বুধবার ২০ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

সেপ্টেম্বরের ২৩ দিনে ১৫ হাজার ছাড়ালো ডেঙ্গু রোগী

ইবরাহীম খলিল : ২০১৯ সালে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। ২০০০ সাল থেকে শুরু করে পরবর্তী আরও ১৮ বছরে যেখানে সারাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৫০ হাজার ১৪৮ জন, সেখানে এ বছরের আগস্টেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ৭০ হাজার ১৯৫ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হন। সেপ্টেম্বরে এই সংখ্যা কমে এলেও চলতি মাসের প্রথম ২৩ দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৫ হাজার ৯২ জন রোগী।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম গতকাল সোমবার জানায়, সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (২২ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা) পর্যন্ত ডেঙ্গুতে নতুন করে আক্রান্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৬১ জন। এর মধ্যে ঢাকার ভেতরে ১শ’৪৩ জন, ঢাকার বাইরে ৩শ’১৮ জন। একইসময়ে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫শ’২১ জন। এর মধ্যে ঢাকার হাসপাতালগুলো থেকে ছাড়পত্র নিয়েছেন ১৩৮ জন, ঢাকার বাইরে ৩৮৩ জন। কন্ট্রোল রুম জানায়, রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৪০৩ জন। এর আগের দিন (২১ সেপ্টেম্বর) এ সংখ্যা ছিল ৪০৮। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্ত হয়ে ৮৫ হাজার ২৮৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৮৩ হাজার ৪৬ জন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার বলেন, ‘আগস্টে রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেলেও সেপ্টেম্বরে তা কমে আসছে। এখনো কিছু স্থানে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি পরিস্থিতি। তবে আমরা আশা করছি খুব দ্রুতই সেসব স্থানেও রোগীর সংখ্যা কমবে।’
ডেঙ্গু প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ ভিসি ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, “ডেঙ্গুর প্রকোপ কমাতে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপ, আগস্টে সিটি করপোরেশনের নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি এবং জনগণের সচেতনতা সবকিছু মিলিয়ে সেপ্টেম্বরের ডেঙ্গু পরিস্থিতি আগস্টের চাইতে ভালো। অন্যান্য বছর সেপ্টেম্বরে রোগীর সংখ্যা বাড়ে কিন্তু এবার সেটা কমছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে নেওয়া কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে আশা করছি খুব দ্রুতই ডেঙ্গু পরিস্থিতি ‘নিয়ন্ত্রণে’ চলে আসবে।”
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া বলেন, আশংকা করেছিলাম ঈদের সময়ে ঘরমুখো মানুষের গ্রামে ফিরে গেলে এটি সেখানেও ছড়িয়ে পড়বে। সেটি তা হয়নি। এখন দেখা যাচ্ছে ডেঙ্গু রোগে নয় বরং ভাইরাল ফিভার, ইনফ্লুয়েঞ্জা ফিভারসহ অন্যান্য জ্বরে আক্রান্ত। সেদিক থেকে সব কিছু মিলিয়ে বলা যায় আমাদের বর্তমান পরিস্থিতি সন্তোষজনক।’ ডেঙ্গু প্রতিরোধে এখন যে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে সেগুলো বছরে ৩৬৫ দিনই যদি প্রশাসনের পক্ষ থেকে চালানো হয় এবং জনগণ সচেতন থাকে তবে ভবিষ্যতেও এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে বলে আশা করেন অধ্যাপক ডা. উত্তম।
জানা গেছে, আইইডিসিআরের কাছে পাঠানো ২২৪টি মৃত্যুর ঘটনা পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে প্রতিষ্ঠানটির ডেথ রিভিউ কমিটি ১২৬টি মৃত্যুর ঘটনা পর্যালোচনা করে ৭৫টি ডেঙ্গুজনিত বলে জানিয়েছে। এর মধ্যে গত এপ্রিলে ৩ জন, জুনে ৬ জন, জুলাইয়ে ৩২ জন, আগস্টে ৩১ জন এবং চলতি মাসে ৪ জন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ