রবিবার ১৭ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

সিরাজগঞ্জ সলঙ্গায় হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি

সিরাজগঞ্জ (সলঙ্গা) থেকে ফারুক আহমেদ : কালেরপরিক্রমায় সিরাজগঞ্জ সলঙ্গা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি। এখন আর পৌষ পার্বণ, নবান্ন উৎসব, কিংবা বিশেষ কোনো দিনে ঢেঁকিতে পা দিয়ে ধান বানার শব্দ শোনা যায় না। এমনকি শোনা যায় না নববধূদের কন্ঠে সেই প্রিয় সংগীত"ও ধান বানিরে ঢেঁকিতে পা দিয়া, ঢেঁকি নাচে আমি নাচি হেলিয়া দুলিয়া; ও ধান বানিয়ে ঢেঁকিতে পা দিয়া।  গ্রাম বাংলার কৃষণীদের সেই চিরচেনা ঢেঁকি এখন আর তেমন একটা চোখে পড়ে না। অথচ এক সময় রায়হঞ্জ উপজেলার সলঙ্গা থানার গ্রামগঞ্জের প্রতিটি কৃষক পরিবারেই ঢেঁকি ছিল। পরিবারের কৃষণীরা সে সময় দৈনন্দিন ধান, গম ও জব ভাঙার কাজ ঢেঁকিতেই করতেন। পাশাপাশি চিড়া তৈরির মতো কঠিন কাজও ওই ঢেঁকিতেই করা হতো। বিশেষ করে সাব বরাত, ঈদ,পুজো নবান্ন উৎসব এবং পৌষ পার্বণসহ বিশেষ বিশেষ দিনে পিঠা পুলি খাওয়ার জন্য অধিকাংশ বাড়িতেই ঢেঁকিতে চালের আটা তৈরি করা হতো। সে সময় গ্রামের বধূদের ধান ভাঙানোর গান আর ঢেঁকির ছন্দময় শব্দে চারদিকে হৈ-চৈ পড়ে যেতো। তা ছাড়া ওই সময় এলাকার বড় বড় কৃষকরা আশপাশের দরিদ্র নারীদের টাকা বা ধান দিয়ে ঢেঁকিতে চাল ও আটা ভাঙিয়ে নিতো। অনেক দরিদ্র পরিবার আবার ঢেঁকিতে চাল ভাঙিয়ে হাটবাজারে বিক্রি করে জীবীকা নির্বাহ করতেন। সে সময় ঢেঁকিতে ভাঙা পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু চালের বেশ কদর ছিল।

কিন্তু আধুনিকতা আর চিজ্ঞানীদের নতুন নতুন ধান, গম ভাঙা মেশিন আবিষ্কারের কারণে ঢেঁকি আজ বিলুপ্ত প্রায়। তা ছাড়া সরকারিভাবেও ঢেঁকি গ্রামগঞ্জের দু'একটা বাড়িতে এখন ঢেঁকি দেখা গেলেও অদূরে ভবিষ্যতে দেখা যাবে না বলে এলাকার সচেতন মহল মনে করছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ