বৃহস্পতিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

পুলিশ কর্মকর্তার পিস্তল দিয়ে ছেলের ‘আত্মহত্যা’

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তার পিস্তল দিয়ে মাথায় গুলী চালিয়ে ‘আত্মহত্যা’ করেছে তার ছেলে। নিহত সাদিক বিন সাজ্জাদ ঢাকা সিটি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছিলেন। তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ কমিশনার সাজ্জাদুর রহমানের ছেলে।
গতকাল সোমবার সকালে আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টারের বাসায় সাদিকের ঘর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয় বলে লালবাগ থানার ওসি কেএম আশরাফ উদ্দিন জানান। তিনি বলেন, সকালে প্রাইভেট টিউটর পড়াতে এলে সাদিক দরজা খুলছিলেন না। ডাকাডাকি করে তার সাড়া না পেয়ে দরজা ভাঙা হয়। “ভেতরে সাদিকের লাশ পড়ে ছিল, মাথায় ছিল গুলীর চিহ্ন। তার বাবার লাইসেন্স করা অস্ত্রটি পড়ে ছিল লাশের পাশে।”
সাদিক কখন তার বাবার আলমারি থেকে পিস্তলটি সরিয়ে নিয়েছিলেন, ঠিক কখন তিনি ‘নিজের মাথায় গুলী চালান’- সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।
ওসি বলেন, সাজ্জাদুর রহমানের দুই ছেলে এক মেয়ের মধ্যে সাদিক ছিল সবার বড়। রোববার রাতেও তার সঙ্গে তার বাবার কথা হয়েছে। “সাদিক রাতে তার বাবার মোবাইলে কিছু ছবি দেয়, ছোটবেলার পারিবারিক ছবি। সেগুলো দিয়ে তার বাবাকে অবসর সময়ে দেখতে বলে। একটা পোর্টেবল হার্ডডিস্ক ছিল ওর। একটা কাগজে পাসওয়ার্ড লিখে সেটাও ওর বাবাকে দিয়েছিল। কিন্তু ওর বাবা কিছু সন্দেহ করে উঠতে পারেননি।”
পুলিশের রমনা বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, কলাবাগানে পুলিশের একটি অভিযানের কারণে অন্তত রাত ৩টা পর্যন্ত জেগে ছিলেন সাজ্জাদুর রহমান। ‘আত্মহত্যার’ ঘটনা তার পরে কোনো এক সময় ঘটেছে বলে পরিবার মনে করছে।
পরিবার বলছে, বাবার লাইসেন্স করা ব্যক্তিগত পিস্তল দিয়ে ছেলে সাদিক বিন সাজ্জাদ (১৮) আত্মহত্যা করেছেন। লাশের পাশে আত্মহত্যার কথা উল্লেখ করা চিরকুট পাওয়া গেছে। সাদিক সিটি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি নানান বিষয়ে মানসিক সংকটে ভুগছিলেন বলে জানানো হয় পরিবার ও পুলিশের পক্ষ থেকে।
উপকমিশনার সাজ্জাদুর রহমান এর আগে সাতক্ষীরা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) ছিলেন। দুই মাস আগে তিনি বদলি হয়ে ঢাকায় আসেন। সাদিক যমজ ছিলেন। জন্মের পরপরই সাদিকের যমজ ভাই মারা যায়।
আজিমপুর সরকারি কলোনিতে গিয়ে দেখা যায়, চারতলা ভবনের চতুর্থ তলায় বাম পাশের ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে থাকেন সাজ্জাদুর রহমান। চার কক্ষের ফ্ল্যাটটিতে প্রবেশের পথে বসার কক্ষ ও করিডর সংলগ্ন কক্ষটি নিহত সাদিকের শোয়ার কক্ষ। ওই কক্ষেই তাঁর গুলীবিদ্ধ লাশ পড়েছিল।
নিউমার্কেট জোনের সহকারী কমিশনার সাইফুর রহমান বলেন, সাদিক বিষন্নতায় ভুগছিলেন বলে জানা গেছে। রোববার সাদিকের দুই ভাই-বোন বাবার সঙ্গে বেড়াতে যায়। ওই সময় সাদিক বাসায় থেকে গিয়েছিলেন। ধারণা করা যায়, ফাঁকা বাড়িতে কোনো এক সময় বাবার ব্যক্তিগত পিস্তল সরিয়ে নিজের কক্ষে রেখেছিলেন সাদিক। তিনি জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, সাদিক বেশ ভদ্র ছেলে ছিলেন। তিনি মোটা হওয়া নিয়ে প্রায়ই দুঃখ করতেন। এসএসসি পরীক্ষায় এ প্লাস পাননি, সামনে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায়ও ফল ভালো করা নিয়ে তাঁর সন্দেহ ছিল। এসব নিয়ে বিষন্নতায় ভুগতেন।
পুলিশ জানিয়েছে, লাশের পাশে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। সেখানে আত্মহত্যার কারণ হিসেবে মানসিক কষ্টে ভোগার কথা লেখা আছে।
জানা গেছে, গতকাল বিকেলে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে জানাজা শেষে সাদিকের লাশ দাফনের জন্য ঝিনাইদহে গ্রামের বাড়িতে নেয়া হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ