রবিবার ১৭ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

বন্ধ ফু-ওয়াং ক্লাবসহ ৩ বারে মেলেনি কিছুই

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার ফু-ওয়াং ক্লাবে রয়েছে বার, জিম ছাড়াও নানা ইনডোর গেমের ব্যবস্থা। প্রতিদিনই সন্ধ্যার পর জমজমাট থাকে অভিজাত এ ক্লাব। তবে ক্লাবটিতে অভিযান চালিয়ে কিছুই পায়নি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে বিভিন্ন সংস্কার কাজ চলায় গত তিনদিন ধরে ক্লাবটি বন্ধ রয়েছে। আর বন্ধ থাকা সময়েই ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের শিল্পাঞ্চল জোন ক্লাবটিতে অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন ডিএমপির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ক্যাসিনো ও জুয়া খেলাসহ নানা অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে ক্লাবটিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিন্তু বন্ধ থাকায় ভিতরে কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী ও একজন কোষাধ্যক্ষ ছাড়া কাউকে পাওয়া যায়নি। ক্লাবটি প্রায় অর্ধ-পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। গতকাল সোমবার রাজধানীর ফু-ওয়াং ক্লাবে অভিযান চলার সময় এসব তথ্য জানা গেছে।
অভিযানের এক পর্যায়ে ডিএমপির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের বলেন, ক্লাবটিতে একটি বৈধ বার রয়েছে। ক্লাব কর্তৃপক্ষ আমাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পেরেছে। যাদের লাইসেন্স আছে তারাই একমাত্র এখানে এসে মদ বা লিকার খেতে পারেন। তিনি বলেন, এর বাইরে ক্যাসিনো বা জুয়া খেলার কোন ধরনের সরঞ্জাম এখানে আমরা পাইনি।
ডিএমপির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, আমরা সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এখানে অভিযান পরিচালনা করেছি। এই অভিযান আমাদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ ছিল। অপরাধ করে কেউ পার পাবে না, সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে এ নির্দেশনা আছে।
পুলিশের তেজগাঁও জোনের উপ কমিশনার আনিসুর রহমান জানান, গতকাল সোমবার বিকাল ৫টার দিকে একজন নির্বাহী হকিমের নেতৃত্বে ওই ক্লাবে অভিযান শুরু হয়।
তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার হাফিজ আল ফারুক বলেন, “এটা মূলত একটি বার। এখানে জুয়া বা ক্যাসিনো খেলার সরঞ্জাম পাওয়া যায়নি।
ঢাকায় যুবলীগ নেতাদের ‘৬০টি ক্যাসিনো চালানোর’ খবর সংবাদমাধ্যমে আসার পর গত বুধবার ফকিরাপুল ইয়ংমেনস ক্লাবসহ চারটি ক্লাবে অভিযান চালিয়ে জুয়ার সরঞ্জাম, কয়েক লাখ টাকা ও মদ উদ্ধার করে র‌্যাব।
অবৈধভাবে ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে ওই ক্লাবের সভাপতি যুবলীগের ঢাকা মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে সেদিন গ্রেফতার করা হয়। এর দুই দিনের মাথায় শুক্রবার ঢাকার কলাবাগান ক্রীড়াচক্র ও ধানমন্ডি ক্লাবেও অভিযান চালায় র‌্যাব। কলাবাগান ক্রীড়াচক্র থেকে ক্লাব সভাপতি কৃষক লীগ নেতা সফিকুল আলম ফিরোজসহ পাঁচজনকে অস্ত্র-গুলি ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়।
রোববার মাঠে নামে পুলিশ। ঢাকার মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব, দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাব ও আরামবাগ ক্রীড়া সংঘে অভিযান চালিয়ে প্রতিটি জায়গায় ক্যাসিনোর সরঞ্জাম পায় তারা। পরে রোববার রাতে গুলশানের তিনটি স্পায় অভিযান চালিয়ে ১৯ জনকে আটক করে পুলিশ।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল সোমবার দুপুরে সাংাবদিকদের বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউ ইয়র্কের পথে রওনা হওয়ার আগে বিমানবন্দরে নির্দেশনা দিয়ে গেছেন, মাদক, অনিয়ম, দুর্নীতির চক্র না ভাঙ্গা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যেতে হবে।
মগবাজারে পিয়াসী বারে অভিযান
মগবাজারে পিয়াসী বারে অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে ওই বারে অভিযান শুরু করে পুলিশ।
হাতিরঝিল থানার ওসি আব্দুর রশিদ জানান, মগবাজার রেলগেটের পাশে পিয়সী বারে আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি। বারটির অনুমোদন থাকলেও এর বাইরে অনুমোদনহীন কোনো মদ, মদের নামে ক্যাসিনো বা জুয়া খেলা হয় কিনা তা খতিয়ে দেখতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে পিয়াসী বারে অভিযান পরিচালনা শেষে পুলিশ জানায়, পিয়াসীতে অবৈধ কিছুই পাওয়া যায়নি।
গোল্ডেন ড্রাগন বারে অভিযান
বাংলামোটরে গোল্ডেন ড্রাগন বারে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। রাত পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, তিন তলা বিশিষ্টি এই বারে কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে বার জুড়ে মদ্য পানের বিভিন্ন চিহ্ন ছিল।
সরেজমিনে দেখা যায়, টিভি চলছিল। টেবিলগুলোতে গ্লাসে গ্লাসে মদ ছিল। তবে কোনো কাস্টমারকে খুঁজে পাননি ভাম্যমাণ আদালত।
অভিযান শেষে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (পশ্চিম) অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি) হাবিবুন্নবী আনিসুর রশিদ বলেন, ‘আমাদের তথ্য ছিল এটি একটি বার। তবে এখানে অনৈতিক কোনো কিছু হয় কিনা, সেটা দেখতে এই অভিযান পরিচালনা করা। আমরা এদের লাইসেন্স দেখেছি, তাদের কাগজপত্র সব ঠিক আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু এখানে অনৈতিক কিছু ছিল না, তাই কাউকে আটক করা হয়নি। তবে আমাদের এই অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলবে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ