বৃহস্পতিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

পল্টনের ওসির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ সদর

স্টাফ রিপোর্টার : চাকরি দেওয়ার কথা বলে এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর পল্টন থানার ওসি মাহমুদুল হকের বিরুদ্ধে।
পুলিশ সদর দপ্তর ইতোমধ্যে তদন্ত করে অভিযোগের ‘সত্যতা’ পেয়েছে জানিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোনালিসা বেগম গণমাধ্যমকে বলেন, “সদর দপ্তর এখন ওসির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।”
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে পল্টন থানার ওসি মাহমুদুল হককে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। তবে ওই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহিদুজ্জামান জানিয়েছেন, মাহমুদুল হক নিয়মিত অফিস করছেন। পরিচিত কারও নাম্বার ছাড়া ওসি ফোন ধরছেন না বলে তার ঘনিষ্টজনরা জানিয়েছেন।
ওই নারীর অভিযোগ, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে নওগাঁ থেকে ঢাকায় ডেকে এনে একটি হোটেলে তোলেন ওসি। সেখানে খাবারের সঙ্গে ‘চেতনানাশক জাতীয় কিছু খাইয়ে তাকে ধর্ষণ করেন’ ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
পুলিশ সদরদপ্তরে করা লিখিত অভিযোগে ওই নারী বলেছেন, চেতনা ফেরার পর ঘটনা বুঝতে পেরে তিনি প্রশ্ন করলে মাহমুদুল হক তাকে ‘ভালোবাসার কথা, বিয়ে করার আগ্রহের কথা’ বলেন। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরেও বিভিন্ন সময় ওই পুলিশ কর্মকর্তা ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন বর্তমানে একটি ব্যাংকে চাকরিরত ওই নারী। তিনি লিখেছেন, এক পর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। কিন্তু মাহমুদুল হক তাকে গর্ভপাতে ‘বাধ্য করেন’। বিয়ের জন্য চাপ দিলে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এক পর্যায়ে অফিসে গেলে আবারও বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দেন। এই পরিস্থিতিতে ওসি মাহমুদুলের বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন ওই নারী। তার দাবি, মাহমুদুলের বাবা প্রথমে বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে দেখলেও পরে ছেলের সঙ্গে মিলে নানাভাবে হুমকি দিতে শুরু করেন। আর কোনো উপায় না দেখে এক সময় আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগে লিখেছেন ওই নারী।
গত অগাস্টের শুরুতে ওই নারী পুলিশ সদর দপ্তরে অভিযোগ করলে মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোনালিসা বেগমকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মোনালিসা বলেন, “তদন্তে অভিযোগের কিছু সত্যতা পাওয়া গেছে। সে অনুযায়ী পুলিশ সদর দপ্তরে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। বাকি সিদ্ধান্ত কর্তৃপক্ষ নেবে।”

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ