রবিবার ১৭ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

রাজনীতির খেলা!

ভারতে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) এখন দেশটির নাগরিকদের কাছে মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশংকায় মানসিক চাপে অনেকেই মারা যাচ্ছেন এখন। উল্লেখ্য যে, গত কয়দিনে পশ্চিমবঙ্গে ওই কারণে অন্তত ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে এনআরসি নিয়ে নিজের আপত্তির কথা জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।
উত্তর চব্বিশ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করলো ৫২ বছরের আমেনা বেওয়া। স্বজনরা বলছেন, এনআরসির চিন্তায় পুরনো দলিল খুঁজতে বাঁকুড়ায় বাপের বাড়ি পর্যন্ত দৌড়েছিলেন আমেনা। কিন্তু প্রয়োজনীয় নথি খুঁজে পাননি। তারপরই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। প্রতিবেশীরা বলছেন, আমেনা ভয় পাচ্ছিলেন যদি তাকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয় তাহলে কোথায় গিয়ে ঠাঁই নেবেন এই বয়সে। আর ইটাহারের সোলেমান সরকার এনআরসি শোনার পর থেকেই ভিটে হারানোর উদ্বেগে ছিলেন। শুক্রবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। ছেলেরা বলছেন, গত ক’দিন সমানে প্রমাণপত্র খোঁজ করছিলেন তিনি। উদ্বেগই কাল হলো তার জন্য। ভিটা হারানোর এই আতঙ্ক যে কতটা মারাত্মক হতে পারে সেটা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, রাজনীতির এই নোংরা খেলা বন্ধ না হলে এনআরসি আতঙ্কে আরও অনেকের মৃত্যু হবে। এদিকে মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদের মিলন ম-ল (২৭) আত্মঘাতী হওয়ার পরে পরিবারের লোকজন ভিটে হারানোর ভয়ের কথাই বলছিলেন। শুক্রবার জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ির বাসিন্দা ৩৯ বছরের অন্নদা রায়ের আত্মহননের পর আত্মীয়রা জানান, চার বিঘা জমি বন্ধক দিয়ে চাষের জন্য টাকা ধার নিয়েছিলেন তিনি। এনআরসি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ায় তার মনে হয় কাগজ তো বন্ধক দিয়েছেন, এখন প্রমাণ দেখাবেন কী করে?
এনআরসি বিষয়টিকে কেন্দ্র করে মানুষ যেভাবে আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছেন তা খুবই মর্মান্তিক। রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী বিষয়টিকে রাজনীতির নোংরা খেলা হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই খেলা বন্ধ হয় কিনা সেটাই দেখার বিষয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ