রবিবার ১৭ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গ্রেফতারে পূর্বানুমতির বিধান ‘সংবিধান পরিপন্থী’

স্টাফ রিপোর্টার : প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে গ্রেফতারের জন্য সরকারের পূর্বানুমতির বিধান রেখে ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’ এর কার্যকরের সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তারা বলছে, জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের মূল চেতনা ও অভীষ্টের পরিপন্থী এটি।
দক্ষ, জনবান্ধব, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন নিশ্চিত করতে আইনের চোখে ‘সকল নাগরিক সমান’ অধিকারের যে সাংবিধানিক বিধান তার সাথে সাংঘর্ষিক ও বৈষম্যমূলক হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনটি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে ১ অক্টোবর থেকে আইনটি কার্যকর হওয়ার যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন পেশাজীবীসহ সাধারণ জনগণের প্রতি বৈষম্যমূলক বিধানাবলী রেখে ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’ কার্যকর করার সিদ্ধান্ত সংবিধান পরিপন্থী। আইনটি এভাবে কার্যকর হলে বর্তমান সরকারের আমলেই প্রণীত ও বাস্তবায়নরত ‘জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল’ এর সাথেও এটি সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী হবে। তাছাড়া, ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গ্রেফতারের পূর্বে সরকারের কাছ থেকে অনুমতি গ্রহণের বিধান ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এর ৫৪ ধারার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।
দুর্নীতিবাজ ও অসৎ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তার সরকারের কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে মর্মে প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি যে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তার প্রতি আস্থা রেখে ড. জামান বলেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জোরালোভাবে ‘শূন্য সহনশীলতার’ ঘোষণা এবং সরকারের চলমান দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান জনমনে যে প্রত্যাশার সৃষ্টি করেছে, আইনটি কার্যকর হলে তা প্রশ্নবিদ্ধ হতে বাধ্য। এছাড়া, বিতর্কিত বিধানটি দুদকের কার্যক্ষমতা অনেকাংশে খর্ব করে সম্পূর্ণ অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পর্যবসিত হওয়ার ঝুঁকির সৃষ্টি করবে।
বিধানটি প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা, স্বচ্ছতা, উন্নততর পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষ জনপ্রশাসন নিশ্চিতের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, “সরকারি চাকরি আইন নামটিই সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। আইনটির নাম হওয়া উচিত ‘জনপ্রশাসন আইন’। তাই আমরা পুনরায় আইনটির নাম সংশোধনের দাবি জানাচ্ছি। এছাড়া, গ্রেফতারের পূর্বে সরকারের অনুমতি গ্রহণের বিধানটি বাস্তবে সরকারি খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধের পরিবর্তে আইনের ছত্রছায়ায় এ ধরনের অপরাধের সুরক্ষা ও এর ব্যাপকতা বাড়ার ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পাবে বিধায় তড়িঘড়ি করে আইনটি কার্যকর করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই। একই সাথে, আইনটির পুনর্বিবেচনার প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞসহ সকল অংশীজনের মতামত গ্রহণের দাবি পুর্নব্যক্ত করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ