রবিবার ১৭ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

দুর্নীতি দুঃশাসনে আওয়ামী লীগে পচন ধরেছে -গয়েশ্বর

গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম আয়োজিত দুর্নীতি দুঃশাসন এবং বর্তমান বাংলাদেশ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীতে ক্যাসিনো বাণিজ্য ও সন্ত্রাস-দুর্নীতি বিরোধী চলমান শুদ্ধি অভিযানে তিনজনকে গ্রেফতার করে লাখখানেক লোককে আড়াল করে রাখলে সরকার কোনও প্রশংসা পাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। দুর্নীতি, দুঃশাসন, ক্যাসিনো, মাদক, ছিনতাই, টেন্ডারবাজির মাধ্যমে আওয়ামী লীগে পচন ধরেছে। শুধু তিন অ্যান্টিবায়োটিককে (যুবলীগের খালেদ ভূঁইয়া, জি কে শামীম, কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের সভাপতি) গ্রেপ্তার করেই আওয়ামী লীগের পচন ঠেকানো যাবে না। পচন ঠেকাতে হলে দুর্নীতিবাজের তালিকার ৮০০জন সবাইকে আইনের আওতায় আনুন, আমাদের সহযোগিতা থাকবে।
নেতিবাচক কথা বলবেন না, প্রশংসা করুন- তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হলে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরামের উপদেষ্টা সাঈদ আহমেদ আসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এম জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ, জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের আহ্বায়ক প্রিন্সিপাল শাহ মোহাম্মদ নেছারুল হক, জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মনিরুজ্জামান মনির, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ উদ্দিন, সাবেক ছাত্র নেতা শাহজাহান মিয়া সম্রাট, কৃষক দলের সদস্য হাজী মোজাম্মেল হক মিন্টু সদাগর, জাতীয় গণতান্ত্রিক মঞ্চের সভাপতি ইসমাইল তালুকদার খোকন প্রমুখ।
এ প্রসঙ্গে গয়েশ্বর আরও বলেন, আমরা অবশ্যই প্রশংসা করবো, যারা এই চলমান প্রক্রিয়াকে অব্যাহত রাখবে তাদের। তবে তিনটি লোককে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে লাখখানেক লোককে যদি আড়াল করার চেষ্টা করা হয়, সেক্ষেত্রে আমরা অসহায়। সেক্ষেত্রে আমরা প্রশংসা করতে পারবো না। কিন্তু এদেরকে আইনের আওতায় এনে, এদের থেকে প্রাপ্ত অর্থ যদি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যায়, অবশ্যই ধন্যবাদ দেবো।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, কিন্তু প্রশ্ন হলো- এটা কি সরকারের উদ্যোগ নাকি দেশপ্রেম থেকে দুঃসাহসিকভাবে উদ্যোগ। এই গ্রেফতারের মধ্যে দিয়ে যারা দুর্নীতির লাগাম ধরতে চায়, তাদেরকে সাধুবাদ জানাই। মসজিদের শহর হিসেবে খ্যাত ঐতিহ্যবাহী ঢাকা এখন ক্যাসিনোর শহরে পরিণত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশ্যে গয়েশ্বর বলেন, ওবায়দুল কাদের এটাকে বলছেন- ইমেজ রিকভারি। তার মানে হলো পচন ধরছে এন্টিবায়োটিক। ওবায়দুল কাদের চাইলে নিজেই নিজেদের সহায়তা করতে পারেন। আবার কেউ কেউ বলছে গ্রেফতারকৃতরা বিএনপি করতো। যদি বিএনপি করে থাকতো সে সময় তো তাদের পকেটে ১০ টাকাও ছিলো না। আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ার পরে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছে।
একটা ক্যাসিনো তৈরি করতে ২ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হয় দাবি করে গয়েশ্বর বলেন, এই পানের দোকানে, একটা ঘরের মধ্যে এগুলো ক্যাসিনো না। এগুলো এক ধরনের ফটকাবাজি এবং টাকাগুলোকে এক জায়গায় নেয়া, এছাড়া আর কিছুই না। যাদের ধরা হয়েছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে গোয়েন্দা বাহিনী হয়তো বিব্রত বোধ করছে অনেকের নাম চলে আসায়। আমি অনুরোধ করবো প্রত্যেকের নাম পত্রিকার পাতায় ছাপিয়ে জনসম্মুখে প্রকাশ করা হোক। জনগণ এগুলো জানতে পারলে প্রশাসনের পাশে থাকবে, আস্থা বাড়বে।
বিএনপির এ নেতা বলেন, ফুটপাতের কুলি থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন অনেকে। রাষ্ট্রের আরও কতো টাকা না জানি এভাবে লুটপাট করা হয়েছে। অনেক দেরিতে হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। এতোদিন গণমাধ্যম নিশ্চুপ ছিল না, তাদের নিশ্চুপ করে রাখা হয়েছিল। তারা চাইলেও লেখতে পারেনি।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয়ে অস্থিরতার জন্য ভিসিদের দায়ী করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, সব ভিসি এক বিচির। তাদের সবারই একটা নীতি আছে, সেটা হলো দুর্নীতি। তিনি বলেন, বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় যা হচ্ছে তা যদি সংবাদপত্রে লেখা হতো তবে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাতেন না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যেত।
সরকার পদত্যাগ করেও সহযোগিতা করতে পারে এমন দাবি করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে খারাপ লোক আছে, কিন্তু ভালো লোকের তো অভাব নেই। তারা যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন, তাহলে জনগণকে দুর্নীতি, দুঃশাসন, লুটপাট, সন্ত্রাস থেকে রক্ষা করতে পুলিশ বাহিনী একাই পারবে। যতগুলোই ক্যাসিনো থাকুক এটা কিন্তু জাতির কাছে একমাত্র সংক্রামক ব্যাধি নয়। সারাদেশের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় আছে। সে কারণে সবচেয়ে ভালো সহযোগিতা হয় আপনারা যদি পদত্যাগ করেন।
দলের আন্দোলন সফল করার জন্য নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেন, নেতাকর্মীরা জেলে গেলে অভিভাবক পাওয়া যায় না, আহত হলে নেতারা খোঁজ-খবর নেন না। জেলে গেলে, আহত হলে নেতাকর্মীদের খোঁজ-খবর নেন তাহলে আমাদের আন্দোলন সফল হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ