মঙ্গলবার ১৯ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

খুলনায় সারজিল হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন : মামলা ডিবিতে

খুলনা অফিস : খুলনার রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের মাছ কোম্পানির কর্মচারী সারজিল রহমান সংগ্রাম (২৮) হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটন হয়েছে। এছাড়া হত্যাকাইেমব ব্যবহৃত একটি চাপাতি ও ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের কারণ উল্লেখ করে রোববার এ মামলার আসামি সুমন মোল্লা (৩০) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুজ্জামান ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামির জবানবন্দী রেকর্ড করেন। 
খুলনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ইনচার্জ মো. তোফায়েল আহমেদ জানান, রোববার ভোর রাতে টুটপাড়া মহিরবাড়ির খালপাড় এলাকার গেদনপাড়ার মো. জাহাঙ্গীর মোল্লার ছেলে সুমন মোল্লা (৩০) কে গ্রেফতার করা হয়। এরপর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে রূপসার সারজিল রহমান সংগ্রাম হত্যাকান্ডে অংশ নেয়ার বিষয় স্বীকার করে। তার দেয়া তথ্যমতে এজাহারভুক্ত আসামি সোহেল হাওলাদার ওরফে গেদন সোলের নানা বাড়ির সিলিংয়ের ভিতরে লুকিয়ে রাখা একটি চাপাতি ও একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়। হত্যাকান্ডের সময়ে এ সকল ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয় বলেও জানান তিনি।  তিনি আরও জানান, হত্যাকান্ডের দিন তারা ৬ জন ট্রলারযোগে রূপসা নদী পার হয়েছিলো। নিহতের স্বজনরা ৪ জনের নাম জানতে পেরেছিলো। সেই মোতাবেক ৪ জনের নাম উল্লেখ করেই রূপসা থানায় মামলা করেছিলেন। সন্দেহভাজন আসামি সুমন গ্রেফতারের পর হত্যাকান্ডে অংশ নেয়া সকল আসামির তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মুক্ত রায় চৌধুরী জানান, মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকান্ড ঘটেছে। আসামির জবানবন্দীর বরাত দিয়ে তিনি জানান, হত্যাকান্ডের ৫ দিন পূর্বে তাদের সহযোগী রাহাতকে বাগমারা গ্রামের সারজিল রহমান সংগ্রাম মোবাইল চুরির অভিযোগে বেধড়ক মারপিট করে। এ ঘটনার বদলা নিতে রাহাত, সুমনসহ ৬/৭ জনের এক দল সন্ত্রাসী পরিকল্পনা করে। এরপর ঘটনার দিন সংগ্রামকে মারধোর করার এক পর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে এবং ঘটনার সময় সংগ্রামের মোবাইল সেটটিও তারা লুট করে নিয়ে যায়। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন, খুলনা সদর থানাধীন টুটপাড়া মহিরবাড়ি খালপাড় এলাকার আবুল শিকদারের ছেলে রাহাত শিকদার (২৫), আলমগীর হাওলাদারের ছেলে সোহেল হাওলাদার ওরফে গেদন সোহেল (২৫), রূপসার বাগমারা এলাকার মৃত ইউনুচ শেখের ছেলে ইব্রাহিম শেখ (২৫), রূপসার গোয়ালবাথান এলাকার সেলিম শেখের ছেলে অমিত শেখ (২৫), নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া এলাকার মো. সোবাহান হাওলাদারের ছেলে সাজু ওরফে সাধু (২৬) ও মহিরবাড়ি খালপাড় এলাকার গেদনপাড়ার সিরাজ (২৬)। এছাড়াও মামলায় আরও ৪/৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
এদিকে রোববার বিকেলে সারজিল ইসলাম সংগ্রাম (২৮) হত্যা মামলাটি তদন্তের জন্য খুলনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন জানান, মামলার তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা বিভাগে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়ায় নথিও তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ