রবিবার ১৭ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংলাপের দাবি কাদের সিদ্দিকীর

স্টাফ রিপোর্টার: দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংলাপের দাবি জানিয়েছেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। গতকাল সোমবার সকালে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা এই দাবি করেন। তিনি বলেন, পুলিশ-র‌্যাব যেখানে ধরে সেখানেই হাজার কোটি, সেখানেই হাজার কোটি। তাই রাস্তা-ঘাটে যখন শুনি যে, মানুষ এখন আর খালেদা জিয়ার দুই কোটি টাকার মামলাকে আমলে নিতে চায় না। সেজন্যে আপনাদেরকে বলতে চাই, বর্তমান সরকার অনতিবিলম্বে দেশকে বাঁচানোর জন্যে, মানুষকে উৎসাহিত করার জন্যে, মানুষ যে দেশের মালিক-এটা প্রমাণ করবার জন্যে একটি জাতীয় সংলাপের আয়োজন করুক।
তিনি বলেন, জাতীয় সংলাপ হলে মানুষ যদি বুঝতে পারে যে, দেশ নিয়ে, দেশের সমস্যা নিয়ে দেশের মানুষ কথা বলতে পারে, দেশের মানুষের প্রতিনিধিরা কথা বলতে পারে তাহলে মানুষের মধ্যে একটি জাগরনের সৃষ্টি হবে এবং মানুষের মধ্যে একটি উৎসাহের সৃষ্টি হবে।
জাতীয় সংলাপ আগেও চেয়েছিলেন সাড়া পাননি, এখন সংলাপের জন্য লিখিতভাবে চিঠি দেবেন কিনা প্রশ্ন করা হলে কাদের সিদ্দিকী বলেন,  আমি এই পর্যন্ত যখন যা চেয়েছি, আল্লাহর রহমতে সব কিছু পেয়েছি। আমি অতীতে যে সংলাপের অনুরোধ করেছিলাম একটা না একটা সময়ে বঙ্গবন্ধুর কন্যা নেত্রী হাসিনা সেই সংলাপে বসতে বাধ্য হয়েছিলেন। আমি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অনুরোধ করেছিলাম হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহার করেন। তিনি সেই হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহার না করলেও জনগন সেই হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহার করেছে বা প্রত্যাখান করেছে। আমি আজকেও আবার বলছি, দেশবাসীকে এবং আল্লাহ রসুলকে হাজির নাজির জেনে দেশকে বাঁচাতে হলে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে জাতীয় সংলাপের আহবান করতেই হবে এবং আন্তরিকভাবে সেই সংলাপের উত্তরণ ছাড়া তার সামনে কোনো বিকল্প নাই। শুধু আওয়ামী লীগকে ঠেংগিয়ে, সোজা করে তিনি দেশকে বাঁচাতে পারবেন না। এটা দুর্নীতি মুক্তির পদক্ষেপ-এটা দেশের মানুষ ভাবতেই পারে না। আওয়ামী লীগে যদি এতো দুর্নীতিবাজ থাকে তাদের তো সরকারে থাকারই সুযোগ নাই, অধিকার নাই, নৈতিকতা নাই।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান শুদ্ধি অভিযান প্রসঙ্গে কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমরা বর্তমান সরকারের এই অভিযানকে সর্বান্তকরনে সমর্থন করি। কিন্তু এই অভিযান যদি শুধু আইওয়াশ হয়, মানুষকে দেখাবার জন্য হয় সেরকম অভিযানে আমাদের সমর্থন নেই। আমরা আশা করবো, দেশকে নিষ্কলুষ করবার জন্যে, দুর্নীতিমুক্ত করবার জন্য, চাঁদাবাজী-টেন্ডারবাজী মুক্ত করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই অভিযান হবে শাশ্বত সত্য। এখন পর্যন্ত ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে বহিস্কার, যুব লীগের কতিপয় নেতৃবৃন্দকে গ্রেপ্তার, আওয়ামী লীগের নেতাদের ভয় দেখান্-োএটাই বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার শেষ কথা নয়।
সেজন্য মনে করি, সার্বিকভাবে যেখানে দুর্নীতি আছে সেখানেই যেন এই দুর্নীতির হাত প্রসারিত হয়। প্রশাসন উন্মুক্ত, আওয়ামী লীগ ছাড়া সরকারি দল ছাড়াও অনেক দল আছে তারা উন্মুক্ত। দুর্নীতিতে দেশ ছেয়ে গেছে এই কথা যখন বলি তাহলে সমাজে অন্য শ্রেনীতেও দুর্নীতি আছে। যারা ব্যবসা করেন তারাও দুর্নীতি করেছেন অনেকেই, আঙ্গুল ফুঁলে অনেকে কলা গাছ হয়েছেন। শেয়ারবাজারের কোটি কোটি টাকা লুট করে প্রায় ৩০/৪০ লক্ষ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পথের কাঙ্গাল করেছিলো সেদিকে কোনো দৃষ্টি নাই। সেজন্য স্পষ্ট করে বলতে চাই, যে শুধু একতরফাভাবে একটা কিছু করে ছেলে ভুলানো পায়তারা করলেই চলবে না।
রাজশাহীর ভিসির বহিস্কার দাবি করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, রাজশাহীতে সেদিন একটা বিশ্রি ঘটনা ঘটেছে। যেখানে ভারতীয় অ্যাম্বেসীর খুব সম্ভবত উপ-কমিশনার বোধহয় ছিলেন। তাকে খুশি করার জন্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধুর সাথে জয় হিন্দু উচ্চারণ করেছেন। আমি এর তীব্র নিন্দা করছি এবং এই মুহুর্তে তাকে বহিস্কারের জন্য দাবি জানাচ্ছি। এরকম হতে পারে না, এরকম চাটুকার, এরকম দালাল যদি একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকে তাহলে ১৯৬৯ সালে ড. জোহা যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের রক্ষা করার জন্য জীবন দিয়েছিলেন তা আজ ব্যর্থ হয়ে যায়। সেজন্যে আপনাদের মাধ্যমে দাবি জানাই তাকে অনতিবিলম্বে বহিস্কার করা হোক। তিনি (ভিসি) পদত্যাগ করলেই তার এই অপরাধের শেষ হবে না।
তিনি বলেন, অন্যদিকে গোপালগঞ্জের বঙ্গবুন্ধ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা একজন খুবই খারাপ ধরনের মানুষকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বের করে দেয়ার জন্যে, তার পদত্যাগের জন্যে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। কেনো যে প্রশাসনের টনক নড়ে না এই সমস্ত বাজে লোকদের প্রশাসনের মাথায় বসিয়ে আমাদের বদনাম করছে তা আমরা বুঝতে পারছি না।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনিসহ মন্ত্রী-উপদেষ্টা-এমপির সম্পদের হিসাব দেবেন। এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য জানতে চাইলে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, উনি সম্পদের হিসাব দিতে চেয়েছিলেন, দেন নাই। এই দায়িত্ব তো উনারই। আমি আপনার সাথে একমত যে, আমি হিসাব চাই।
সরকারের পদত্যাগ চান কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আপনি ভুল করছেন, আমি কিন্তু অন্যদের মতো না। আমি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে ছিলাম, তাদের সঙ্গে একটি নির্বাচনে (একাদশ সংসদ) আমি অংশ নিয়েছিলাম। আমি আশা করেছিলাম ড. কামাল হোসেনের (জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা) নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্ট চলবে কিন্তু সেই ঐক্যফ্রন্ট তার নেতৃত্বে চলেনি। ইংল্যান্ডে বসবাসকারী তারেক রহমান (বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) নেতৃত্বে শেষ পর্যন্ত সেই ঐক্যফ্রন্ট চলেছে। যে কারণে নির্বাচনের সঙ্গে সঙ্গে যখন নির্বাচন প্রত্যাখান করা হয় তারপর সেই চুরির নির্বাচনে ৬ জন বিএনপির এবং ২ জন গণফোরাম- মোট ৮জন তারা সংসদে গেলেন। আমার কাছে মনে হয়েছে মানুষের কাছে আমরা যে কথা দিয়েছিলাম সেই কথার সঙ্গে এর কোনো মিল নাই। মানুষ সঙ্গে প্রবঞ্চনা করা হয়। সেহেতু সবার শেষে আমি ঐক্যফ্রন্টে গিয়েছিলাম ঠিক তেমনি সবার আগে ওই ফ্রন্ট ত্যাগ করে আমরা বেরিয়ে এসেছি। যেদিন নির্বাচনে এই কারচুপি হয়েছে, নির্বাচন হয়েছে- সেদিন থেকে এই সরকারের পদত্যাগ দাবি করেছি এবং সত্যিকার অর্থেই এই সরকার জনগনের সমর্থিত সরকার নয়। পৃথিবীতে বহু সরকার থাকে, সামরিক সরকার থাকে, জবরদস্ত সরকার থাকে এবং শেখ হাসিনারও এরকম একটি সরকার বর্তমানে আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে তাকে আন্তরিক শুভেচ্ছাও জানান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে এই সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সহধর্মিনী নাসরিন সিদ্দিকী, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার, কেন্দ্রীয় নেতা ইকবাল সিদ্দিকী, আবদুল্লাহ, শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, আবদুস সালাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ