মঙ্গলবার ১৯ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

চট্টগ্রামের সাগরিকায় চসিকের সর্বাধুনিক নির্মাণ সামগ্রী টেস্ট ল্যাব উদ্বোধন

চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রাম মহানগরীর সাগরিকাস্থ সিটি কর্পোরেশন স্টোর এলাকায় সর্বাধুনিক নির্মাণ সামগ্রী পরীক্ষণ পরীক্ষাগার স্থাপন করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।
গতকাল রবিবার সকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ. জ. ম. নাছির উদ্দীন এই পরীক্ষাগার উদ্বোধন করেন। এ সময় রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহসানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল, চসিক প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্ণেল মহিউদ্দিন আহমেদ, নবাগত প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্ণেল সোহেল আহমেদ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু ছালেহ, কামরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, মনিরুল হুদা, সুদীপ বসাক, নির্বাহী প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলী, উপ সহকরী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, সাগরিকা সিটি কর্পোরেশন স্টোর এরিয়ায় ২ হাজার বর্গফুট জায়গা নিয়ে এই ল্যাবটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ল্যাবের যন্ত্রপাতি আমদানীসহ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এ ভবন নির্মাণে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ব্যয় হয় প্রায় ২ কোটি টাকা। ল্যাবের যন্ত্রপাতি ইংল্যান্ড থেকে আমদানীকৃত।এই ল্যাবে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমপ্রেসার মেশিন, ইমপেক্ট ক্রেস্টার, এগ্রিগেট ক্রাসিং মেশিন, এগ্রিগেট ইমপেক্ট ভ্যালু যন্ত্রাংশ, কমপেক্ট কোর ড্রিল মেশিন, লস এনজেন্স এবরেশন মেশিন, চালনী, মটার মিক্সাচার, অটোমেটিক ভাইকেট মেশিন, ফিল্ড সিবিআর মেশিন, প্রোক্টর কমপেকশন মেশিন, অটোমেটিক পেনট্রোমিটার, রিং এন্ড বল মেশিন, ইলেকট্রনিক ব্যালেন্স, কনক্রিট মেশিন, ও সেন্ড কোন ইত্যাদি মেশিন রয়েছে। এ মেশিনগুলোর মাধ্যমে সিলিন্ডার, পাথর টেস্ট ও ইটের টেস্ট, বস্তুর ওজন মাপক যন্ত্র (পানি ও বালি), আমেরিকান ও বিট্রিশ পদ্ধতিতে পাথর পরীক্ষা, পাথর ও বালির গ্রেডিং বেরকরণ, বালি, সিমেন্ট পানি দিয়ে মিক্সার করে ছোট ছোট ব্লক প্রস্তুত করণ, যা পরবর্তীতে মেশিনে টেস্ট করা হয়ে থাকে। এ ছাড়া আরো রয়েছে সিমেন্টে জমাট বাঁধার সময় নির্ধারণ, ফিল্ডে মাটির গুনাগুন পরীক্ষা, বিটুমিন, মৃত্তিকা ও ম্যাটেরিয়াল টেস্ট ও বালির গুনাগুন পরীক্ষা, বিভিন্ন রেঞ্জের পরিমাপক । চট্টগ্রামে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে থাকলেও এ ধরণের আধুনিক যন্ত্রপাতি সম্বলিত কোন পরীক্ষাগার এ নগরীতে নেই। এই প্রথম চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে এ ধরনের একটি আধুনিক ল্যাব স্থাপন করেছে। এর মাধ্যমে নগরীর সরকারি বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুফল ভোগ করতে পারবে।
উদ্বোধনকালে সিটি মেয়র বলেন, এ ল্যাবের অভাবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্মাণ সামগ্রী বাহির থেকে পরীক্ষা করতে হতো। এতে সময় ও অর্থের অপচয় হতো। এই ল্যাব প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সময় ও অর্থ রোধ হবে। এছাড়া নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে অনেক মুখরোচক কথা বলা হতো। এই ল্যাব হওয়ায় নগরবাসীর মধ্যে সেই বিভ্রান্ত দূরীভূত হবে। এই ল্যাব প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, এ ল্যাব চসিক ব্যবহার করবে তা নয় চসিকের বাইরে যেকোনো সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তাদের নির্মাণ সামগ্রী পরীক্ষা করতে পারবে। তিনি নগরীর সকল সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের পূর্বে এ ল্যাব থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ব্যবহারের আহ্বান জানান। উদ্বোধনের পর মেয়র ল্যাবের যন্ত্রাংশ সমূহ ঘুরে ঘুরে প্রত্যক্ষ করেন।

চট্টগ্রাম হবে তামাকমুক্ত নগরী -মেয়র
সবুজ পরিচ্ছন্ন তামাক মুক্ত নগরী গড়ার লক্ষ্যে ইপসা ও সিটিএফকে এর সহযোগীতায় জনসচেতনতামূলক প্রচারণা কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। গতকাল রবিবার সকালে টাইগারপাসস্থ সিটি কর্পোরেশন কার্যালয় চত্বরে বেলুন উড়িয়ে এই প্রচারাভিযান উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন। এ সময় রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহসানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল, চসিক কাউন্সিলর মো. গিয়াস উদ্দিন, শৈবাল দাশ সুমন, সচিব ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাহেদ চৌধুরী, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলম, মেয়রের একান্ত সচিব মো. আবুল হাসেম, ইপসার উপ পরিচালক নাসিম ভানু, প্রোগ্রাম অফিসার মো. ওমর সাহেদ হিরু, এনটি টবাকো এলায়েন্সের আহবায়ক মো. আলমগীর সবুজ বক্তব্য রাখেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গীকার অনুযায়ী ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। এ ভিশন বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনসহ নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডকে তামাকমুক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে চসিক।
 এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রন কার্যক্রম বাস্তবায়নে গত বছরের ন্যায় এ বছরও বার্ষিক বাজেটে অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তিনি নতুন প্রজন্মের জন্য চট্টগ্রামকে একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য শহর বিনির্মাণে তামাকমুক্ত নগরী গড়তে ধর্ম, বর্ণ, দল-মত নির্বিশেষে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
এদিকে উদ্বোধনের পর তামাক নিয়ন্ত্রন আইন ও তামাকের ক্ষতিকর দিক সম্বলিত বিভিন্ন বার্তা নিয়ে একটি বর্ণাঢ্য রোড শো বের করা হয়। রোড শো-টি নগরীর বিভিন্ন প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে এবং তামাক বিরোধী প্রচারপত্র বিলি করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ