার্চ আহমদাবাদে স¤্রাট আওরঙ্গজেবের ইন্তেকালের পর তার সন্তানদের কে কী করলেন সে সব জানার প্রয়োজন নেই? স¤্রাট আরওঙ্গজেবের ইন্তেকালের পর কেন্দ্রীয় মোগল প্রশাসনের অবস্থা এবং সুবাহগুলোর অবস্থা কী রকম হয়ে গেল? মীর জাফর আলী খাঁর প্রধান বৈশিষ্ট্যটা কী? মূর্খ, না বিশ^াসঘাতক? এরপর অভিজাত বা সম্ভ্রান্ত মুসলমানদের অবস্থাটা কী রকম হলো?

এটা না জানলে কবি কাজী নজরুল ইসলামকেও তো বোঝা যাবে না!

 

॥ পাঁচ ॥

ক্রুসেডের চেতনাসম্পন্ন সা¤্রাজ্যবাদী বৃটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর শে^তাঙ্গ খৃস্টান জাতীয়তাবাদী বণিকরা তো ‘ভাগ করো এবং শাসন ক্ষমতায় আরোহণ করো’ নীতিতে একশ’ নব্বই বছর এই ভারতীয় উপমহাদেশ শাসন করেছিল। তাদের প্রতিপক্ষ ও শত্রু সমাজ হিসাবে কারা শনাক্ত হয়েছিলেন? তাদের সহযোগী সমাজের লোক কারা ছিলেন?

তাদের প্রতিপক্ষ ও শত্রু সমাজের লোক হিসাবে চিহ্নিত হওয়ার কারণে ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানরা, বিশেষ করে সুবাহ্্ বাংলা বিহার, উড়িষ্যা এলাকার মুসলমানরা সম্মানজনক জীবিকার এবং সম্মানজনক জীবিকার্জনের সহায়ক শিক্ষার ক্ষেত্রে অধিকার-বঞ্চিত হয়ে হতদরিদ্র, অশিক্ষিত, অসচেতন, ও অসংগঠিত সমাজহীন সমাজের মানুষ হিসাবে লক্ষ্যভ্রষ্ট ও লক্ষ্যহীন, অদূরদর্শী ও অপরিণামদর্শী জনগোষ্ঠী হিসাবে মানবেতর জীবন যাপনে বাধ্য হয়েছেন বিশেষ করে ১৯৫৭’র ২ শে জুন থেকে ১৮৮২ পর্যন্ত, এই সোয়া শ’ বছর এবং সামগ্রিকভাবে ১৭৫৭’র ২ শে জুন থেকে ১৯৪৭-এর মধ্য আগস্ট পর্যন্ত এই একশ’ নব্বই বছর। এই একশ’ নব্বই বছরেই ঘটে গেছে বাংলাভাষী মুসলমানদের সঙ্গে বাংলাভাষী হিন্দুদের সব ক্ষেত্রেই আসমান-জমিন ব্যবধান। বিশেষ করে ১৭৫৭’র ২৩শে জুন থেকে ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গের সময়ের মধ্যে বাংলাভাষী হিন্দুরা বাংলাভাষী মুসলমানদের উপেক্ষা, অবজ্ঞা এবং ঘৃণা করার অবস্থায় চলে গেছেন। ইতোমধ্যে ১৭৫৭’র ২ শে জুন থেকে ১৮৫৭-৫৮ পর্যন্ত এবং ১৮৫৮’র পর ১৮৯০ পর্যন্ত সোয়া শ’ বছর মুসলমানরা একক এবং নিঃসঙ্গভাবে স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছেন। ১৮৫৭-৫৮’র সর্বভারতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধে রাজস্থানের হিন্দু এবং গোর্খা ও শিখদের মত অবিভক্ত মুসলিমপ্রধান বাংলার হিন্দুরাও অংশগ্রহণ করেননি। বাংলার শিক্ষিত হিন্দুর এর বিরোধিতা করেছিলেন। এই ১৯০৫-এর আগে ভারতীয় উপমহাদেশের হিন্দুরা ভারতীয় উপমহাদেশকে কখনো পরাধীন ভাবতে পারেননি। এই ১৯০৫ সমাজবাদী বৃটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে থেকেও হিন্দু কবি, সাহিত্যিক ও নাট্যকারদের লেখায় যেসব স্বাধীনতার কথা এসেছে সে সবই এসেছে মুসলমানদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার কথা। ১৯০৫ পর্যন্ত ইংরেজ শাসনকে তারা পরাধীনতা বলে মনে করেননি। ১৯০৫ পর্যন্ত হিন্দু জমিদাররা মনে করতেন যে, দেশটা কেবল তাদের। মুসলিমপ্রধান অবিভক্ত বাংলা কেবল তাদের কাছে ছিল সোনার বাংলা। মুসলিম প্রজাদেরকে তারা মনুষপদবাচ্য বলে মনে করতেন না। জমিদার কবি রবীন্দনাথ ঠাকুর এই ১৯০৫-এ ‘সোনার বাংলা’ গান লিখেছিলেন। হতদরিদ্রপ্রধান মুসলমানদের কাছে মুসলিমপ্রধান অবিভক্ত বাঙলা কোনোক্রমেই তখন ‘সোনার বাংলা’ ছিল না। শিক্ষিত ও সম্পদশালী হিন্দুরা এই ভারতীয় উপমহাদেশটাকে কেবলমাত্র তাদের দেশ বলে মনে করতেন।

আমাদের স্মরণ রাখতে হবে যে, যাযাবর আর্যরা উত্তর-পশ্চিম গিরিপথ অতিক্রম করে ¯্রােতের মত অনার্য আদিম জাতি শাসিত প্রাচীন ভারতে প্রবেশ করার আগে অনার্যদের যে সভ্যতা ছিল তারই প্রমাণ তো সিন্ধু সভ্যতা। 

অনার্যদের সঙ্গে অর্যদের অর্থাৎ বৈদিক ব্রাহ্মণদের শেষ বারের যুদ্ধে অনার্যরা বিজিত দল এবং আর্যরা হন বিজয়ী। এই সময় থেকে শুরু হলো প্রথম ভারতীয় সভ্যতার নামে আর্য সভ্যতার ইতিহাস। আর্য সভ্যতার সূচনা দিয়েই ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসের আর্য-সভ্যতার সূচনা দিয়েই ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসের প্রাচীন যুগের শুরু হলো। অনার্য সভ্যতা চাপা পড়ে গেল। ভারতবর্ষের প্রাগৈতিহাসিক ব্রাত্যজনরা ব্রাত্যই থেকে গেলেন।

আর্য আর প্রাক-আর্যদের মধ্যে শেষ যে যুদ্ধটা হয়েছিল তাতে অনার্যদের ওপর দিয়ে রক্তগঙ্গা বয়ে গিয়েছিল। অনার্যদের একটা অংশ নতমস্তকে অধীনতায় লীন হয়ে গিয়েছিলেন আর্যদের সঙ্গে। অনার্যদের আর একটা অংশ পালিয়ে গিয়েছিলেন বনে-জঙ্গলে, পর্বত গুহা-কন্দরে।

সিন্ধু সভ্যতার ভিত্তিভূমি মূলত হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো। দু’টি নগর। হরপ্পা অঞ্চলে কঙ্কাল পাওয়া গেছে। রক্তগঙ্গা বয়ে গিয়েছিল হরপ্পীদের। অনার্যদের যে অংশ নিহত হননি এবং যে অংশ গুপ্ত গিরিগুহায় এবং অরণ্যানীর অন্ধকারে পালিয়ে যাননি, বিজিত আর্যদের যে অংশটা নতমস্তকে বিজয়ী আর্যদের বশ্যতা স্বীকার করেছিলেন তারাই মনুসংহিতায় ‘শূদ্র’ অর্থাৎ ‘নিকৃষ্টত্ব হেতু শোককারী’ বলে অভিহিত হয়েছেন। আর যারা বনে-জঙ্গলে, পর্ব-গুহাকন্দরে পালিয়ে জীবন ধারণ করার চেষ্টা করেছিলেন, তারাই এই ভারতীয় উপমহাদেশের ‘আদিবাসী’।

আমাদের অজ্ঞ কিংবা জ্ঞানপাপী এমন কোনো কোনো বুদ্ধিজীবী আছেন যারা কুরআন শরীফ থেকে কিংবা হাদিস শরীফ থেকে উদ্ধৃতি দেয়াটাকে অযথা সাম্প্রদায়িকতা বলে অভিহিত করেন। তারা নোবেল পুরস্কার প্রাপ্ত কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা থেকে অহরহ উদ্ধৃতি দিয়ে থাকেন। কিন্তু কলকাতার বিশ^ভারতী গ্রন্থ বিভাগ থেকে চার খ-ে প্রকাশিত প্রভাত কুুমার মুখোপাধ্যায়ের লেখা ‘রবীন্দ্রজীবনী ও রবীন্দ্রসাহিত্য-প্রবেশক’ এবং কলকাতার আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড থেকে এ যাবৎ প্রকাশিত প্রশান্ত কুমার পালের ৯ খ-ের ‘রবিজীবনী’ ও সাক্ষ্য দেবে যে, নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত সমাজপতি-কবি আর্য বংশোদ্ভুত বৈদিক ব্রাহ্মণ ছিলেন। বংশপরম্পরায় অনার্যদের অর্থাৎ শুদ্রদের ‘ঘৃণা’ করতেন এবং আইন সভায় আসন সংরক্ষণের এবং চাকরি-বাকরি সংরক্ষণের মুসলমানদের সঙ্গত দাবি স্বীকার করতেন না। কবি কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এবং আরো কয়েকজন মুসলমানের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত পর্যায়ের পরিচয় বা সম্পর্ক দিয়ে তাকে বিচার করা যাবে না। হিন্দু-মুসলমান সম্পর্ক মানে এক বা একাধিক মুসলশানের সঙ্গে কোনো হিন্দুর ব্যক্তিগত পর্যায়ের সম্পর্ক নয়, মুসলমান সমাজের সঙ্গে হিন্দু সমাজের সম্পর্ক। হিন্দু-মুসলমান প্যাক্ট নামে অভিহিত বেঙ্গল প্যাক্টে এই সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা ১৯২৩-এ দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ করেছিলেন। 

॥ আট ॥

হিন্দু ধর্মীয় সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ এবং হিন্দু ধর্মীয় সাংস্কৃতিক এক জাতিতত্ত্বটা আমাদের খুব গভীরভাবে উপলব্ধি করার প্রয়োজন আছে। 

 কে কোন এলাকার মানুষ, কে কী রকম গায়ের রঙের মানুষ, কে কোন্্ ভাষার মানুষ, কে কোন ধর্মের মানুষ, এ রকম কিছু একটা নিয়ে জাতীয়তাবাদ খাড়া করে কোনো জনগোষ্ঠীর নিরীহ মানুষের মানবাধিকার কেড়ে নেওয়ার লক্ষ্যে তাদেরকে প্রতিপক্ষ ও শত্রু হিসাবে দেগে দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালানোর প্রয়োজনে ইতিহাসের নামে মিথ্যার বেসাতি করা হয় মুষ্টিমেয় লোকের স্বার্থসিদ্ধির প্রয়োজনে। মুষ্টিমেয় লোকের অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা লাভের ব্যাপারটা নিশ্চিত করার প্রয়োজনে। জাতীয়তাবাদ ধর্মভিত্তিক হোক, বর্ণ বা গায়ের রঙ ভিত্তিক হোক, ভাষা ভিত্তিক হোক কিংবা কোনো অঞ্চল বা আঞ্চলিকতা ভিত্তিক হোক, সব জাতীয়তাবাদেরই মূল লক্ষ্য একটা জনগোষ্ঠীকে অধিকার বঞ্চিত করে মুষ্টিমেয় লোকের অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ব্যাপারটা নিশ্চিত করা।

এই জাতীয়তাবাদ এবং একজাতিতত্ত্ব প্রতিরোধের একমাত্র উপায় সাম্য ও সহাবস্থানের নীতিতে প্রতিটি মানুষের মানবাধিকার নিশ্চিত করা।

যাযাবর আর্যরা (অর্থাৎ বৈদিক ব্রাহ্মণরা) এই ভারতীয় উপমহাদেশে আসার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে তাদের জাতির পুনরুজ্জীবন ঘটাতে চেয়েছেন কোনো একটা জনগোষ্ঠীকে প্রতিপক্ষ ও শত্রু হিসাবে শনাক্ত করে এক এক সময়ে এক এক রকম জাতীয়তাবাদ খাড়া করে।

১৭৫৭-এর  ২৩শে জুনের পলাশীর ষড়যন্ত্রমূলক যুদ্ধ যুদ্ধ প্রহসন পরবর্তীকালে সাম্য ও সহাবস্থানের কবি আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মুসলমান সমাজের এবং ইসলামী সংস্কৃতির পুনরুজ্জীবন ঘটাতে চেয়েছিলেন সামাজিক সাম্য ও অর্থনৈতিক সাম্য ও বিভিন্ন ধর্মীয় সমাজের অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষাগত, আইনগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক সহাবস্থানের নীতিতে।

বিভিন্ন সময়ে মুসলমানরা শিকার হয়েছেন খৃস্টান ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদের, এমনকি বৌদ্ধ ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদেরও। তবে স্মরণ রাখা দরকার যে, কোনো জনগোষ্ঠীরই সব মানুষ জাতীয়তাবাদী হন না। তাদের মধ্যে অনেকেই মনুষ্যত্ববোধে উত্তীর্ণ মহৎ মানুষও হন। এসব স্মরণ রাখতে হবে। তৌহীদবাদ কেন্দ্রিকি ইসলামে মুসলমানদের কিন্তু কোনো জনগোষ্ঠীকে প্রতিপক্ষ ও শত্রু হিসাবে শনাক্ত করে জাতীয়তাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই! এটা মনে রাখতে হবে। 

সাম্য ও সহাবস্থানই আমাদের সব মানুষের নীতি হওয়া উচিত। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ