রবিবার ১৭ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

শুধু জুয়াড়ী নয় যাদের নিয়ে লুটপাট ও মানুষ গুম করা হয়েছে তাদের বিচার চাই -খন্দকার মাহবুব

গতকাল সোমবার সুপ্রিম কোর্টের (বাংলাদেশ বার কাউন্সিল সংলগ্ন) গেটের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়া মুক্তি আইনজীবী আন্দোলন

স্টাফ রিপোর্টার : দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্রের দাবিতে আইনজীবীদের পদযাত্রায় অংশ নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি প্রবীণ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, ইদানীং আওয়ামী লীগ সরকার হাবভাব দেখাচ্ছে, তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে যাচ্ছে। কাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে, কতগুলো চুনোপুঠি গ্রেফতার করা হচ্ছে। জুয়াড়ীকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। আমরা জানি এর পেছনে যারা আছে তাদের আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে এই জুয়াড়ী দল গড়ে উঠেছে। তাদেরকে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে হবে। শুধুমাত্র মানুষকে ধোঁকা দেয়ার জন্য কতিপয় কেসিনোতে গ্রেফতার করে তারা দেখাবেন যে আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। তিনি বলেন, আমরা এই জুয়াড়ীদের গ্রেফতার করে শেখ হাসিনার জিরো টলারেন্সে বিশ্বাস করি না। আমরা বিশ্বাস করি এই জিরো টলারেন্সের মধ্য দিয়ে আজকে যাদের নিয়ে লুটপাট করা হয়েছে, মানুষকে গুম করা হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে, তাদের বিচার দাবি করছি। বিচারের অপেক্ষায় আমরা আছি। ইনশা আল্লাহ এই বিচার যদি তারা না করে অবশ্যই এই বাংলার মাটিতে একদিন তাদের বিচার হবে। 
গতকাল সোমবার সুপ্রিম কোর্ট বার ভবন থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্রের দাবিতে আইনজীবীরা জাতীয় প্রেস ক্লাবের অভিমুখে পদযাত্রা করেন। তবে পুলিশ প্রশাসনের অনুমতি না থাকায় আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের (বাংলাদেশ বার কাউন্সিল সংলগ্ন) গেটের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে পদযাত্রা শেষ করেন। গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়া মুক্তি আইনজীবী আন্দোলন আয়োজিত পদযাত্রায় আরো অংশগ্রহণ করেন, সংগঠনের চেয়ারম্যান তৈমূর আলম খন্দকার, আইনজীবী ড. ফারহাত হোসেন, আবেদ রাজা, গোলাম কিবরিয়া, মো: হালিম, মহাসচিব এবিএম রফিকুল হক তালুকদার রাজা, শাহ আহমেদ বাদল, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আনিছুর রহমান খান, সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের মহাসচিব আইয়ুব আলী আশ্রাফী, ড. ওয়াছেলুর রহমান বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান সম্রাট, মো: ইছা, সাজ্জাদ হোসেন, হুমায়ুন কবির মঞ্জুু, শহিদুল ইসলাম, নাজমুল হাসান, মনির হোসেন মোস্তফা কামাল, আ: জব্বার ভূইয়া, শেখ মোহাম্মদ আলী, সাইদ হাসান বখতিয়ার, শামসুল ইসলাম, মাসুদ রানা, আবু হানিফা, সানজিদা সোমা, মাহমুদুল হাসান, রেজাউল ইসলাম, ব্যারিস্টার নাসিম খান, মুকতার হোসেন, অ্যাড. উজ্জল, মাহবুবুর রহমান দুলাল প্রমুখ।
খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আমরা বলতে চাই হাজার হাজার কোটি টাকা কারা বিদেশে পাচার করছে। আমরা জানতে চাই সুইস ব্যাংকে কার কতো টাকা আছে। আমরা জানতে চাই আজ সারা বাংলাদেশে বিরোধী দলের লাখ লাখ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কেন মামলা। জানতে চাই খালেদা জিয়াকে কেন জেলে নেয়া হয়েছে। দুই কোটি টাকা আত্মসাতের মিথ্যা মামলা দিয়ে বেগম  খালেদা জিয়াকে জেলে রাখা হয়েছে। আর ক্যাসিনোতে আমরা হাজার হাজার কোটি টাকা দেখতে পাচ্ছি। এই প্রহসন দেশের আইনজীবীরা বেশিদিন সহ্য করবে না। তিনি বলেন, আমরা আন্দোলনে নামছি, রাজপথ আমরা উত্তপ্ত করব। আসা করব যারা আমাদের নেতৃবৃন্দ আছেন তারাও আমাদের সঙ্গে যোগদিয়ে আন্দোলনকে বেগবান করে তুলবেন।
খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ভোটারবিহীন এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। অবিলম্বে তাদের পদত্যাক করতে হবে এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ