সোমবার ২৫ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

গুজরাটে গণধর্ষিত বিলকিস বানুকে দু’সপ্তাহের মধ্যে ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ 

৩০ সেপ্টেম্বর, পার্সটুডে : ভারতের গুজরাটে ২০০২ সালের ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় গণধর্ষণের শিকার বিলকিস বানুর আবেদনের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট গুজরাট সরকারকে দুই সপ্তাহের মধ্যে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ, চাকরি ও বাড়ি দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। গত সোমবার সুপ্রিম কোর্ট ওই নির্দেশ দেয়।

গত এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে গুজরাট সরকারকে বিলকিস বানুকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ, একটি সরকারি চাকরি ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছিল। যদিও বিজেপিশাসিত গুজরাট সরকার তা কার্যকর করেনি।    

পরবর্তীতে আদালতে বিলকিস বানুর পক্ষে বলা হয় যে, সরকার এখনও পর্যন্ত তাঁকে কিছুই দেয়নি। গত শুনানিতে আদালত রাজ্য সরকারকে বিলকিস বানুকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার পাশপাশি গুজরাট সরকারকে বিধি অনুসারে বিলকিস বানুকে সরকারী চাকরি ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য বলেছিল। কিন্তু তা কার্যকর না হওয়ায় এবার নয়া নির্দেশে আদালত ওই আদেশ কার্যকর করার জন্য দুই সপ্তাহ সময় বেধে দিয়েছে। আজ শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ জানতে চান- কেন এখনও ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়নি? এ নিয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা তাঁর সাফাইতে বলেন, ক্ষতিপূরণের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন দায়ের করার পরিকল্পনা রয়েছে। গুজরাট সরকারের আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, ক্ষতিপূরণের অর্থ অত্যন্ত বেশি, তা কমিয়ে ১০ লাখ করা হোক। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট তা মানতে রাজি হয়নি।

গুজরাটের দাহদের বাসিন্দা বিলকিস বানু ও তাঁর পরিবার ২০০২ সালে তৎকালীন বিজেপিশাসিত রাজ্য গুজরাটে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছিল। কিন্তু আহমেদাবাদের রন্ধিপুর গ্রামে তাঁরা উগ্রহিন্দুত্ববাদী দাঙ্গাবাজদের কবলে পড়ে যান। সেসময় ২১ বছর বয়সী বিলিকিস বানুকে ২২ বার ধর্ষণ করেছিল উগ্রহিন্দুত্ববাদী ধর্মান্ধরা। দাঙ্গাবাজরা তাঁর পরিবারের ১৪ জন সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল। তাঁর তিন বছর দু’মাস বয়সী মেয়ে সালেহাকে পাথর দিয়ে মাথা থেঁতলে পাশবিক উন্মমত্ততায় হত্যা করে ওই ঘাতকরা।

বিলকিস বানু এসময় সহায় সম্বলহীন ও নিঃস্ব হয়ে পড়েন। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাহায্যে অবশেষে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পরে ওই ঘটনায় ২০০৮ সালের ২১ জানুয়ারি ১১ জনকে যাবজ্জীবন সাজা দেয় আদালত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ