বুধবার ২০ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

খুলনা বিভাগীয় সরকারি শিশু হাসপাতালের নির্মাণ কাজ এখনও টেন্ডারের অপেক্ষায়

খুলনা অফিস : প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির আট বছরের মাথায় খুলনায় বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল নির্মাণে জমি অধিগ্রহণ পর্ব শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে জমি বুঝে পেলেও কাজ শুরুর জন্য টেন্ডারের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করছে, অন্যান্য কাজ শেষ করে অক্টোবরে টেন্ডার হবে এ হাসপাতালের। এদিকে খুলনায় একমাত্র শিশু হাসপাতালটি খুলনাবাসীর চাহিদা সামলাতে ‘সীট খালি নাই’ ঘোষণা লাগিয়েছে হাসপাতালের গেটে। ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষদের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনায় একটি বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। সে অনুযায়ী ২০১২ সালে হাসপাতালটি নির্মাণের জন্য জায়গা খোঁজা শুরু করে গণপূর্ত বিভাগ। তবে জায়গা নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পটি। প্রথমে খুলনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (মন্নুজান স্কুল) ও লোকষ্ট কলোনীর সামনের খালি জায়গায় উদ্যোগ নেয়া হলেও বিভাগীয় সার্কিট হাউজ নির্মাণে নির্দিষ্ট থাকায় সেটি বাতিল হয়। পরবর্তীতে সোনাডাঙ্গা সিটি বাইপাস সড়ক সংলগ্ন ময়ূরী আবাসিক এলাকা ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যবর্তী স্থানের প্রায় পাঁচ একর জমিতে সরকারি শিশু হাসপাতাল নির্মাণের জন্য স্থান নির্ধারণ করে গণপূর্ত বিভাগ।
সূত্রটি জানায়, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গণপূর্ত কর্তৃপক্ষ ৪.৮০ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে প্রস্তাব পাঠায়। এর প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের এল এ শাখা সর্বমোট ৫২ কোটি দু’লাখ টাকা পরিশোধ করে চাহিদা অনুযায়ী জমি দখল নিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে বুঝিয়ে দিয়েছে। তবে স্থাপত্য অধিদপ্তর কর্তৃক হাসপাতালের ডিজাইন এখনও না আসায় দরপত্রের জন্য বিজ্ঞপ্তি দিতে পারছে না গণপূর্ত কর্তৃপক্ষ। তারা বলছে, ডিজাইন হাতে পেলে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে দরপত্রের জন্য বিজ্ঞপন দেয়া হবে।
এদিকে খুলনায় একমাত্র বেসরকারি শিশু হাসপাতালে রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছে চিকিৎসকরা। হাসপাতালের গেটে কোন সীট খালি নাই লেখা। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা গুরুতর অসুস্থ শিশুদের নিয়ে অভিভাবকরা পড়ছেন সীমাহীন ভোগান্তিতে। এছাড়া খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও শিশুদের জন্য নেই পর্যাপ্ত সেবা ।
খুলনার সিভিল সার্জন ডা. এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এ অঞ্চলে একটি বিভাগীয় শিশু হাসপাতালের প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী নিজে খুলনার মানুষের কাছে দিয়েছেন। জায়গা নির্ধারণ নিয়ে প্রথমে কিছু জটিলতা থাকলেও সবার আন্তরিকতায় অবশেষে অর্থ ছাড় দিয়েছে মন্ত্রণালয়। জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে জমি অধিগ্রহণ করে গণপূর্ত কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিয়েছে। এখন যে কোন সময় কাজ শুরু হবে। দ্রুত সার্বিক কাজ শেষ করার মধ্যদিয়ে খুলনায় ২০০ শয্যার এই হাসপাতালটি শিশুদের স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এ ব্যাপারে খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত প্রকল্প হিসেবে এটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। জমি অধিগ্রহণ করে গণপূর্ত কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন তারা হাসপাতাল নির্মাণ করবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী হাসপাতালটি যাতে দ্রুত নির্মাণ হয় সেদিকে বিশেষ নজর দেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ