রবিবার ১৭ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

ছাত্রলীগের হাতে রক্তাক্ত হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলম আলমগীর গতকাল সোমবার ছাত্রলীগের হামলায় আহত ছাত্রদল নেতাকর্মীদের দেখতে যান -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনাকে রাজনীতির জন্য  অশনি সংকত হিসেবে দেখছেন  মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ছাত্রলীগের হাতে বই, খাতা, কলমের পরিবর্তে অস্ত্র তুলে দেয়ার কারণেই শিক্ষাঙ্গনগুলো আজ রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে। কোথাও শিক্ষার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নেই। গতকাল সোমবার বিকেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত নেতা-কর্মীদের দেখার পর বিএনপি মহাসচিব এই মন্তব্য করে এই ঘটনার নিন্দা জানান।
তিনি বলেন,  অত্যন্ত সফল সম্মেলন ও নির্বাচনে ছাত্র রাজনীতিতে ছাত্র দল নতুন উদ্যোগ নিয়ে নতুন একটা স্বপ্ন সৃষ্টি করে বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতিতে প্রবেশ করছিল ঠিক সেই সময়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা বিশেষ করে ছাত্র লীগের সন্ত্রাসীরা আজকে ছাত্র দলের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারিসহ নেতা-কর্মীদের ওপর যে আক্রমণ চালিয়েছে- এটা শুধু ন্যক্কারজনকই নয়, এটা বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য অশনি সংকেত মনে করছি। আমরা মনে করি, ছাত্র দলের উপর এই হামলা গণতন্ত্রের উপরে হামলা। আমরা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং হামলার সাথে জড়িতদের শাস্তি দাবি করছি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্র দলের কর্মীদের ওপর ছাত্র লীগ কর্মীদের হামলায় ২০/৩০ জন আহত হয়েছে। সোমবার তুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ে হাকিম চত্বর, দোয়েল চত্বর ও টিএসসিতে দফায় দফায় এই হামলার সময়ে দায়িত্ব পালনরত তিন সাংবাদিকও আক্রান্ত হন। বিকাল সাড়ে ৪টায় বিএনপি মহাসচিব কাকরাইলে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে আহত নেতা-কর্মীদের দেখতে যান। তিনি তাদের কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ শুনেন। বিএনপি মহাসচিব তাদের চিকিসার খোঁজ-খবরও নেন।
এসময়ে সাবেক ছাত্র নেতা  খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, শহিদুল ইসলাম বাবুল, ডা. রফিকুল ইসলাম, ছাত্র দলের নবনির্বাচিত সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল উপস্থিত ছিলেন।  এর আগে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারি অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসও আহতদের দেখতে যান।
মির্জা ফখরুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সব সময় সন্ত্রাসী দল, ছাত্র লীগ তো বটেই। ছাত্র রাজনীতির যে একটা নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করতে যাচ্ছিল ছাত্র দল, সেই অধ্যায়কে সমূলে বিনষ্ট করবার জন্যে একটা পায়তারা। কারণ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় গত কয়েদিন ধরে আমরা যা দেখছি যে চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজী, সব রকমের অন্যায়-অপকর্ম তারা করছে। সন্ত্রাস তারা সব সময় করে এসছে। সেই সন্ত্রাসের একটা নজির আজকে দেশবাসী দেখতে পেলো। আমরা বিশ্বাস করি, যে সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ছাত্র দল যেভাবে জেগে উঠেছে এই ছাত্র দল নিশ্চয়ই নিসন্দেহে তারা অত্যন্ত সুসংগঠিত হতে পারবে এবং দেশের ছাত্র রাজনীতিতে বিশেষ করে গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির ক্ষেত্রে তারা তাদের যে অবদান, সেই অবদান অবশ্যই রাখতে সক্ষম হবে। সন্ত্রাসীরা কখনো জয়ী হতে পারে না। তারা অবশ্যই এই ছাত্র দলের নেতৃত্বেই পরাজিত হবে।
নিন্দা ও প্রতিবাদ: ছাত্রলীগের হাতে বই, খাতা, কলমের পরিবর্তে অস্ত্র তুলে দেয়ার কারণেই শিক্ষাঙ্গনগুলো আজ রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি একথা বলেন। বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, ছাত্রদলের নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে গতকাল সোমবার সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মধুর ক্যান্টিনে অবস্থানকালে আওয়ামী ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা হকিষ্টিক, রামদা ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর ঝাপিয়ে পড়লে ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয় যুগ্ম সম্পাদক মোঃ শাহনেওয়াজ, ডাকসুর এজিএস প্রার্থী মোঃ খোরশেদ আলম সোহেল, জিয়াহল যুগ্ম আহবায়ক কামরুল ইসলাম, ঢাঃ বিঃ সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম শাহীন, শহীদুল্লাহ হল জিএস প্রার্থী মাহবুবুল আলম শাহীন, সুর্যসেন হল যুগ্ম আহবায়ক, ফিরোজ আলম, আতাউর রহমান, খন্দকার ফাহিম, সাগর রহমান ও কর্মী শাহ আলম চৌধুরীসহ অনেক ছাএদলের নেতাকর্মীরা মারাত্মকভাবে আহত হয়। তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই হামলা আওয়ামী বাকশালী ছাত্রলীগের একদলীয় কর্তৃত্ববাদী শাসনের বহিঃপ্রকাশ। রাষ্ট্র ও সমাজ থেকে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার মতো তারা শিক্ষাঙ্গনে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে চায় না। ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিদ্যমান থাকলে ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসমাজ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করবে। এই ভয়ে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ এখন লাঠিয়ালের ভূমিকা পালন  করছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ছাত্রলীগের হাতে বই, খাতা, কলমের পরিবর্তে অস্ত্র তুলে দেয়ার কারণেই শিক্ষাঙ্গনগুলো রক্তাত্ব এবং তারা নিজেরা মহাচাঁদাবাজ হিসেবে অভিসিক্ত হয়েছে। ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠন এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অঘোষিত শাসকে পরিণত হয়ছে। তারা নিজেরা বেপরোয়াভাবে চাঁদাবাজী, ভর্তি বাণিজ্য, সীট বাণিজ্য, নকল বাণিজ্য ও প্রশ্নপত্র ফাঁস বাণিজ্যে লিপ্ত হয়ে পড়েছে। আসলে এরাই দেশব্যাপী অরাজকতা ও অনাচারের হোতা। সরকার এদেরকে লেলিয়ে দিয়েছে গণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের এই রক্তাত্ব আক্রমণ কাপুরোষচিত। আমি এই হামলায় জড়িত দৃস্কৃতিকারীদের দৃষ্টান্তমুলক শান্তি দাবি করছি এবং আহত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দের আশু সুস্থতা কামনা করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ