বৃহস্পতিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

‘শুদ্ধি’ অভিযান‘ আগাচ্ছে না অপরাধের আলামত চলে যাচ্ছে চোখের আড়ালে?

তোফাজ্জল হোসেন কামাল : সেপ্টেম্বরের ১৮ থেকে ২৬। গেল মাসের ৯ টি দিন। এই ৯ দিনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি স্থানে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা সরকারি দলের ভাষায় ‘শুদ্ধি’ অভিযান চালিয়েছে থেমে থেমে। ২৬ তারিখের পর থেকে বিগত চারদিন ওই অভিযানের আর খোঁজ মেলেনি। ‘শুদ্ধি’ অভিযান রাজধানী ঢাকায় ঘটা করে শুরু হওয়ার পর অভিযানের পরিধি ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। গত মাসের ১৮ তারিখে মতিঝিলের একাধিক ক্লাবে পশ্চিমা ধাঁচের উন্নত জুয়ার আসর ‘ক্যাসিনো বিরোধী’ অভিযানে পুলিশের এলিট ফোর্স-র‌্যাব নামার পরই অভিযানের খবর ছড়ায়। এই অভিযানকে সরকারীদল আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা ‘শুদ্ধি’ অভিযান হিসেবে চিহ্নিত করলেও অভিযান পরিচালনাকারীরা এর কোন প্রকার নামকরণ করেনি। ইতিপূর্বে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা কোন প্রকার অভিযানে নামার আগেই সে অভিযানের নামকরণ করার রেওয়াজ চলে আসছে। কিন্তু হালের অভিযানের কোন নামকরণ করা হয়নি। এই অভিযান নিয়ে দেশজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়ার মধ্যেই ব্যাপ্তি ও গন্তব্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠা অবস্থাতেই গত চারদিন ধরে নিখোঁজ হয়ে পড়েছে ওই শুদ্ধি অভিযান। অভিযোগ উঠেছে, থেমে থেমে চলা অভিযানে অনেক অপরাধীই তাদের আলামত সরানোর সুযোগ পেয়ে গেছেন। আর গত কয়েকদিন যাবত অভিযান বন্ধ থাকার সুযোগে অনেকেই সতর্ক হয়ে গেছেন।
জানা গেছে , সরকারপ্রধান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা তার দলের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান চালানোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন ৭ সেপ্টেম্বর দলের যৌথ সভায়। এর এক সপ্তাহ পর দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভায় তিনি ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে সরিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। সমালোচনা করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের দুই নেতার। এর পাঁচ দিন পর মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া গ্রেপ্তার হন। তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘ছাত্রলীগের পর যুবলীগকে ধরেছি। একে একে সব ধরব। সমাজের অসংগতি দূর করব।’
গত ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার মতিঝিলের ফকিরাপুল ইয়ংমেন্স ও ওয়ান্ডারার্স ক্লাব এবং মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া চক্রে র‌্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো মেলার পাশাপাশি সেগুলো পরিচালনায় যুবলীগ নেতাদের জড়িত থাকার বিষয়টি প্রকাশ পায়। ওই দিনই গ্রেপ্তার করা হয় যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে, পরদিন কলাবাগান ক্লাব থেকে গ্রেপ্তার করা হয় কৃষক লীগের নেতা শফিকুল আলম ফিরোজকে। দুদিন পর গ্রেপ্তার করা হয় ঠিকাদার জি এম শামীমকে, যিনিও যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দিতেন।
মতিঝিলের ওয়ান্ডারার্স ক্লাব ও গুলিস্তানে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্লাবেও অভিযান চালিয়ে জুয়া-ক্যাসিনোর বিপুল সরঞ্জাম ও টাকা জব্দের পাশাপাশি ১৪২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানের উদ্দেশ্য, এর সম্ভাব্য ব্যাপ্তি ও গন্তব্য সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মতো আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও অন্ধকারেই আছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রগুলোও পরিষ্কারভাবে কিছু বলছে না। হঠাৎ অভিযানের কারণ নিয়ে যেমন জল্পনাকল্পনা আছে, তেমনি অভিযান শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নবিরোধী হবে, নাকি ক্যাসিনো-জুয়ার বৃত্তে আটকে থাকবে, তা নিয়ে কৌতূহল আছে।
এ প্রশ্ন ওঠার কারণ হলো, এই সময়ের মধ্যে ঢাকাসহ দেশের সাত জায়গায় অভিযান চালানো হলেও যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, যুবলীগের নেতা জি কে শামীম, কৃষক লীগের নেতা শফিকুল আলম ও মোহামেডান ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া ছাড়া উল্লেখযোগ্য কেউ গ্রেপ্তার হননি। যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাট আলোচনার কেন্দ্রে থাকলেও তিনি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। শিগগিরই তার ব্যাপারে আইনী পদক্ষেপ দেখা যাওয়ার কথা শনিবার বলেছেন স্বরাষ্টমন্ত্রী ।
অভিযানের সঙ্গে যুক্ত র‌্যাবের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশন শেষে দেশে ফেরার পর অভিযানের গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তার আগ পর্যন্ত অভিযান যেভাবে চলছে, সেভাবেই চলবে। যাঁদের নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তারা গ্রেপ্তার হলে ক্ষমতাসীন দলের অনেকের নাম বেরিয়ে আসবে। তাই ঝুঁকি নিতে চাইছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এদিকে কোনো কোনো অভিযানের ধরন নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। বিশেষ করে থেমে থেমে অভিযান চালিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে কি না, সে প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে। যেমন ২৩ সেপ্টেম্বর সূত্রাপুরে দুই ভাই এনামুল ও রূপনের বাড়িতে অভিযান চালানোর আগেই তারা পালিয়ে যান। সেখানে চারটি ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে ছয় সিন্দুকভর্তি ৫ কোটি ৪ লাখ টাকা ও ৭২০ ভরি স্বর্ণালংকার পায় র‌্যাব।
অভিযানের প্রতি সমর্থন রয়েছে বেশির ভাগ মানুষের। এই অভিযান কত দূর যায়, সেদিকে নজর রাখছেন সাধারণ মানুষ। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতা-কর্মী বলেন, দলের মন্ত্রীরা অভিযান নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে নানা রকম কথা বলছেন। আদতে তারা এ বিষয়ে খুব ভালো জানেন না। অভিযান কতটা নির্মোহভাবে পরিচালিত হবে, তা-ও সবাই বুঝতে পারছেন না।
র‌্যাবের পাশাপাশি অভিযানে নেমেছে পুলিশও। তবে আগের যেকোনো অভিযানের মতো এ দফায়ও র‌্যাব-পুলিশের মধ্যে সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট। চলমান অভিযানকে ‘জুয়া-মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ’বিরোধী অভিযানে রূপ দেওয়ার একটা চেষ্টা পুলিশের পক্ষ থেকে দেখা গেছে।
২১ সেপ্টেম্বর পুলিশ বগুড়ার ১২৩ বছরের পুরোনো টাউন ক্লাবে অভিযান চালায়। ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামীম কামাল বলেন, তার বয়স ৬০ এবং তিনিই ক্লাবের কনিষ্ঠ সদস্য। ঘটনার দিন ‘মিনি ক্যাসিনো’ চালানোর দায়ে এই ক্লাব থেকে ৬০ থেকে ৭৫ বছর বয়সী ১৫ জনকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা জব্দ করে। পরদিন আদালত তাদের জামিন দেন।
বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বলেন, তার জানামতে কোনো অন্যায় হয়নি। যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তারা জুয়া খেলছিলেন। টাকার অঙ্ক কম-বেশি কোনো বিষয় নয়। অঙ্ক যা-ই হোক না কেন, শাস্তির পরিমাণ একই।
তবে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে শামীম কামাল কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, যাদের ওই রাতে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়, তারা অবসরপ্রাপ্ত এবং ৫০-১০০ টাকার বেশি কখনোই তাদের হাতে থাকে না। তাদের ছেলেমেয়েরা ক্লাবে সন্ধ্যার দিকে নামিয়ে দিয়ে যান। তারাই সঙ্গে করে নিয়ে যান। তারা কোনো অন্যায় করেননি।
২৬ সেপ্টেম্বর লালবাগ বিভাগের পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যমকে খবর দিয়ে অভিযানে বের হন যে সিদ্দিকবাজারে জুয়ার বোর্ড বসেছে, অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে। পরে তারা সেখান থেকে ৫০টি ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করেন।
এর আগে গুলশানের একটি ভবনে তিনটি স্পা ও লাইফস্টাইল ক্লাবে অভিযান চালিয়ে ১৬ জন নারী ও দুজন পুরুষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে মানব পাচার দমন ও প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়। এজাহারে পুলিশ লেখে, এসব ক্লাবে স্পার আড়ালে নারীদের বিভিন্ন জায়গা থেকে এনে যৌনকর্মে বাধ্য করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার নারীরা ঘটনার শিকার, নাকি অপরাধের সঙ্গে জড়িত, এমন প্রশ্নে গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) স ম কাইয়ূম বলেন, এ বিষয়ে ডিএমপির মিডিয়া শাখা কথা বলবে। তিনি কিছু বলতে চান না। এই ছিল নয় দিনের অভিযানের ফিরিস্তি।
গত ১৮ই সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এই অভিযান হঠাৎ করেই থেমে গেছে। এ পর্যন্ত সর্বশেষ অভিযানটি হয়েছে ফুয়াং ক্লাবে। ২৬শে সেপ্টেম্বর রাতে শুরু হওয়া এই অভিযান শেষ হয় পরদিন ২৭শে সেপ্টেম্বর সকালে। তারপর আর কোনো ক্যাসিনো সংক্রান্ত অভিযান হয়নি। জনমনে প্রশ্ন জেগেছে, অভিযান কী তাহলে এখানেই থেমে গেলো? যদিও ক্যাসিনোসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িতদের অনেকেই এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
অবশ্য র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ সাংবাদিকদের বলেছেন, এই অভিযান মুখ থুবড়ে পড়ার কিছু নেই। বিষয়গুলোকে নির্মোহভাবে দেখতে হবে। আমাদের টার্গেট ছিলো ক্যাসিনো থাকবে না। অল ক্যাসিনোজ আর নাউ ক্লোজড। উই হ্যাভ ডিসমেন্টলড অল দ্যা ক্যাসিনোজ।
যদিও ক্যাসিনো জগতে আলোচিত যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, কাউন্সিলর মমিনুল হক সাঈদ এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। তারা কোথায় আছেন তা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি কেউ। ক্যাসিনোতে জড়িত অন্যান্যদের বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি-না এ বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য নেই সংশ্লিষ্টদের।
অভিযানে ঘটে ভিন্ন ঘটনাও। ক্যাসিনো চালানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন কিছু নেপালি নাগরিক। থাকতেন সেগুনবাগিচার একটি বাসার ফ্ল্যাটে। পুলিশের সহযোগিতায় ১৫ নেপালি খালি হাতে ফ্ল্যাট ছেড়ে চলে যান।

দায়িত্ব পুলিশকে বাদ দিয়ে কেন র‌্যাবের কাঁধে
পুলিশকে বাদ দিয়ে বিশেষ বাহিনী র‌্যাবকে অবৈধ ক্যাসিনো বাণিজ্যসহ দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের একক দায়িত্ব দেয়ার বিষয নিয়ে এখন বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা চলছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, বিভ্রান্তি এড়াতে অভিযানের পুরো দায়িত্ব র‌্যাবকে দেয়া হয়েছে। তবে এতদিন ধরে অবৈধভাবে ক্যাসিনো বাণিজ্য চলার পেছনে পুলিশ প্রশাসনের কারও যোগসাজশ ছিল কিনা, এমন প্রশ্ন উঠছিল গত কয়েকদিন ধরে।
অভিযান শুরুর পর থেকে পুলিশ এবং র‌্যাব একের পরে এক অভিযান চালিয়ে আসছিল। তবে এখন পুলিশকে বাদ দিয়ে র‌্যাবকে এককভাবে এই অভিযানের দায়িত্ব দেয়া হলো।
অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো বাণিজ্যের গল্প একের পর এক যখন বেরিয়ে আসছে, তখন এনিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বড় প্রশ্ন হিসেবে এসেছে, এতদিন ধরে অবৈধভাবে ক্যাসিনো বাণিজ্য চলেছে কিভাবে?
সরকারের অর্থমন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগের অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী বা প্রশাসনের নজরের বাইরে অবৈধ ক্যাসিনো বাণিজ্য চলেছে কিভাবে ? সেই প্রেক্ষাপটে অভিযানের দায়িত্ব থেকে পুলিশ বাদ পড়লো।
ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো: শফিকুল ইসলাম বলছিলেন, একই কাজ বিভিন্ন বাহিনী করলে ভাল ফল আসবে না, এই যুক্তিতে র‌্যাবকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।"একই কাজ একটা বাহিনী করা ভাল। একটা কাজ যদি পাঁচজনকে ভাগ করে দেয়া হয়, পাঁচজন পাঁচটা ফলাফল দেখাবে। একারণে র‌্যাবকে দায়িত্ব দিয়েছে।"
কিন্তু প্রশাসনের নজরের বাইরে অবৈধ ক্যাসিনো বাণিজ্য চলছিল কিভাবে-এমন প্রশ্ন যে উঠেছে, এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকার পুলিশ কমিশনার বলেছেন, "শুধু পুলিশের কথা বলেনি যে, পুলিশের চোখের সামনে এসব চলছিল। র‌্যাবতো এই এলাকার বাইরে ছিল না। সবার চোখের সামনেই চলছিল। তো র‌্যাবকে দায়িত্ব দিয়েছে, তারা দায়িত্ব পালন করছে। আমাদের বলা হয়েছে, একসাথে এককাজ একাধিক বাহিনী করলে সমস্যা হতে পারে। সুতরাং তারাই করবে।"
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সাংবাদিকদের প্রশ্নে এটুকুই বলেছেন যে, র‌্যাব এই অভিযান শুরু করেছে, সেকারণে তাদেরকেই এর দায়ি¡ত্ব দেয়া হয়েছে।
এছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা যুক্তি দিয়েছেন , বিভ্রান্ত্রি এড়াতে র‌্যাবকে অভিযানের একক দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
তবে ঢাকায় পুলিশ ষ্টেশন থেকে অল্প দূরত্বেই বিভিন্ন জায়গায় ক্লাবগুলোতে অবৈধ ক্যাসিনো বাণিজ্য ধরা পড়েছে। ফলে এসব চলার পেছনে পুলিশ প্রশাসনের দিকেই আঙুল তোলা হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে।
অবৈধ ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে পুলিশ এতদিন কেন ব্যবস্থা নেয়নি, সেই প্রশ্ন উঠেছে । ঢাকার পুলিশ কমিশনার অবশ্য বলেছেন যে, পুলিশের কেউ জড়িত ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
র‌্যাব পুলিশেরই একটা বিশেষ বাহিনী। সাধারণ পুলিশ থেকেই উর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা র‌্যাবের প্রধানের দায়িত্ব পান। র‌্যাবে অন্যান্য পদে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনী থেকে কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।
বিশ্লেষকরা বলেছেন, অবৈধ ক্যাসিনো বাণিজ্যে যেখানে বড় অংকের অর্থে বিষয় ছিলো, ফলে এটি আগে কারোই নজরে আসেনি, এই যুক্তি খাটে না বলে তারা মনে করেন।
দুর্নীতি বিরোধী বেসরকারি সংস্থা টিআইবি'র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সুলতানা কামাল মনে করেন, দীর্ঘ সময় ধরে ক্যাসিনো বাণিজ্য চলার দায় পুলিশ বা র‌্যাব কেউই এড়াতে পারে না।"যে ঘটনাগুলো ঘটছে, সেটার জন্য যদি আমরা মনে করি যে পুলিশ এখানে সেভাবে কাজ করেনি, তাদের অবহেলা যদি আমরা ধরতে চাই, তাহলে কারও অজান্তে না হওয়ার প্রতিফলন র‌্যাবের ওপরও পড়তে পারে। এটা নিয়ে আমরা প্রশ্ন করতে পারি যে, এখানে সরকারের কৌশলগত কোন কারণ আছে কিনা?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ