বৃহস্পতিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

স্বাস্থ্য অধিদফতরের ১৪৩ জন নিয়োগ নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ চেম্বারে স্থগিত

স্টাফ রিপোর্টার: চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পদে ১৪৩ জন নিয়োগে স্বাস্থ্য অধিদফতরের একটি প্রকল্পের জন্য জারি করা সার্কুলার দুই মাসের জন্য স্থগিত করে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। একই সঙ্গে এ বিষয়ে শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে।
আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ব্যারিস্টার এ বি এম আলতাফ হোসেন। চাকরিপ্রার্থীদের করা আপিল আবেদনের শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার আপিল বিভাগের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর চেম্বার জজ আদালত এ আদেশ দেন। আদালতে এদিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। অন্যদিকে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এ বি এম আলতাফ হোসেন।
গত ৪ সেপ্টেম্বর একটি প্রকল্পে ইউনানি, আয়ুর্বেদিক, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ও শিক্ষকসহ বিভিন্ন শূন্য পদে ১৪৩ জন নিয়োগে স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তির কার্যক্রম দুই মাসের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে গত ১৮ আগস্ট প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী অনলাইন আবেদনের কার্যক্রম কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত।
এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৪ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। চার সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক, ইউজিসির চেয়ারম্যানসহ সাতজনকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
আদালতে ওইদিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন এ বি এম আলতাফ হোসেন। তাকে সহযোগিতা করেন কামরুজ্জামান কাকন ও শুভজিৎ ব্যানার্জি। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল প্রতীকার চাকমা।
রিট আবেদনকারীপক্ষ জানায়, স্বাস্থ্য অধিদফতরের বাস্তবায়নাধীন এক কর্মসূচির আওতায় একটি প্রকল্পে ১৮টি পদের বিপরীতে শূন্যপদে ১৪৩ জন নিয়োগের জন্য গত ১৮ আগস্ট পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। এতে চাকরিপ্রত্যাশীদের অনলাইনে আবেদন করতে বলা হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুসারে হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইউনানি মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারী দুজন প্রার্থী অনলাইন আবেদন করতে গিয়ে দেখতে পান প্রতিষ্ঠানের তালিকায় তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নেই। আবেদন করতে ব্যর্থ হয়ে আব্দুল্লাহ আল মামুন ও মোহাম্মদ ইউনুছ নামের দুই প্রার্থী স্বাস্থ্য অধিদফতরের ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিটটি করেন।
এ বি এম আলতাফ হোসেন বলেন, অনলাইন দরখাস্ত করতে গিয়ে রিট আবেদনকারীরা লগইন করার পর প্রতিষ্ঠানের ঘরে ১৬২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম দেখতে পান। তবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম তালিকায় নেই। অন্য সব যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম না থাকায় রিট আবেদনকারীরা আবেদন করতে ব্যর্থ হন, যা বৈষম্যমূলক এসব যুক্তিতে রিটটি করা হলে আদালত শুনানি নিয়ে বিজ্ঞপ্তির কার্যক্রমে দুই মাসের স্থগিতাদেশ দেন। তবে, হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে বলে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল প্রতিকার চাকমা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ