বৃহস্পতিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

দেশবরেণ্য রাজনীতিক ড. মোশাররফের ৭৪তম জন্মদিন আজ

আজ মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) দেশবরেণ্য রাজনীতিক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ৭৪তম জন্মদিন। তিনি ১৯৪৬ সালের ১ অক্টোবর কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার গয়েশপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ড. মোশাররফ বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক মন্ত্রী, ঢাবি’র ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এবং চেয়ারম্যান, প্রথিতযশা ভূ-বিজ্ঞানী, লেখক, কলামিষ্ট ও গবেষক।
ড. মোশাররফ দাউদকান্দি হাইস্কুল থেকে ’৬২ সালে মেট্রিকুলেশন, চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে ’৬৪ সালে আইএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ’৬৮ সালে এমএসসি, ’৭০ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে এমএসসি, ’৭৩ সালে ডিআইসি ডিপ্লোমা এবং ’৭৪ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচ.ডি ডিগ্রী লাভ করেন। ’৭৫ সালে বিলাত থেকে দেশে ফিরে পুনরায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসাবে যোগদান করেন এবং পর্যায়ক্রমে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। ’৮৭ থেকে ’৯০ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূ-তত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ’৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবার জন্য তিনি ঢাবি’র শিক্ষকতা থেকে পদত্যাগ করেন।
এই আলোকিত রাজনীতিক ড. মোশাররফ ১৯৬৪-৬৫ শিক্ষাবর্ষে ঢাবি’র সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের এ.জি.এস ও ১৯৬৭-৬৮ শিক্ষাবর্ষে হাজী মুহাম্মদ মহসিন হলের ভি.পি নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে বিশ্ব জনমত গড়ে তোলার জন্য ড. মোশাররফ ’৭১-এ বিলাত প্রবাসীদের সংগঠিত করেন এবং ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক হিসেবে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেন। জাতীয় স্বার্থ রক্ষার আন্দোলনে তিনি কখনো পিছ-পা হননি। তিনি বিভিন্ন সরকারের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে ষড়যন্ত্রমূলক রাজনৈতিক মামলায় ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৭, ২০১২ ও ২০১৪ সালে গ্রেফতার হয়ে প্রায় ৫ বছর কারান্তরীণ ছিলেন।
ঢাবির মেধাবী শিক্ষক ড. মোশাররফ ’৭৯ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আহবানে সাড়া দিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেন এবং  দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ’৯৪ সাল থেকে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য পদে অধিষ্ঠিত রয়েছেন। ড. মোশাররফ কুমিল্লা-২ আসন থেকে ৪ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ’৯১-’৯৬ সময়ে বিএনপি সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী, ’৯৬ সালে স্বল্প মেয়াদে সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ২০০১-০৬ সময়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন।
উন্নয়ন ভাবনার রাজনীতিক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। যুগান্তকারী উন্নয়নের মাধ্যমে তিনি অনগ্রসর দাউদকান্দি, তিতাস ও মেঘনা উপজেলাকে এগিয়ে নিয়েছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী থাকাকালে ড. মোশাররফ দাউদকান্দির উত্তরাঞ্চলে তিতাস নামে একটি নতুন উপজেলা প্রতিষ্ঠা করেন। মেঘনা ও তিতাস উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন, ২ টি ৫০ শয্যার হাসপাতাল এবং দাউদকান্দিতে একটি ২০ শয্যার হাসপাতাল ও একটি ট্রমা সেন্টার নির্মাণ করেন। তিনি এসব উপজেলায় শিক্ষা, কৃষি, যোগাযোগ, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও গ্রামীণ অবকাঠামো খাতে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার উন্নয়নের মাধ্যমে এলাকার জীবনযাত্রার মান আধুনিক করেছেন। মৎস্য ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ড. মোশাররফ জাতীয় পুরস্কার স্বর্ণপদক লাভ করেন। তিনি ২০০৩ সালে ৫৬তম বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের সভাপতি নির্বাচিত হন। তার সভাপতিত্বে ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোবাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি) গৃহীত হয়। বাংলাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন এবং বিশ্বব্যাপী তামাক বিরোধী আন্দোলনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ড. মোশাররফকে ‘ওয়ার্ল্ড নো টোবাকো এওয়ার্ড-২০০৪’ পদকে ভূষিত করেন।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের লেখা ‘মুক্তিযুদ্ধে বিলাত প্রবাসীদের অবদান’, ‘প্লাবণ ভূমিতে মৎস্য চাষ: দাউদকান্দি মডেল’, ‘সংসদে কথা বলা যায়’, ‘এই সময়ের কিছু কথা’, ‘ফখরুদ্দিন-মইন উদ্দিনের  কারাগারে ৬১৬ দিন’, ‘রাজনীতির হালচাল’, ‘সময়ের ভাবনা’ এবং ‘জরুরী আইনের সরকারের দুই বছর (২০০৭ ও ২০০৮)’ নামের ৮টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। আরো ৪টি গ্রন্থ প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বিজ্ঞানী প্রফেসর আব্দুস সালাম প্রতিষ্ঠিত আইসিটিটি’র এসোসিয়েট সদস্য এবং থার্ড ওয়ার্ল্ড একাডেমি অব সায়েন্সে একজন ফেলো। ড. মোশাররফ ২ পুত্র ও ১ কন্যা সন্তানের জনক। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ