রবিবার ১৭ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

ঠাকুরগাঁওয়ে স্বামীকে ‘খুন’ করে স্ত্রীর আত্মসমর্পণ

ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা : ঠাকুরগাঁওয়ে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী শরিফুল ইসলাম (৪০ কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে স্ত্রী মালেকা  বেগমকে (২৮)। এ ঘটনার পর পুলিশে ফোন দিয়ে নিজেই আত্মসমর্পণ করেছে স্ত্রী মালেকা।
রোববার রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের বগুড়াপাড়া এলাকায়  এ হত্যাকান্ড ঘটে বলে জানান ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি আশিকুর রহমান। নিহত শরিফুল ইসলাম বালিয়া ইউনিয়নের কুমারপুর গ্রামের নবিবর রহমানের ছেলে বলে জানাযায়।
এ ঘটনায় বালিয়া ইউনিয়নের বগুড়া বস্তি গ্রামের মজিবর রহমানের মেয়ে ও নিহত শরিফুল ইসলামের তৃতীয় স্ত্রী মালেকা বেগম পুলিশের কাছে আটক রয়েছে।
পুলিশ সুত্রে জানাযায়, ২০০৬ সালে পারিবারিকভাবে শরিফা বেগম নামে এক নারীকে বিয়ে করেন শরিফুল ইসলাম। এরপর ২০০৭ সালে ওই নারীর মৃত্যু হলে ২০০৮ সালে দ্বিতীয়বার ঝরণা বেগম নামে আরেক নারীকে বিয়ে করেন শরিফুল ইসলাম। অপরদিকে ২০১২ সালে প্রতিবেশী বগুড়া পাড়া গ্রামের বাসিন্দা মালেকা বেগমের সাথে শরিফুল ইসলামের ‘প্রেমের সম্পর্কে বিয়ে হয়। এ নিয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্ত্রীর মাঝে বিরোধ শুরু হয়। এর জেরে দ্বিতীয় স্ত্রী ঝরণা বেগম নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে আদালতে স্বামীসহ মালেকার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন এবং তৃতীয় স্ত্রী মালেকা বেগমও একই আইনে স্বামীসহ দ্বিতীয় স্ত্রী ঝরণার বিরুদ্ধে পাল্টা আরেকটি মামলা দায়ের করেন বলে জানান তিনি।
মামলা হওয়ার পর থেকেই তাদের সংসারে বিরোধ চলছিল উল্লেখ করে পুলিশ জানায়, বগুড়াপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের বাড়িতে প্রায় এক মাস ধরে ভাড়া থাকতেন মালেকা বেগম।  রোববার দিবাগত রাতে ওই বাড়িতে স্বামী শরিফুল ইসলাম আসেন। এরপর তৃতীয় স্ত্রী মালেকা বেগমের সাথে তার কথা কাটাকাটি হয় এবং শরিফুল তার স্ত্রীকে মারধর করে। এক পর্যায়ে মালেকা বেগম তার স্বামীকে ধারালো বসিলা দিয়ে মাথায় কুপিয়ে হত্যা করেন এবং সদর থানার এস আই ভূষণকে নিজেই ফোন করে আত্মসমর্পণ করেন।
এ বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং পুলিশ পুরো বিষয়টি ভালোভাবে খতিয়ে দেখছে বলে জানান ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি আশিকুর রহমান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ